https://support.google.com/legal/answer/3463239?hl=en-GB
রাগের কারনেই কোনো ভালো জিনিস ও খারাপে পরিণত হয়।
অতিরিক্ত রাগ আকস্মিক বিপদ ডেকে আনে।
কোনো কিছু নিয়ে অহংকার করলে তা পতন ঘটে।
তাই অহংকার করা ঠিক না।
এক কৃষকের একটি কালো ষাঁড় ছিলো।কালো ষাঁড়টি বেশ মোটাসোটা ছিলো।
ষাঁড়টির প্রচণ্ড রাগ তার সাথে ছিলো অহংকার।
ষাঁড়টির যে জায়গায় থাকত তার পাশেই ছিলো দেয়াল।ঐ দেয়ালের ফাটলে একটা পুঁচকে ইঁদুর থাকত।
এই পুঁচকে ইঁদুর ছোট বলে। ষাঁড় সময় অহংকার করত।তার শরীর আর শিং নিয়ে।
ষাঁড়ের শিং দিয়ে সব কিছু ভেঙ্গে দিত।পুঁচকে ইদুরকে সে পাততা দিত না।
একদিন ষাঁড়টি ভরপেট তাজা ঘাস খেয়ে গাছের ছায়ায় বিভোর হয়ে ঘুমিয়ে ছিল।পেট ভরা থাকলে ঘুমটাও বেশ ভালো হয়।
তাই একেবারে নাক ডাকিয়ে ঘুমাচছিল সে।তার নাক ডাকার শব্দ আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল।কাছাকাছি একটা বাড়ির দেয়ালের ফাটলে বাস করতো এক পুঁচকে ইদুর।নাক ডাকার শব্দে বার বার কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছিল তার।
ফাটলের কাছে এসে উঁকি দিয়ে দেখলো সে-ইয়া বড় মোটাতাজা এক ষাঁড়টি নাক ডাকিয়ে ঘুমাচছে তার ঘরের একেবারে কাছাকাছি।
ঘর থেকে বের হয়ে ষাঁড়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো পুঁচকে ইদুর।তারপর প্রাণপন শক্তিতে চেঁচিয়ে বললো, এই যে ষাঁড় ভায়া,দয়া করে তোমার নাক ডাকানো থামাও।আমি তো আর পারছি না নাক ডাকা সহ্য করতে।
তার ডাকে একবার লাল চোখ দুটো মেলে তাকালো ষাঁড়।তার রাগী চোখ দেখে লাফিয়ে পেছনে সরে এলো ইদুর।ষাঁড়টা শুধু তাকে মুখে বললো,যা ভাগ,এখান থেকে,দেখছিস না আমি ঘুমচছি।
ইঁদুর ভয় পেয়ে ফিরে এলো ঘরে।তারপর বেশ কিছুক্ষণ পরে সাহস নিয়ে গেল ষাঁড়ের কাছে।প্রবল কৌতূহলে এক পা- দু পা করে সে ঢুকলো ষাঁড়ের নাকের ভেতর।
আসলে তার মনে হয়েছে নাকের ফুটো পরিষ্কার করলেই হয়তো নাক ডাকানো থামবে ষাঁড়ের।
যেই কথা সেই কাজ শুরু করল পুঁচকে ইঁদুর।
ষাড়ের নাকের ভেতর নড়াচড়া শুরু করে দিলো পুঁচকে ইঁদুর।ষাঁড় নাকের ভেতর নাড়াচাড়া অনুভব করে কাঁচা ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।
ষাঁড় নিজের নাকের সুড়সুড়ানি থামাতে দিলো ইয়া বড় এক হাঁচি। সেই হাঁচির ধমকে ছিটকে বেরিয়ে এলো পুঁচকে ইঁদুর।
পুঁচকে ইদুর নাক থেকে পরেই ভয়ে ছুটেতে লাগলো তার ফাটলের বাড়ির দিকে।ষাঁড় বুঝতে পারলো এই কাজটি পুঁচকে ইঁদুরে,তার কাঁচা ঘুমটা ভাঙিয়েছে।কালো ষাঁড় রেগে-মেগে কাঁপতে কাঁপতে ছুটলো পুঁচকে ইঁদুরের পিছু পিছু।ইঁদুরের কাছে এসে তার রাগ আরও বেড়ে গেলো।কারণ ইঁদুরত ছোট তাই তার ঘরও ছোট।পুঁচকে ইঁদুর থাকে একটা দেয়ালের ফাটলের ভেতর।
আর ষাঁড়ের শরীরের আয়তন বিশাল বড়,যাঁড় নিজের বিশাল আয়তনের শরীর নিয়ে কিছুতে ফাটলের মধ্যে যেতে পারছিলো না।
ষাঁড় রাগে দিশেহারা হয়ে দেয়ালে ধাক্কা দিতে লাগলো। কিন্তুু কিছুতে দেয়াল ভাঙতে পারছেনা।
এদিকে অহংকারী ষাড়ের অবস্থা দেখে ফাটলের ভেতরে হাসতে শুরু করলো পুঁচকে ইঁদুর।পুঁচকে ইঁদুরে হাসি দেখে কালো ষাঁড় আরও রেগে গেল।কালো ষাঁড়েটি রাগে দিশেহারা হয়ে গেলো।নাক দিয়ে ধোঁয়া বেড় হতে লাগলো।এরপর ষাঁড়টি বেশ দূরে গিয়ে দৌড়ে সব শক্তি দিয়ে তার মাথা দিয়ে দিল দেয়ালে গুঁতো।আর সাথে সাথে দেয়াল কেঁপে উঠলো।বেচারা ষাঁড়ে কাজের কাজ কিছু হলো না।মাঝখানে তার মাথার ঘিলু পযর্ন্ত নড়ে গেলো তার শিং গুলো ভেঙে গেলো।
যেই শিং গুলোই ছিলো তার অহংকার।কালো ষাঁড়ের মাথা আর শিং ব্যাথা নিয়ে কোঁকাতে কোঁকাতে ফিরে গেলো তার ঘরে।ষাঁড় জানে আগামী এক মাসেও তার মাথা ব্যাথা কমবে না।আর শিং গজাবে না সেইটা অহংকারী ষাঁড়ে বুঝতে পেরেছে।
তা মনে করে শুধু কান্না করতে থাকে।পুঁচকে ইঁদুর এসে সান্ত্বনা দেয় আর বলে।রাগ আর অহংকার কারো উপকারে আসে না।
ধন্যবাদ,