মরুভূমির দেশ সৌদি আরবের প্রধান প্রাণী উট। একসময় মালামাল আনা-নেয়া, পরিবহন, ভ্রমণ ইত্যাদি নানা কাজে উটের ব্যবহার হতো। এমনকী এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ এবং ব্যবসার কাজেও উটের ব্যাপক প্রচলন ছিল। তবে সৌদি আরবে এখন এসব কাজে উটের ব্যবহার হয় না বললেই চলে। উট এখন সৌদি নাগরিকদের কাছে সৌখিন প্রাণী।
ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদির রাজধানী রিয়াদের অদূরে শুরু হয়েছে ২৮ দিনব্যাপী বাদশা আব্দুল আজিজ উট সৌন্দর্য উৎসব। এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নগদ পুরস্কার দেয়া হবে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার(বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা)। তাই যেকোনো উপায়ে জেতার জন্য উটের মালিকরা বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার আশ্রয় নেন। এমনই এক অভিযোগে ১২টি উট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে না। অভিযোগ, মালিকরা উটের শরীরে নিষিদ্ধ ড্রাগের ব্যবহার করেছেন।
নিউজহাবের প্রতিবেদন বলা হয়, গত বছর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রতিযোগীদের জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করা হয়।
নতুন নিয়মে বলা হয়, ‘প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া কোনো উটের ঠোঁটে ড্রাগ পেলে, লোম পরিষ্কার এবং শরীরের কোথাও রঙ করা বা স্বাভাবিকতা বিকৃত করা হলে বাতিল বলে গণ্য হবে।’
উটের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ছাড়াও উটের দৌড়, আনুগাত্যের প্রশিক্ষণ, উটের চুল শিল্প এবং সেরা আলোকচিত্রের জন্য পুরস্কার রয়েছে।
প্রতিযোগিতা প্রধান বিচারক ফাওজান আল-মাদি জানান, উট সৌদি আরবের একটি প্রতীক।
‘আমরা আগে উট প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবহার করতাম, এখন অবকাশ কাটানোর জন্য ব্যবহার করি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি রাজপরিবারও সামাজিক সংস্কারের পাশপাশি উটের উৎসবের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত দিকগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন।
গত বছর উটের এই উৎসব রাজধানী রিয়াদ থেকে অদূরে একটি দুর্গম মরুভূমিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/এসআই)