চারুলতা।।

Words
609
Reading
3 min
Listen
Play
5y

আসসালামু আলাইকুম,
20210710_184050.jpg
https://picsart.com/i/313424188173201
চারুলতা,একটি মেয়ের নাম।
গ্রামের সহজ-সরল চঞ্চল প্রকৃতির একটি মেয়ে চারুলতা। চারুলতার বাবা ছিল খুবই গরীব একজন কৃষক। পাঁচটি মেয়ে এবং চারুলতার মা সহ সংসারে সাত জন সদস্য।
অভাবের সংসার হলেও চারুলতার বাবার খুব ইচ্ছে ছিল।মেয়েগুলোকে পড়ালেখা করে শিক্ষিত করার। চারুলতারও ইচ্ছে ছিলো পড়ালেখা করে সংসারের হাল ধরার।তা আর হয়ে ওঠেনি কারণ বাবার অভাবের সংসার। চারুলতার ছাড়াও আরো চার বোন আছে।

চারুলাতাকে খুব ভালো করে চিনি। খুব নরম মনের আত্মবিশ্বাসী একটি মেয়ে।
গত কদিন হল,চারুলতার সাথে আমার দেখা হয় মার্কেটের একটি দোকানে। আজকাল তাকে দেখে চিনাই যায়না এই সেই চারুলতা।তার পোশাক-আশাক দেখলেও কোনো ধনীর দুলালী চেয়ে কম মনে হয় না। কিছু বছর আগেও তার অবস্থা এরকম ছিল না।এক বেলা খাবারের জন্য অনেক কষ্ট করতে হত।বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের থেকে অনেক কথা শুনতে হতো তাকে।

"বলেনা হাতি খাঁদে পড়লে পিপঁড়েতেও লাথি মাড়ে,,

এর বিপরীত চারুলার ভাগ্যে কিছুই ছিল না। প্রথম জীবন কেটে ছিলো তার অনেক দুঃখে
বাবা,মা,চার বোনের সাথে। পাঁচ বোনের মধ্যে চারুলতা ছিল সবার বড়। বাবার অতি আদরের কন্যা ছিল চারুলতা।আদর করে কতইনা নামে ডাকত চারুলতাকে তার বাবা।

চারুলার সাথে পড়ালেখা করতো পাশের বাড়ির এক ছেলে, নাম তার লিয়াকত। লিয়াকত এর বাড়ি চারুলতার বাড়ির পাশে ছিল বিধায় তার পরিবার ও তাকে ভালভাবে চিনত। সেই সুবাদে তাদের আসা যাওয়া ছিলো অনেক। চরুলতা আর লিয়াকত একই স্কুলের পড়া শেষ করে। একটি কলেজে ভর্তি হয়েছিল।

কলেজে পড়ালেখা মনে হয় চারুলতার কপালে ছিল না। কলেজের প্রথম বর্ষ পার হতে না হতেই তার একটি বিয়ের প্রস্তাব আসে। ছেলে বিদেশে থাকে বাবা-মা শুনে রাজি হয়ে যায় কারণ চারুলতা অন্ততপক্ষে এই শশুর বাড়িতে গেলে তিনবেলা ভাত খেতে এবং সুন্দর ভাবে চলতে পারবে। আর তার বাবা-মা ও সেই বিয়েতে রাজি হয়গেলেন।চারুলতা নিচের কোন কথাই বলতে পারলেন না লিয়াকতকে।কারণ চারুলতা লিয়াকতকে খুব ভালোবাসতো।

নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে বিলাতি ছেলেকে বিয়ে করে নেই। বিয়ের প্রথম সপ্তাহে তার নতুন সংসারে যেন আগুনের ছিটা পড়তে থাকে। কিছু বুঝতে পারছিল না চারুলতা। শাশুড়ি হাজার কথা শুনতে হতো চারুলতাকে। আসলে তার শাশুড়ি চেয়েছিল উনার ছেলেকে তার আপন বোনের মেয়ের সাথে বিয়ে দিবেন। কিন্তু ছেলে বেঁকে বসায় তা আর হয়ে উঠল না। সে কষ্ট সইতে না পেরে তিনি সবসময়ই চারুলতার দোষ খুঁজে বেড়াতেন। আর যখনই কোন দোষ পেতেন ইচ্ছেমতো বকাঝকা করতেন। এভাবে আর বেশিদিন চারুলতা সেখানে টিকে থাকতে পারল না।

বিয়ের দু'মাসের মাথায় তাদের বিয়ে ছাড়িয়ে নেয় ছেলের মা। ছেলের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে চারুলতাকে ডিভোর্স দেয়। কারণ মায়ের কথা তো শুনতেই হবে। এভাবে ভাঙ্গা কপাল নিয়ে চারুলতা বাপের বাড়িতে চলে আসে। কিন্তুু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়। চারুলতা বাড়িতে এসে শুনে তার বাবা দুর্ঘটনা পরে দু' পা হারিয়েছেন।গ্রামের মানুষেরা মুখে মুখে বলতে থাকে আসলে এই ওই চারুলতা বড়ই অলক্ষণে মেয়ে।

কিন্তু চারুলতার, বাবা চারুলতাকে বরই ভালোবাসতেন ,অনেক আদর করেতেন।আর ছেলে মেয়ে বাবা-মার কাছে কখনো অলক্ষী হয়না। সব সময় বাবা-মার কাছে তাদের সন্তানেরা কলিজার টুকরো হয়। সেটা চারুলতার বাবা ভালোই বুঝতে পেরেছেন। তাই চারুলতার বাবা তার ভবিষ্যতের চিন্তা করে চারুলতাকে আরেকটি বিয়ে দিতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু চারুলতা সেটি করতে চাইলেন না। চারুলতা চেয়েছে পড়ালেখা করার জন্য। সে শিক্ষিত হয়ে ভালো একটা চাকরি করবে বাবা-মায়ের সংসারের হাল ধরবে।

চারুলতাকে পড়ালেখা করাতে। চারুলতার বাবার অর্থ ছিলনা। তাই বাবা একটুও অমত প্রকাশ করেছিল। চারুলতা বাবাকে বুঝিয়ে বলে বাবা আমি অন্যের ছেলেমেয়েকে প্রাইভেট পড়িয়ে আমি নিজের পড়ালেখার খরচ চালাবো। চারুলতা পড়ালেখায় অনেক ভাল ছিল। তাই গ্রামের যুবকরা চারুলতার পড়ালেখার করার ব্যাপারে অনেক সহযোগিতা করে।

চারুলতা পড়ালেখা শেষ করেতেই একটা ভালো সরকারি চাকরি পেয়েগেন।তার বেতনের টাকা দিয়ে পঙ্গ বাবার চিকিতসা করছেন। সংসারের হাল ধরেছেন, ছোট বোনদের পড়ালেখা করাছেন। চারুলতা যখন তার শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন।গ্রামের মানুষেরা তাকে অলক্ষণে মেয়ে বলেছিল। সেই গ্রামের মানুষেরা তার পরিচিত আত্মীয়-স্বজনরা সবাই তাকে বলছে চারুলতা আসলে মেয়ে হলেও তার বাবার সংসারে একটা ছেলের ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের সমাজে হাজারো চারুলতার রয়েছে।সমাজের হাজার লাঞ্ছনা- বঞ্চনা সহ্য করে নিজেকে সামাজে দাঁড় করিয়েছেন। চারুলতা প্রমাণ করেছেন মেয়েদের সদিচ্ছা থাকলে সবকিছু পারে।

ধন্যবাদ, এতক্ষণ আমার লেখাটি পড়ার জন্য।

চারুলতা।। | Ecency