মানবতার দেয়াল

Words
710
Reading
4 min
Listen
Play
6y

মানবতা

আমরা অনেকেই ডুমুরের ফুল শব্দটির সাথে পরিচিত। মাঝেমধ্যে আমরা কোন দুর্লভ বস্তু দেখতে পেলেই হঠাৎ করে বলে উঠি এ তো ডুমুরের ফুল। আমরা ও আমাদের বাস্তব জীবনে এ শব্দটি অনেক ব্যাবহার করি, অনেক দিন পর যখন হঠাৎ করে কোনো বন্ধুর সাথে দেখা হয়। তখন অনেক সময় বন্ধুকে বলি, তুই তো এখন ডুমুরের ফুল । তোকে তো এখন আর পাওয়া যায় না।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবতা এমন একটি ডুমুরের ফুল অর্থাৎ দুর্লভ বস্তু। গ্রাম অঞ্চলে মানবতার একটু ছিটে ফোটা থাকলেও, শহরে মানবতাকে ভাঙ্গা হারিকেন নিয়ে খুঁজতে হয়। মানবতা আমাদের কতটুকু আছে ?তা বোঝানোর জন্য বেশি উদাহরণ এর প্রয়োজন নেই। কেননা বর্তমানে চলমান মহামারী করোনাভাইরাস ,আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে আমাদের মানবতা কতটুকু! আমরা পরের জন্য কতটুকু করতে পারি।

এমনই কোন দুর্লভ বস্তু যখন হঠাৎ চোখে পড়ে, তখন সেখানে চোখ আটকে যায়। এমনই একটি চোখ আটকানো দৃশ্য আমার চোখে পড়লো। দৃশ্য টি ছিল দেয়ালের ব্যানারে লেখা মানবতার দেয়াল।

মানবতার দেয়াল

20201007_061847.jpg

কুমিল্লা শহরের রেলওয়ে জংশন ধর্মপুর দিয়ে যখন হাঁটছিলাম, তখনই রাস্তার মোড়ে মসজিদের দেয়ালের মধ্যে আমার চোখ আটকে যায়। যেখানে লিখা ছিলো এটি মানবতার দেয়াল। উপরে একটি হ্যাঙ্গার টানানো ছিল। যাতে অনেকেই তার অব্যবহৃত কাপড়চোপড় রেখে যায় এবং যার প্রয়োজন সেখান থেকে সে নিয়ে যায়।

সত্যি বলতে দৃশ্যটি চোখে পড়ার মতোই। যেখানে চারদেয়ালের ইটে ঘেরা এই শহরে প্রতিনিয়তই মানুষ নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত।কাউকে সাহায্য করা তো দূরে থাক, কারোর দিকে তাকানোর সময় টুকু ও আমাদের নেই। আর সেখানে এই অদ্ভুত মানবতার দেয়াল টি আমার কাছে এক প্রকার আনন্দের মতোই লাগলো।
মনে মনে ভাবতে থাকলাম, তাহলে এখনও আমাদের মাঝে মানবতা টিকে আছে।অন্তত নিজের অব্যবহৃত কাপড়-চোপড় ডাস্টবিনে না ফেলে মানবতার দেয়ালে টানিয়ে দিলে , কতিপয় মানুষের উপকার হবে।আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা রাস্তায় ঘুমায়। তাদের তিন বেলা খাবার খাওয়ার স্বপ্ন এক প্রকার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার মত । আর সেখানে কাপড়-চোপড় পড়াতো এর চেয়ে বেশি বড় দিবাস্বপ্ন।

মানবতার দেয়ালে লিখা একটি কথা আমাকে খুবই মুগ্ধ করে সেটা হল,
তোমার অপ্রয়োজনীয় জিনিসটি এখানে রেখে যাও।
তোমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি এখান থেকে নিয়ে যাও। আবার একটি মানবতার দেয়ালে লিখে রাখতে দেখলাম, যেখানে লেখা আছে,
দেওয়ার সময় নিজেকে নিয়ে গর্ব করো না, আর তোমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি নিতে লজ্জা বোধ করো না।

