আমার ছেলেকে নিয়ে আমার সারাদিনের কার্য লিপি।

Words
750
Reading
4 min
Listen
Play
5y

আসালামুআলাইকুম,

একটি মা হচ্ছেন একজন সম্পূর্ণা নারী, যে মা সন্তানকে গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম,লালন পালন তথা সন্তানকে বড় করা নিয়ে সবকিছু যেন মায়ে বড় ভূমিকা রয়েছে।

আমার ছেলের নাম ওসমান,বসয়স মাত্র 6 মাস।আমার ছেলের জন্ম হওয়ার পর থেকে আমার চলাফেরা খাওয়া-দাওয়া এখন কোন টাইমটেবিল নাই। কারণ সারাদিন আমার ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এছাড়াও আমার সংসারের কাজ নিয়ে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে আমার সংসার কাজ থেকেও আমি আমার সন্তানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।কারণ আমি ছাড়া আমার সন্তানের দেখভাল করার জন্য কোনো মানুষ নেই। তাই আমার সন্তানের পিছনে আমার প্রতিটা দিনের অর্ধেকটা সময় দিতে হয়।

আমার ছেলে কারো কাছে যেতে চায় না শুধু কান্নাকাটি করে।সারাদিন আমার কাছে থাকাতে জন্য চাই।ওকে নিয়ে যতক্ষণ পারি কাজ করি। ওকে যখন ঘুম পাড়ায় তখন সংসারের কাজ আমি সম্পূর্ণ শেষ করতে চেষ্টা করি।

তবে তা আর হয়ে ওঠে না কারণ ওসমান কিছুক্ষণ পরপর ঘুম থেকে জেগে উঠে। আমার ছেলেকে রাখার মতো কেউ নেই কারণ আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছে। তো আমাকে আমার সংসারের কাজ এবং আমার ছেলে মেয়েকে দেখাশোনা সবসময় আমাকে একা করতে হয়।

আমি চাইলে একটা মানুষ রাখতে পারি।আমার ছেলেকে দেখার জন্য কিন্তু আমি তা করতে চায় না। কারণ আমি ছেলে মেয়েকে কষ্ট করে নিজেই লালন-পালন করতে খুব পছন্দ করি। একটা কথা সত্যি মায়ের মতো পৃথিবীতে কেউ আদর, যত্নে,ভালোবাসা করবে না। তাই আমি আমার নিজের সন্তানকে নিজেই লালন-পালনের চেষ্টা করি এবং করছি ।

আমার ছেলে মেয়ের জন্য আমি সারাদিন পরিশ্রম করলেও আমার সময়টা খুব আনন্দের যায়। সত্যি কথা কি জানেন? মায়ের হাজার কষ্ট হলেও সন্তানকে লালন-পালন করতে কোনো কষ্ট হয় না।এটা যেন একটা আলাদা আনন্দ এই আনন্দ কাউকে বোঝানো যাবে না।

আমি চাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার জন্য । কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না। কারণ আমার ছেলে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে ও ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় রাত দুইটা তিনটা এরকম হয়ে যায় ও খুবই কম ঘুমায় রাতে। আমিও আমার ছেলের সাথে জেগে থাকতে হয় রাতের বেলা।আমার ছেলে জন্ম হওয়ার পর থেকে বলতে পারব না ভালো করে একটি রাত ঘুমাতে পেরেছি।

অনেক দেরি করে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠি। ঘুম থেকে উঠতে নয়টা বেজে যায়।প্রথমে ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তা করে। আবার দুপুরের জন্য রান্নাবান্না তৈরি করতে হয়। এরকমও সময় যায় আমার দুপুরের খাবার বিকাল চারটার সময় খেয়েতে হয়।কারণ কিছুক্ষণ রান্নাবান্না করি আবার আমার ছেলে কান্নাকাটি করলে ওকে নিয়ে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করি। এভাবে আমার সময় খুব দ্রুতই চলে যায় সেটা টেরই পাই না ।
20210714_215224.jpg

