আমি যখন খুব ছোট তখন থেকেই আমার বই পড়ার আগ্রহ ছিল অনেক। বিশেষ করে গল্পের বই। কিন্তু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বা শরৎচন্দ্র চট্টোপ্যাধায়ের সংষ্কৃত ভাষায় লেখা গল্প পুরোটাই আমার মাথার উপর দিয়ে যেতো। একারণে আমার বড় আপু আমাকে ২১শে বই মেলা থেকে হুমায়ূন আহমেদের একটি বই হলুদ হিমু কালো র্যাব কিনে দেয়। এটাই ছিলো আমার পড়া তার প্রথম গল্পের বই। ব্যাস এরপর আর কোন বই মেলা যায় নি আমি তার বই না কিনেছি। সেই থেকে তার লেখা বইয়ের পোকা হয়ে গেলাম।
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এক ছোট্ট ছেলে সন্তান, নাম হুমায়ূন আহমেদ।
হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।
যতবার আপনার লেখা কোন বই পড়তাম
বরাবরের মতো বিভ্রান্ত হতাম।
কেনো যেনো কোন শেষ খুজে পেতাম না,
হয়তো আপনি সেটা পাঠকের উপরে ছেড়ে দিতেন
আমিও আমার মতো করে হাজারটা শেষাংশ বানিয়ে নিতাম।
"পদ্মা নদীর মাঝি" পড়ে কখনো নিজেকে "কুবের" ভাবি নি
"শেষের_কবিতা" পড়ে কখনো "অমিত রায়" হতে ইচ্ছা করে নি
কিন্তু যতবার আপনার লেখা পড়েছি
নিজেকে "হিমুর হলুদ পাঞ্জাবিতে" খুজেছি
"মিসির আলীর" সাথে রহস্য উদঘাটনে মত্য হয়েছি
"কেমেষ্ট্রির বই" হাতে নিজেকে "শুভ্র" ভেবেছি
হ্যা, একটি বইয়ের ভেতর কি করে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে হয় সেটা আপনার লেখা পড়ে বুঝেছি।
আজও খুজে ফিরি,
হলুদ পাঞ্জাবির হিমুকে,
রহস্য সন্ধানী মিসির আলিকে,
বই হাতে পড়ুয়া সেই শুভ্রকে,
প্রেমিকা রুপাকে।
এরা কোন গল্পের চরিত্র নয়,
এরা হলো আপনার হাতে গড়ে তোলা
আমাদের জন্য একগুচ্ছ ভালোবাসার মানুষ। ❤
যাদেরকে আপনি আমাদের কাছে রেখে
চলে গেছেন চিরতরে।
আজ আপনার ৮তম মৃত্যুবার্ষিকিতে আপনাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং আপনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
হুমায়ূন আহমেদ(১৩ নভেম্বর ১৯৪৮-১৯ জুলাই ২০১২)