আসসালামুআলাইকুম,
https://unsplash.com/t
আলী আজগর ভাই তার বউয়ের কথা শুনে প্রথমে রেগে যায়।তখন তিনি তার বউকে বলেন আমার মা আমাকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছে,ছোটবেলায় বাবা মারা গিয়েছে সেই মায়ের সাথে আমি এরকমটা করতে পারবোনা। আলি আজগর ভাইয়ের একথা শুনে তার বউ অনেক রাগান্বিত হয়েছিল, তার সাথে এক সপ্তাহের মতো কথা বলে নি।
আবার আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়। এরইমধ্যে আলী আজগর ভাই প্রবাসে দুই বছর থেকে আবার দেশে আসে।আসার পর আলি আজগর ভাইকে সংসারে এবং মায়ের বিভিন্ন ঝামেলা তার বউ তাকে দেখাতে থাকে, তখন আলী আজগর ভাইয়ের মনে আস্তে আস্তে তার মায়ের প্রতি ভাই-বোনদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হতে থাকে। তখন তার বউ বুঝাতে থাকে প্রবাস থেকে শুধু সংসারের টাকা ওদের কাছে দিবে। আর বাকি টাকা আমার ব্যাংকে রাখবে তাহলে তোমার এবং আমার সন্তানদের একটা ভবিষ্যৎ হবে না হলে হবে না।
আলি আজগর ভাই সহজ-সরল তাই তিনি তার বউয়ের কথায় রাজি হয়ে যায়, এরই মধ্যে আলী আজগর ভাই প্রবাসে আবার চলে যায়। প্রবাসে গিয়ে তার বউয়ের কথা মত মায়ের কাছে শুধু সংসারের টাকাটি দিত,আর বাকি টাকা তার বউয়ের ব্যাংকে পাঠাত। আলী আজগর ভাই ভালো বেতন পেতো সংসারের জন্য শুধু মাএ 15 হাজার টাকা দিতো। আর 15 হাজার টাকা দিয়ে তার মায়ের পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব ছিলনা।কারণ তার একটি ভাই তার মা তার বউ এবং তার দুই সন্তানের খরচ চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হতো তার মায়ের।
সেই কথাটা আলি আজগর ভাইয়ের মা তাকে অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু আলী আজগর ভাই তার বউয়ের কানপড়া শুনে মায়ের কথা শুনতে রাজি নয়। এইটাই ছিল যেন আলি আজগর ভাইয়ের সবচেয়ে বড় ভুল কারন নিজের রক্ত নিজের জন্মদাত্রী মা কখনো সন্তানের ক্ষতি চায় না, সন্তানের সব সময় ভালো চাই। জানিনা কেন আলী আজগর ভাই তার মায়ের কথা শুনে নিই। তখন যদি তার মায়ের কথা শুনতো তাহলে আলি আজগর ভাইয়ের এমন কষ্ট পেতে হতো না।
আসলে কি জানেন?প্রবাসীরা মানুষকে খুব সহজে বিশ্বাস করে, তাইতো প্রবাসীদের এত কষ্ট পেতে হয়।আলী আজগর ভাই তার বউকে অনেক বিশ্বাস করত, তাই তিনি তার বউয়ের ব্যাংকে তার কষ্টে উপার্জিত টাকা সব সময় পাঠাতো। আর সবসময় এটাই চিন্তা করত যে কখনো যদি প্রবাস থেকে চলে আসে তাহলে তার কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে পারবে। আলী আজগর ভাইয়ের স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেল স্বপ্নটা আর কখনো সত্যি হল না।
কারণ আলী আজগর ভাই প্রবাসে যাওয়ার পরে তার সহধর্মিণী পাশের গ্রামের এক যুবকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক হয়ে যায়। ওই ছেলেটি আলি আজগর ভাইয়ের ভাতিজা হয়। সেই ভাতিজা আলী আজগর ভাইয়ের টাকার লোভে তার বউয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। গ্রামের প্রতিটা মানুষ তাদের এই অবৈধ সম্পর্কটার ব্যাপারে জানতো।আলি আজগার ভাই অনেক শুনেছে,আলি আজগর ভাই তার বউকে অনেকবার প্রশ্ন করেছে ওই ছেলেটির সাথে কোন সম্পর্ক আছে কি না? কিন্তু তার বউ বারেবারে আলি আজগর ভাইকে মিথ্যা কথা বলেছে না কোন সম্পর্ক নেই।
অনেক বিশ্বাস করতেন অনেক ভালোবাসতেন তাই তো তার বউয়ের কথা শুনে বিশ্বাস করেছিলেন। আসলে তার বউ এমনটা করতে পারেন না কিন্তু তার বিশ্বাসটা তার বউ টিকিয়ে রাখতে পারেনি। একদিন সকালবেলা আলি আজগর ভাইয়ের মোবাইলে ফোন আসে দেশ থেকে।আলী আজগর ভাই তখনো ঘুমে ছিলেন, ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ফোনটা ধরে এবং মোবাইলের ওপাশ থেকে কেউ একজন যেন বলল আলী আজগর গ্রামে ওই যুবকের সাথে তর বউ পালিয়ে গিয়েছে তোর বাচ্চাদের ফেলে।
তখন তার মাথায় যেন বাজ পড়ে এ কথা শুনে,সাথে সাথে আলী আজগর ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,তার সাথে থাকা রুমমেট গুলো অনেক চেষ্টা পরে আলী আজগর ভাইয়ের জ্ঞান ফিরিয়ে আসে। জ্ঞান ফিরে আসার পর আলী আজগর ভাই শুধু একটা কথায় বলেছে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে কারণ আলী আজগর ভাই তার বউ এর ব্যাংকে পাঁচ বছরে প্রায় এক কোটি টাকার মতো জমা করেছিলেন। সে টাকা নিয়ে তার বউ পালিয়ে গেছে সেটা তিনি ভালো করেই জানতেন।
পরে খবর নিয়ে দেখে ঠিকই তার সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।তার নিষ্পাপ দুটি সন্তান তাদের দাদীর কাছে ফেলে গেছে। আসলে প্রবাসীরা খুব সহজে মানুষকে বিশ্বাস করে তাই খুব সহজে কষ্ট পেতে হয়।আলী আজগর ভাই এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এখন প্রায় পাগল মত হয়ে আছে তার সন্তানদের দেখা-শুনা তার মা করছে।
এমন মর্মাহত কাহিনীগুলো অহরহ আমাদের চোখে পড়ে। আসলে একজন প্রবাসীর সর্বস্ব কেরে নিতে তার আপনজনেরাই যথেষ্ট। আলী আজগর ভাইয়ের মতো যেন কোন প্রবাসী এমন প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার না হয় সেদিকে আমাদের সবার খেয়াল রাখতে হবে।
ধন্যবাদ, এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।