আসালামুআলাইকুম,
ছোট থেকে চট্টগ্রামে থাকতাম।দাদার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাতায়াত করতাম সব সময় চট্টগ্রাম-ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডাইরেক বাস দিয়ে।
গত কয়দিন ধরে শুনতে পাচ্ছি মানুষের মুখে পুরো দেশে লকডাউন দিবে।তাই অনেক চিন্তায় পরে গেলাম।কিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামে যাবো সত্যি যদি লকডাউন দিয়ে দেয়। বাসে আসা যাওয়া খুব নিরাপদ মনে করি আমি।কারণ হাসবেন্ড অথবা কোনো পুরুষ মানুষ আমার সাথে না থাকাই।আমার শশুর বাড়ির থেকে ডাইরেক গাড়ি দিয়ে আমার বাবার বাড়িতে আসি।আসার যাওয়ার পথে কোনো জায়গায় গাড়ি থামে না।তবে কিছু সময়ের জন্য নাস্তা-পানি করার জন্য রেস্টুরেন্টে থামে।তখন মন চাইলে গাড়ি থেকে নামি নাহলে গাড়ি ভিতরে বসে থাকি।আমার সাথে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকলে গাড়ি থেকে প্রয়োজন ছাড়া নামি না।আমি একটু বেশি ভয় পাই একা বাচ্চাদের নিয়ে গাড়ি থেকে নামতে।
শুনেছি সোমবারে পুরো দেশে লকডাউন দিবে।তাই গত শনিবারে বাবার বাড়ি থেকে বের হলাম চট্টগ্রামে উদ্দেশ্যে। কিন্তুু রাস্তায় গাড়ির বিড়ম্বনা চট্টগ্রামের সব বাস যেনো যাএী তে ঠাসা।আমার মত সবাই যেনো তাদের নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে চাই। চট্টগ্রামে যাওয়া জন্য দুপুর দেড়টা পযর্ন্ত অপেক্ষা করেছি,চট্টগ্রামের কোনো বাস পাইনি।
একজন মুরুব্বী,এসে বলে মা আজকে আর চট্টগ্রামের বাস পাবে না।তুমি একটা কাজ করো ট্রেনে করে চলে যাও।
আমি মুরুব্বী কথা শুনে চিন্তা করলাম,বাসে এতো যাএী হলে ট্রেনে হয়ত কম যাএী হতে পারে।আমার মেয়ে বলে আমমু আমি কখনো ট্রেন দিয়ে কোথাও যায় নিই।চলনা আজকে দাদার বাড়িতে ট্রেনে যায়।তখন আমি ভাবলাম ট্রেন ইস্টেশন বাস ইস্টেশন থেকে বেশি দূরে না।দেখি ট্রেনে যে পারি কিনা?
তাই একটা রিক্সা নিয়ে চল আসলাম ট্রেন ইস্টেশন এসে শুনি চট্টগ্রামের যাওয়ার মাএ একটা ট্রেন আছে বিকাল 3-30 তখন বুঝতে পেরেছি চট্টগ্রামে যেতে রাত 10-টা বাজবে।
তারপরও একটাই চিন্তা ছিলো,আমার যে ভাবে হোক চট্টগ্রাম যেতে হবে।তাই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করলাম।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমার ছেলে গরমে জন্য খুব কান্না শুরু করে দেয়।তখন ছেলেকে নিয়ে কসবা ট্রেন ইস্টেশন ঘুরে লাম।
তারপর সবাই বলছে টিকিট কাটতে হবে ট্রেন চলে আসছে।আমি জানিনা টিকিট কোথায় কাটতে হয়।তবে অনেক মানুষ দেখছি টিকিট কাটছে আমি ও ঐ টিকিট কাউণ্টার থেকে টিকিট কাটলাম দুইটা।
আর ভাগ্যটা এতো ভালো টিকিট পেয়েছি দুইটা বসার টিকিট না দাড়িয়ে যাওয়ার টিকিট😔😔। মেজাজটা খুব খারাপ লাগছিলো,এতোটা পথ কিভাবে ছোট বাচ্চাদের দাড়িয়ে নিয়ে যাবো।তখন অনেকে বলছে কুমিল্লা ইস্টেশন এলে বসতে পারবো।আমি বারবার মনে মনে বলছি বসতে না পারলেও আজকের মধ্যে চট্টগ্রাম যেতে হবে।রবিবারে আরো ঝামেলা থাকবে।যেহেতু সোমবার সারা দেশ জুড়ে লকডাউন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর চট্টগ্রামের ট্রেন নাসিরাবাদ আসলো।কিন্তুু ট্রেনে প্রচণ্ড ঝামেলা ছিলো।ট্রেনে উঠার মত জায়গা ছিলোনা।অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠলাম।বসার কোনো জায়গা নেই তাই দাড়িয়ে ছিলাম আমার বাচ্চাদের নিয়ে।তখন নিজকে অনেক অসহায় লাগছিলো কারণ এমন পরিস্থিতিতে আমি কখনো পরি নিই।
তারপরও ভালো লাগছিলো ট্রেনে, কিন্তুু খারাপটা হয় তখন,যখন আমার ছেলের গরম লাগছিলো।আমার ছেলে গরম মনে হয় একেবারে পছন্দ করে না।গরম লাগলে খুব কান্না করে।গরমে আমার ছেলে খুব কান্না করছিলো।ওর কান্না কিছুতে থামাতে পারছিলাম না।তারপর কুমিল্লায় এসে ট্রেনের সিটে বসে, চট্টগ্রাম এসে পৌছাম প্রায় দশটার কাছাকাছি।
ঘরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে টিভি অন করে সংবাদে দেখি।সংবাদে শুনি সোমবারে লকডাউন না আগামী বৃহস্পতিবার।
তখন বলে কেমন লাগে?নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছিল।
আমি আসলে একটু বেশি বুঝি,আর একদিন অপেক্ষা করলে এতো কষ্ট করতে হতো না।
আর করোনা ভাইরাসে জন্য সরকার এতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তুু আমরা জনগণ কতটা মানছি।
ট্রেনের সিট খালি নাই,বাসের সিট খালি নাই।
সবাই চিন্তা করি করোনা ভাইরাস পরে,আগে আমাদের বাড়ি ফিরা।
তবে ট্রেনে চড়া গতকালকে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে।
আমার মেয়েও তেমনি,আমার মেয়ে বলে আর কখনও ট্রেনে উঠবো না।
ট্রেন চড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা।আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করলাম।
ধন্যবাদ।