তবে আমি প্রতিটি মুহূর্তে চেষ্টা করি। আমার ছেলে মেয়েকে বাবার অভাবটা যেন বুঝতে না পারে। সব সময় এই চিন্তাটা মাথায় রেখে ওদেরকে দেখভাল করে থাকি।
এরই ফাঁকে আমি কিছু লেখালেখি করি। আমার কাছে লেখালেখি করতে ভালো লাগে।

জানেন আমার ছেলেটি একটু একটু বসতে পারে প্রচন্ড রকমের দুষ্টুমি করে। ওর সাথে সারাদিন আমার অসাধারণ আনন্দে দিনটা কাটে। যখন আমি মোবাইল নিয়ে কোন কিছু মোবাইলে দেখি। তখন আমার কাছে এসে আমার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখে আমি দেখছি।

ওসমান বাবাকে ডাকতে পারে। তবে বাবা ডাকতে পারে না।
বাব্বা বাব্বা বলে ডাকে আমার কাছে ওর এই ডাকটি খুব ভালো লাগে। আমি ওর বাব্বা ডাকটা শোনার জন্য মোবাইল ওর হাতের সামনে দিয়ে রাখি। ও জানে ওর বাবার মোবাইলে কথা বলে তাই মোবাইলটা দেখলে বাব্বা বাব্বা বলে ডাকে। তখন আমার খুব ভালো লাগে। কারণ বাচ্চাদের আদু আদু ভাষা গুলো খুব ভালো লাগে। আমার না প্রতিটা মানুষের এইরকমই ভালো লাগে।

ওসমান খুব প্রচন্ড রকমের জিদ দেখায়। যখন কেউ ওর ফিডারে হাত দেয় তখন প্রচন্ড রকমের কান্নাকাটি করে কারণ ও খুব পছন্দ করে ওর ফিডারটা। যতক্ষণ সজাগ থাকে ফিডারটা তার হাতে থাকে । ওর ফিডার ধরলে ও যখন কান্নাকাটি করে তো আমি ওর হাত থেকে ফিডারটা নেওয়ার সবসময় চেষ্টা করি।কিন্তু ঐটার দিতে চায় না প্রচন্ড কান্নাকাটি করে।
20210714_215348.jpg
আবার অনেক সময় ফিটার আমার হাত থেকে নিতে না পারলে। কামড় দিতে আসে ভাগ্যিস ওর দাঁত এখনো উঠে নাই।তা না তাহলে এতদিনে অনেকগুলো কামড় খেতে হতো। আমার ছেলের একটা চশমা আছে চশমাটা যখন ওর চোখে দেই মুড যেন অন্যরকম হয়ে যায়।

চশমাটা পরে আয়নার সামনে নিজের চেহারাটা দেখতে খুব পছন্দ করে।ও হাঁটতে পারে না ওকে কোলে নিয়ে যখন আয়নার সামনে দাঁড়ায় তখন অনেক খুশি হয়ে যায়। একবার আয়নার দিকে তাকায়।আবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসে খুব ভালো লাগে তখন।
20210404_191301.jpgতবে আমার মত প্রতিটি মা তার সন্তানের হাশি খুশি চেহারাটা সব সময় দেখতে চাই। হাজার কষ্ট, হাজার দুঃখ, থাকলেও মা সবসময় চায় তার ছেলেমেয়ে যেন ভালো থাকে সুস্থ থাকে সুন্দর থাকে।
20210714_215328.jpg

একটা মা তার সন্তানদের জন্য তার পুরোটা জীবন বিসর্জন দিয়ে দেয়। মা একসময় নিজের শরীরের,নিজের প্রতি যত্ন নিত সেটাও ভুলে যায়। এই সন্তানদের সেবা যত্ন করতে করতে। তখন মায়ের একটাই চিন্তা মাথায় থাকে ছেলে আমার মেয়ের সেবা-যত্ন আগে তারপর হচ্ছে আমার নিজের।

প্রতিটা মাকে আমার মনের গভীর থেকে শ্রদ্ধা জানাই।

ধন্যবাদ, আমার লেখা টি এতক্ষণ পড়ার জন্য। সবাই ভাল থাকবেন নিরাপদে থাকবেন।

আমার ছেলেকে নিয়ে আমার সারাদিনের কার্য লিপি। | Ecency