একজন বাবার আর্তনাদ,দিনমজুর বাবা কি তার মেয়ের হত্যার বিচার পাবে?

Words
832
Reading
4 min
Listen
Play
5y

আসসালামু আলাইকুম,
20210730_010305.jpg

https://picsart.com/i/190406854003202

সমাজে টাকা-পয়সা এবং ক্ষমতার দাপটে গরিব খেটে-খাওয়া মানুষের সাথে অন্যায় অবিচার করতে দ্বিধাবোধ করে না ক্ষমতাবানরা । আর সমাজে খেটে খাওয়া মানুষগুলো তাদের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে,
আর কত অন্যায় সহ্য করবে খেটে খাওয়া মানুষগুলো আমাদের সমাজের ক্ষমতাবান মানুষদের কাছে থেকে
বলতে পারেন আপনারা?

সেই করম একটি ঘটনা ঘটেছে রফিকুল মিয়া ও তার মেয়ে রাবেয়ার সাথে।
রফিকুল মিয়া মেয়ে রাবেয়া,রাবেয়া ছোটবেলাই মমতাময়ী মা পৃথিবী থেকে চলে গেছে, রাবেয়া এবং তার ছোট দুই ভাইদের রেখে, সেই থেকে দিনমজুর রফিকুল মিয়া তাদের লালন-পালন করতে থাকে, দিনমজুর বাবা কখনো রাবেয়া এবং ছেলেদের মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। সারাদিন পরিশ্রম করে এসে আবার ছেলে-মেয়ের দেখভাল করতেন রফিকুল মিয়া।

রফিকুল মিয়ার সন্তানদের মধ্যে রাবেয়া ছিল খুব আদরের একমাত্র মেয়ে, আর এমনিতেও বাবারা মেয়েদের খুব পছন্দ করে থাকে। তবে দুই ছেলেকে অনেক ভালোবাসে রফিক মিয়া,রাবিয়া স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। রাবেয়া কিন্তু পড়ালেখা অনেক ভাল ছিল,তাই দিনমজুর বাবা সংসারে টানাপোড়নের মধ্যেও মেয়েকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

রাবেয়াকে কলেজে ভর্তি করাতে রফিক মিয়ার অনেক সমস্যা হয়েছিল, কারণ কলেজে ভর্তি হতে অনেক টাকা লাগে।তাই রফিক মিয়া দিনরাত পরিশ্রম করে মেয়ের জন্য টাকা জোগাড় করে কলেজে ভর্তি করায়। রাবেয়া কলেজে যাওয়া আসা করে কলেজের শিক্ষকরাও খুবই পছন্দ করে রাবেয়াকে।

রাবেয়া ছিল চঞ্চল প্রকৃতির সহজ সরল একটি মেয়ে,রাবেয়া ছিল খুবই সুন্দরী ।কেউ বুঝতে পারবেনা রাবেয়াকে দেখে সে দিনমজুরের মেয়ে,তার পোশাক-আশাক দেখে লাগে এক ধনীর ঘরের মেয়ে।
রাবেয়ার বাবা সবসময় রাবেয়াকে রানীর মত করে রাখত কারণ তার একমাত্র মেয়ে।

ভালোই দিন কাটছিল রাবেয়ার কলেজের বান্ধবীদের সাথে ক্লাস করে,এদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাড়িতে ফিরে।
কিন্তুু রাবেয়ার আনন্দ বেশি দিন উপরওয়ালা মনে হয় পছন্দ করে নি। রাবেয়া যেহেতু অনেক সুন্দরী কলেজে অনেক ছেলেরা রাবেয়া কে পছন্দ করত, তার মধ্যে একটি ছেলে ছিল তাদের গ্রামের মোড়লের ছেলে। গ্রামের মোড়লের ছেলে সবাই তাকে সম্মান করতো, তাই এই সুযোগ নিয়ে রাবেয়াকে প্রতিনিয়ত মোড়লের ছেলে বিরক্ত করতো।

কিন্তুু কারো সাহস ছিলনা গ্রামের মোড়লের ছেলের বিপক্ষে কথা বলার ,তাই রাবেয়াকে সবার সামনে বিরক্ত করতো কিন্তু গ্রামের মানুষ প্রতিবাদ করতে পারত না। গ্রামের মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ তারা যদি প্রতিবাদ করে তাহলে তাদের কাজ বন্ধ করে দিবে মোড়ল। তাই সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করত সবাই কিন্তু রাবেয়া ছিল একটু অন্য রকম মেয়ে।

রাবেয়া সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করত, রাবেয়া কে বিরক্ত করতো তাই রাবেয়া সবার সহযোগিতা চেয়েছে। তখন কেউ তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি, তার বাবা তাকে সহযোগিতা করতে পারছে না কারণ তার বাবাকে মোড়লে ভয় দেখিয়ে রেখেছে। রফিক মিয়া তোর মেয়েকে পড়ালেখা করানোর দরকার নাই, ঘরে বসিয়ে রাখ তাহলে আমার ছেলে বিরক্ত করবে না।

তখন রফিক মিয়া মোড়লের কথায় রাজি হয়ে যায়,তার মেয়েকে বলে আজ থেকে রাবেয়া তুমি কলেজে যেও না। তখন রাবেয়া বলে কেন বাবা আমি কলেজে পড়ালেখা করলে তোমার সমস্যা কি?আর তুমি তো চেয়েছিলে আমি পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হতে। আর এখন কেন এমন কথা বলছো?

