একটি মৃত্যু বহু মানুষের কান্না । মরহুম জয়নাল আবেদীন স্যার...

kawkab(50)
Published in
#life
Words
523
Reading
3 min
Listen
Play
8y

Joynal Abedin.jpg
image source my facebook profile

আমার এই পোস্টের টাইটেল টি একটি স্মারকের নাম মাত্র। সেই স্মারকটি বের করা হয়েছিল আমার প্রিয় স্যার মরহুম জয়নাল আবেদীন স্যার এর স্মরণে। মনটা ভাল লাগছেনা, বারবার স্যারের কথা মনে হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ফেসবুকে অনেক লিখতাম, এখন আর ফেসবুকে তেমন লিখতে ইচ্ছে হয়না। তাই স্টিমিট প্লাটফর্মেই লিখতে বসলাম। কোন রকম পিপারেশন নেই, যা মনে আসছে তাই লিখছি।

আমি টাইপ করতে করতে লিখে যাই। স্যার এর স্মরণে ( একটি মৃত্যু বহু মানুষের কান্না ) এই স্বারক টি বের হয়েছে মাত্র ১০/১৫ দিনের পরিশ্রমে। স্যার মৃত্যু বরণ করেছেন ১৭ এই এপ্রিল ২০১৮। আর আমরা স্বারক গ্রন্থটি হাতে পেলাম ৪ ই মে, ২০১৮। এত অল্প দিনের ব্যবধানে আমরা স্যারের জন্য ২৩১ পৃষ্টার একটি স্বারক বের করতে পেরেছি, এটা সত্যিই অবাক করার বিষয় এবং অনেক ভাবনার বিষয়। আমাদের স্যার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক এবং আদর্শ মানুষ।

আমি স্বারক থেকে কিছু কথা এখনে তুলে ধরছি

মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয়ের কিছু কথা : একজন জয়নাল আবেদীন ইংরেজি স্যারের মৃত্যুই আমাদের জন্য সবচে বড় শিক্ষা। স্যার অমন করে চলে যাবেন, এটা আমরা কেউ ভাবিনি। কিন্তু আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি চলে যাওয়ার জন্যই। বেঁচে থাকার সময়টুকিতে কে কী করলাম, এটাই ভাবনার বিষয়।

জানাযা নামাযের আগ মুহূর্তে সম্মানীত অধ্যক্ষ মহোদয়ের আরো কিছু আবেগ জরানো কথা - সম্মানিত উপস্থিতি, আমরা এ ক্যাম্পাসে বহু জানাযার নামায পড়েছি। বহু জানাযা পড়িয়েছি। কিন্তু আজ যে জানাযা পড়বো, এ ধরনের জানাযা আর পড়িনি। শিক্ষকদের মধ্যে যাদের ত্যাগ এ প্রতিষ্টান এ পর্যায়ে এসেছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন ত্যাগী সহকর্মী শিক্ষককে আজ আমরা আকস্মিকভাবে হারালাম। আমাদের প্রতি স্যারের বিন্দু পরিমাণ ক্রুটি ছিল না কখনো। নিজের স্বার্থের কারণে ভিন্ন কোন চিন্তা বা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় - এমন কোন চিন্তা তাঁর মধ্যে ছিল না। বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায়, এজন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা লাগে, তা তিনি করেছেন। সকল ছাত্ররা তাঁর পাঠদানে সন্তুষ্ট ছিল। যে কোন দায়িত্ব তাকে দিলে নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন।

এভাবে অনেক শিক্ষক আর ছাত্রদের আবেগ দিয়ে ২৩১ পৃষ্টার স্বারক টি সাজানো হয়েছে। আমি স্বারকটির কয়েকটি লেখা পড়েছি। প্রতিটা লেখা আমাকে অনেক বেশি ভাবাচ্ছে, আমার সেই অতীত গুলোকে আজ অনেক বেশি মনে পড়ছে। স্যার আমার চোখে এখনো ভাসছে। স্যারের এই মৃত্যু আমদের জন্য অনেক শিক্ষনীয়। একদিন আমাদেরকেও এই মৃত্যুর স্বাধ নিয়ে পৃথিবী ছাড়তে হবে। বাট স্যার যেভাবে আমাদের মনে দাগ কেটে গেছেন, আমরা কতটা স্যারের মত আদর্শ রেখে মরতে পারবো, আমাদের জন্য মানুষের কান্না কতটা আবেগ দিয়ে হবে? এই প্রশ্ন গুলো থেকে নিজেদের কে পরিবর্তন করার সময় এসে গেছে।

মানুষ দুনিয়াতে আসবে আবার চলে যাবে এটাই চিরন্তণ সত্য। কিন্তু কে কতটা অন্য মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবে এটার ভাবনার বিষয়। অশ্রু দিয়ে বরণ প্রতিটা মৃত্যু হয়না, যাদের টা হয় তারা আসলেই স্বার্থক এই পৃথিবীর জন্য।

আমি স্যারের একজন ছাত্র হিসেবে আজ নিজেকে অনেক ভাগ্যমান মনে করছি। স্যারের এই অকাল মৃত্যু আমাকে কেন যেন অনেক বেশি ভাবাচ্ছে। স্যারের আর্দশ নিয়ে যেন বাকিটা জীবন নিজেকে সাজাতে পারি সেই দোয়ার প্রভুর দরবারে করি।

আমি বিশ্বাস করি আমার স্যার জান্নাতি। নিজের চোখে দেখা এত হাজার হাজার মানুষের কান্না সৃষ্টি কর্তা ফিরিয়ে দিবেন না কখনো।

আজ এই পর্যন্তই। এই আর্টিকেলটি একান্তই নিজের মনের তৃষ্ণা মিটানোর জন্য। কোন আপভোটের দরকার নেই। স্মৃতি হিসেবে স্যারকে নিয়ে লেখা এই আর্টিকেল টি থেকে যাবে স্টিমিট প্লাটফর্মে।

সবাই ভাল থাকবেন। আমার স্যারের জন্য দোয়া করবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে !!!

একটি মৃত্যু বহু মানুষের কান্না । মরহুম জয়নাল আবেদীন স্যার... | Ecency