বাংলার প্রাচীণ সেই এতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি। যা কালের বিবর্তনে আজ আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।
আদিম কাল থেকে বাংলায় কিছু কিছু জিনিস ছিল, যা লোকজন সেগুলোর উপর ওত্যপ্রোত্য ভাবে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করায়, বাংলার সেই এতিহ্য গুলো হারিয়ে যাচ্ছে।আজ বলব সেই বাংলার পুরোনো, এক এতিহ্যবাহী গাড়ির কথা। আর সেই গাড়িটা হল গ্রাম-বাংলার গরুর গাড়ি। একসময় এই গাড়ির ব্যবহার প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে আমরা আর পথে ঘাটে সেগুলোকে দেখতে পাই না। কেননা আমরা বর্তমানে ডিজিটাল দেশে বাস করতেছি।আর পুরনো জিনিসগুলো ভুলে যাওয়াটা তো স্বাভাবিক।আমি আজ তারই বর্ননা দেবো।
source
আদিম কালে বাংলার প্রযুক্তির আবির্ভাব ছিল না। তাই তারা বিভিন্ন জ্ঞান আর কৌশল খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করে। আর তারই একটি উদ্ভাবন ছিল এই গরুর গাড়ি। তখন কার সময় এই গাড়ির বেশ কদর ছিল। কিন্তু এই গাড়ি কখন আবিষ্কার হয় তার কোন নির্দিষ্ট ধারণা নেই। অনুমান করা হয় এই গাড়ি ১৬০০-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে আবিষ্কৃত হয়। এটি মুলত দুইটি বলদ আর বেত কাঠ দিয়ে তৈরি। তাছাড়া কাঠের দুইটি চাকা লোহা দ্বারা আবৃত ছিল। এই গাড়ি বিশেষ করে গ্রামের টাকা ওয়ালা লোকেরা বেশি ব্যবহার করত। তাছাড়া আদিম মানুষরা ব্যবসার কাজে দুর দুর পথ পাড়ি দিত। কিন্তু গরুর গাড়ি সৃষ্টি হওয়ার পর তাদের জীবনটা যেন এই গাড়ির সাথে গেথে যায়। বিভিন্ন ধরনের মালামাল এই গাড়ির মাধ্যমে বহন করা হতো। কাঁচা রাস্তার একটি গাড়িই হল গরুর গাড়ি। যখন ব্যাবসায়ীরা দূরের পথ পাড়ি দিত,তখন তারা বিভিন্ন ধরনের ভাটি গান গাইত। এই ভাটি গান শুনলে প্রত্যকের হৃদয় জুড়িয়ে যেত। তাছাড়া কেউ যখন আত্মীয়দের বাড়ি যেত তখনও এই গাড়ি ব্যবহার করা হতো। বিয়েতে এই গাড়িকে সাজানো হতো। আর বর ও কনে এখানে বসে থাকত।এক কথায় প্রত্যকের একটি শৌখিন বস্তু ছিল এই গরুর গাড়ি। কিন্তু একটি দুঃখের বিষয়। এই গাড়ি আর দেশের কোন জায়গায় দেখা যায় না। গাড়িটি দেশের মানুষের চোখ থেকে আজ হারিয়ে গেল। আমাদের মধ্যে এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কি হতে পারে।
source
যতই দিন যাচ্ছে, বাংলাদেশ আরো উন্নত হচ্ছে। আর সেই সাথে দেশে প্রযুক্তির আবির্ভাব বেশি হচ্ছে।আর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত হচ্ছে। তাছাড়া মানুষ সময়কে বেশি মূল্য দিচ্ছে। যার কারণে দ্রুতগামী যানবাহন ও তৈরি হয়েছে।যেমনঃ বাস,ট্রাক,অটো, রিক্মা,বিমান,রকেট ইত্যাদি। গরুর গাড়ির তুলনায় বর্তমান গাড়িতে অনেক সময় বাঁচে। যার কারণে কেউ আর প্রাচীণ গাড়িটিকে ব্যবহার করছে না। কেননা মানুষ স্বার্থপর। তারা জগতে নতুন নতুন জিনিস পেয়ে পুরোনো জিনিসগুলোকে ভুলে যাচ্ছে। আর নির্বিশেষে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সেই বাংলার প্রাচীণ জিনিস গুলো। হয়ত বা এই গাড়িগুলো আর কেউ ব্যবহার করবে না।
source
যেসব জিনিস ব্যবহার করে আমরা চলতে শিখেছি,সেসকল জিনিসকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখা উচিৎ। কেননা ঐসকল জিনিস আমাদের কে চলতে শিখিয়েছে,বাঁচতে শিখিয়েছে। আর আমরা স্বার্থপর হয়ে সেই সব জিনিসকে ভুলে যাচ্ছি। তাই আসুন,আমরা সবাই মিলে সচেতন হই। আর সেসব জিনিসকে রক্ষা করি,যেসকল জিনিস আমাদের উন্নয়নে অবদান রেখেছিল।
সমাপ্ত