তখন রাবেয়ার বাবা রাবেয়াকে বলে মারে আমরা গরিব মানুষ আমাদের এত পড়ালেখা দরকার নাই,মোড়লের ছেলে তোকে যে কোন সময়, যে কোন কিছু করে ফেলতে পারে।তুই ঘরে থাক তোর ছোট ভাইদের পড়ালেখা করা আর কিছু লাগবে না। কিন্তু রাবেয়া খুব জেদি মেয়ে রাবেয়া বলে আমি পড়ালেখা করবো, মোড়লের ছেলে আমাকে কি করবে আমি দেখবো।

রাবেয়া প্রতিদিন কলেজে যায় আসে,প্রতিদিনের মতো কিন্তু আজকে রাবেয়ার ভাগ্যের যেন অন্যটি রয়েছে। কারণ রাবেয়া মোড়লে ছেলেকে অপমান করায়, মোড়লের ছেলে রাবেয়ার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাস্তায় উৎপেতে আছে। রাবেয়া কলেজ শেষ করে যখন বাড়িতে ফিরছিল নির্জন রাস্তায় দিয়ে রাবেয়াকে মোড়লের ছেলে সুমন এবং তার বন্ধুরা ঘিরে ধরে। রাবেয়া তাদের হাত থেকে কোনো রকমে পালিয়ে বেঁচে বাড়িতে ফিরে আসে।

তারপর কিছু দিনমজুর এবং তার বাবাকে নিয়ে মোড়লের কাছে নালিশ নিয়ে যাই,মোড়ল নালিশের বিচার করবে তো দূরের কথা উল্টো রাবেয়ার পড়ালেখা বন্ধ করিয়ে দেয়। রাবেয়া একমাস ঘর বন্দি ছিল, ঘরে থাকতে থাকতে রাবেয়া বিরক্ত হয়ে যায়।একদিন রাবেয়ার বান্ধবী এসে তার বাবাকে বিয়ের দাওয়াত দিয়ে যায়,আর রাবেয়াকে নিয়ে বিয়েতে যাবে একথা বাবাকে জানাই। তখন তার বাবা রাজি হয় বিয়েতে তাদের সাথে রাবেয়া যাওয়ার জন্য।

তার বাবা মোটেও একা ছাড়তে রাজি নয় মেয়েকে, তাই রাবেয়ার ভাইকে রাবেয়ার সাথে পাঠায় বিয়েতে যাওয়ার জন্য,রাবেয়া খুব আনন্দ ফুর্তি করছিল বান্ধবীর বিয়েতে। তাই বোনকে অনেকদিন পর আনন্দ ফুর্তি করছে দেখে, বোনকে বান্ধবীর বিয়েতে রেখে চলে যায়।আর যাওয়ার আগে রাবেয়াকে বলে যায় অনুষ্ঠান শেষ হলে আমাকে কল দিবে,তখন রাবেয়া তার ভাইকে বলে আচ্ছা ঠিক আছে,তোকে আমি কল দিব অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়িতে আসার আগে।

তাই রাবেয়ার ভাই নিশ্চিন্তে ঘরে বসে আছে,কিন্তু দিনমজুর রফিক মিয়া তার মেয়ের চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েছে, কিছুক্ষণ পরপর ছেলেকে বলছে রাবেয়াকে নিয়ে আয়। তখন রাবেয়ার ভাই বলে বাবা তুমি চিন্তা করছো কেনো?
আপু বলেছে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বের হলে আমাকে ফোন দিবে, কিন্তু ছেলের কথা মানতে নারাজ বারবার বলছে তুই রাবেয়াকে নিয়ে আয়। আমার কেন যেন খারাপ লাগছে আমি বুঝতে পারছি না,তুই রাবেয়াকে নিয়ে আয়।

রাবেয়ার ভাই এক পর্যায়ে তার বাবার কথা শুনে ঘর থেকে বের হয়, রাবেয়ার বান্ধবীর বাড়ির পথ ধরে হাঁট ছিল, হঠাৎ দেখে রাবেয়ার সাথে থাকা দুই বান্ধবী খুব ভয় পেয়ে দৌড়াচ্ছিল একসময় রাবেয়ার ভাইয়ের সামনে এসে পড়ল।

রাবেয়ার ভাই বোনের বান্ধবীদের দেখে খুব ভয় পেয়ে যাই,তার বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করে আপু তোমরা এসেছ আমার আপু কোথায়? তখন তার বান্ধবীরা বলতে লাগল মোড়লের ছেলে সুমন রাবেয়াকে রাস্তায় আটক করে রেখেছে তুই চল তাড়াতাড়ি রাবেয়াকে বাঁচাতে হবে, নাহলে রাবেয়াকে সুমন মেরে ফেলবে।

শেষ পর্বটি পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।।

একজন বাবার আর্তনাদ,দিনমজুর বাবা কি তার মেয়ের হত্যার বিচার পাবে? | Ecency