ঈদের দ্বিতীয় দিন বাচ্চাদের নিয়ে, আনন্দ ভ্রমণ আর কিছু ফটোগ্রাফি।

Words
546
Reading
3 min
Listen
Play
5y

আসালামুআলাইকুম,
20210723_030441.jpg

ঈদ যেন প্রতিটা মানুষের জীবনে আনন্দের দিন,ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আমরা প্রতিটা মানুষ চাই।ঈদের আনন্দ সবার সাথে আমরা ভাগাভাগি করে নিতে চাই। ঈদের আনন্দটা আমরা বড় হয়ে গেছি আমরা কমই উপভোগ করি, কিন্তু বাচ্চারা এই দিনটাকে অনেক স্পেশাল মনে করে থাকে।

তাই আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরে গেলাম,আমি সচরাচর ঘর থেকে কম বের হই। তবে আমার বাচ্চারা অনেক মানুষকে ঘুরতে বেরিয়েছে দেখে, আমার কাছে বায়না ধরেছে কোথাও ঘুরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। কোথায় ঘুরাতে নিয়ে যাব?
দেশের পরিস্থিতি ভালো না,চারিদিকে করোনা যেন দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে।

আমাদের সীতাকুন্ড যে বিনোদনের জায়গা গুলো আছে, সেখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে মানুষ এসেছে ঘুরতে । তাই আমি চিন্তা করলাম যেই বিনোদনের জায়গা গুলো আছে সীতাকুণ্ডে, সেই জায়গাগুলোতে আমি এবং আমার বাচ্চাদের না যাওয়াটাই আমাদের জন্য মঙ্গল জনক।

কিন্তুু বাচ্চারা ওই বিনোদনের জায়গা গুলোতে যেতে বায়না ধরেছে। তবে আমি আমার বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে হবে, সবসময় তাদের কথাই সাঁই দেওয়া যায় না,কিছু ক্ষেত্রে মা হিসেবে সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিজের কথাও কেউ মূল্য দিতে হয়।

তাই আমি বাচ্চাদের বললাম আমি যে জায়গায় নিয়ে যাব, সেখানে তোমাদের যেতে হবে।তোমাদের কথা কোনো কাজ হবে না। তোমাদের ভালো লাগার জন্য , তোমাদের কথা সব সময় মূল্যান করা যাবে না।তোমাদের নিয়ে আনন্দ ভ্রমণ করব,পরে কান্নাই এই ভ্রমণের রুপ নিবে এটা আমি চাই না কখনো।

তাই আমি তাদেরকে আমার পছন্দের জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গেলাম। আমি যে জায়গাটায় ঘুরতে নিয়ে গেছি আমার বাচ্চাদের,সে জায়গাটা আমাদের সীতাকুন্ড পাহাড়ি এলাকা এবং ট্রেনের লাইনের পাশে। ঐ জায়গায় কোনো মানুষ নেই, তবে আমাদের মত কিছু মানুষ ট্রেন রাস্তায় এসেছি ঘুরতে এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য।
20210723_030523.jpg

ঘুরতে আসার আগে বাচ্চারা খুব মন খারাপ করেছিল, কোন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছ।
কোন গাড়িতে চড়তে পারছিনা?
পায়ে হেঁটে যাওয়া লাগছে, তখন মনে মনে আমি একটু বিরক্ত হচ্ছিলাম বাচ্চাদের কথাগুলো শুনে,কারণ তারা বুঝতে পারছে না আসলে দেশের পরিস্থিতিতে এখন কি অবস্থায় আছে।

তখন তাদেরকে বুঝিয়ে বললাম দেখো বাবা,এইসব জায়গায় গাড়ি দিয়ে যাওয়া লাগে না।তবে গাড়ি দিয়ে যেই জায়গাগুলোতে যাবে,তার থেকে অসাধারণ সুন্দর এই জায়গা গুলো। এখানে নেই কোন কোলাহল তোমরা যে জায়গাগুলো পছন্দ করো সেই জায়গাগুলোতে রয়েছে মানুষের ভিড়ে।এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যেগুলো তোমরা ওই জায়গাগুলোতে দেখতে পাবে না,তা এইখানে তা দেখতে পাবে।

তখন বাচ্চাদের মনে আগ্রহ জাগে আমমু মনে হয় অনেক সুন্দর জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে। যখন আমি পাহাড়ের সামনে ট্রেন রাস্তাটি দেখালাম,তখন আমার বাচ্চারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছে,কারণ আমার বাচ্চারা এই প্রাকৃতিক দৃশ্য খুব কমই দেখে, সারাদিন ঘরের ভিতরে থাকে তাই এগুলো তাদের দেখা হয় না।
20210723_021906.jpg
আমার মেয়ে ট্রেন রাস্তায় পাথর গুলো নিয়ে অনেক খেলা-ধুলা করেছে, ট্রেন রাস্তার পাশে ছোট ঘাসফুলগুলো অনেক পছন্দ করেছে আমার মেয়ে,তাই ও কিছু ঘাসফুল ছিঁড়ে নিয়ে এসেছে বাসায়।

আসলে কি জানেন টাকা খরচ করে যে বিনোদনের জায়গা গুলোতে যেতে চাই,সেই জায়গাগুলো থেকে বাড়ির পাশে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গাগুলোতে যেতে আমার খুব ভালো লাগে।আমার ভালো লাগা গুলো আমার ছেলেমেয়ে মূল্যায়ন করেছে, কারন তাদের খুব ভালো লেগেছে।

আমি চেষ্টা করি বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ কতে,ভ্রম করলে মেধা শক্তি বৃদ্ধি ঘটায়,আমরা সবাই জানি। এই করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রমণ করা বা আনন্দ করা সম্ভব নয় বাচ্চাদের নিয়ে।তাই আমি তাদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছি পাহাড়ি এলাকা,ট্রেন রাস্তা দেখাতে।আমার বাচ্চারা এই ভ্রমন সারা জীবন মনে রাখবে কারণ এরকম সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই কম দেখেছে।

সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার আগে আমরা ঘরে ফিরে এসেছি, আসার আগে চটপটি, ফুচকা খেয়েছি তবে খুব আনন্দ করেছি।

ঘোরাঘুরি করতে করতে কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তুলেছি, তা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
20210723_021929.jpg

20210621_114420.jpg

20210723_024408.jpg
ধন্যবাদ। এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার পোষ্টটি পড়ার জন্য।
সবাইকে ঈদ মোবারক।

ঈদের দ্বিতীয় দিন বাচ্চাদের নিয়ে, আনন্দ ভ্রমণ আর কিছু ফটোগ্রাফি। | Ecency