অন্য আরেকটি মানবতার দেয়ালে লেখা ছিল এমন,তোমার অপ্রয়োজনীয় জিনিসটি দিতে কার্পণ্য করেনা, তোমারে প্রয়োজনীয় জিনিসটি নিতে সংকোচ বোধ করো না।

যাই ইট-পাথরে গেরা শহরটাকে একসময় মনে করতাম এখানে মানবতার ছিটেফোঁটা টুকুও নেই। আর সেখানে এ ধরনের মানবতার দেয়াল দেখে আমার বিবেক আমার দিকে আঙ্গুল তুলে যেন বলছে, না ,এখনো মানবতা টিকে আছে। কুমিল্লা শহরের অনেক অলিগলিতে এখন মানবতার দেয়াল চোখে পড়ে। যেখানে অনেক সময় টানানো থাকে অনেক ভালো ভালো পোশাক ও।অনেকেই রাতের আধারে মানবতার দেয়াল এ নিজের অপ্রয়োজনীয় কিংবা নতুন পোশাক কিনে রেখে যান। সত্যিই তারা মনের দিক দিয়ে এবং ধনের দিক দিয়ে অনেক বড় মানবিক গুণের অধিকারী।

20201007_061825.jpg

এই ছবিগুলো তুলেছিলাম আমার স্কুলের দেয়াল থেকে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে স্কুল বন্ধ থাকায়, তাই এটি যথাযথভাবে চালু করা যায়নি। আশাকরি স্কুল খোলার সাথে সাথে এ মানবতার দেয়ালটিও তার আপন রূপ ফিরে পাবে।

সবশেষে কিছু বলতে চাই

আমি জানিনা বাংলাদেশের সব শহরে কিংবা আনাচে-কানাচে এই মানবতার দেয়াল আছে কিনা?
তাই সকলের কাছে একটু চাওয়া, যার যার নিজ শহরে কিংবা অঞ্চলে মানবতার দেয়াল গড়ে তুলুন। আমাদের অব্যবহৃত কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে যদি তারাও মনে একটু হাসির খোরাক হয় কিংবা কেউ যদি বিন্দু পরিমান উপকার পায় ,তাতে আমাদের ক্ষতি না হয়ে বরঞ্চ লাভই হবে! আমরাও আমাদের মনে আত্মতৃপ্তি পাব।

গড়ে উঠুক প্রতিটি শহরের আনাচে-কানাচে মানবতার দেয়াল, এই কামনাই করি। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সেই শক্তি দিক । যেন আমরা মানবিক হতে পারি, আমাদের হাতটা মানবিকতার ক্ষেত্রে প্রসারিত করতে পারি। ভালো থাকুক সৃষ্টিকর্তার প্রতিটি মানব, আর মানবিক হোক তাদের হৃদয়। ধন্যবাদ সকলকে। সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মঙ্গল করুক।

সকলকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছান্তে

kawsar8035@kawsar8035
MYXJ_20200109171911_fast.jpg

আমি মোঃ কাউছার হাসান । বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।আর এই মাতৃভূমির আবহাওয়া ,পরিবেশ এবং সংস্কৃতি আমাকে খুব কাছে টানে। পেশায় একজন শিক্ষক। আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের নতুন কিছু শিখাতে, এবং নিজে কিছু শিখতে ভালোবাসি। লীলাবতী আমার একটু দুর্বলতা আছে। সবসময়ই কিছু লিখার চেষ্টা করি। হোকনা ভালো কিংবা মন্দ। আমি আমার কাজে পিছপা হইনা। আমি বিশেষ করি একদিন হারতে হারতেই সফলতা পাব। সময় পেলেই ভ্রমনের চেষ্টা করি। ভ্রমণ আমার অন্যতম প্রিয়। ভ্রমণের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখা যায়, অনেক কিছুই জানা যায়। মনকে প্রফুল্ল রাখা যায়।মাঝেমধ্যে নিজের ভাবনা গুলোকে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ভালো লাগে। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে, আড্ডা মারতে, খুবই পছন্দ করি। যদিও একটু নীরব থাকার চেষ্টা করি। বড়দেরকে সম্মান করতে আর ছোটদের স্নেহ করার সর্বদাই চেষ্টা করি।

Follow Me On Twitter
Add Me On Facebook

মানবতার দেয়াল | Ecency