রিজিকের পিছনে দৌড়াইও না, রিজিকের মালিকের পিছনে দৌড়াও। তাহলে রিজিক তোমার পিছনে দৌড়াবে।
ছাত্র জীবনে আমি বইয়ের পোকা ছিলাম।মানে গল্পের বই হোক বা ক্লাসের বই হোক। যে কোন ধরনের শিক্ষা মূলক বই পড়তে ভীষণ পছন্দ করতাম।
তারপর এই স্মার্ট ফোনের আবির্ভাবের পর থেকে বই পড়ার অভ্যাস টা আস্তে আস্তে কমতে লাগলো। অবশ্য ব্যস্ততা টা ও একটি অন্যতম কারণ।
যাই হোক, এখন যেহেতু লেখালেখি করার একটা চমৎকার প্লাটফর্ম পেয়েছি , তাই আবারো ফিরে এসেছি বই পড়ার জগতে।
কারণ আমার মতে, পড়াশোনা র অভ্যাস ব্যতীত ভালো লেখক হওয়া মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে আমার জন্য।
তো বেশ কিছু দিন আগে কোন একজন উচ্চ মানের লেখকের একটি বই পড়ছিলাম। সেখানে রিজিক নিয়ে তিনি এতো চমৎকার একটি বিশ্লেষণ করেছেন ,যা যে কোন পাঠকের ই মন ছুঁয়ে যাবে।
উনার লেখার বিশ্লেষণে রিজিক টা কে তিনি এভাবে তুলে ধরেছেন.......
রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর : টাকা, সম্পদ।
সর্বোচ্চ স্তর : শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা।
সর্বোত্তম স্তর : পুণ্যবান স্ত্রী ও পরিশুদ্ধ নেক সন্তান।
পরিপূর্ণ স্তর : মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।
শুধু এক বার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন, আপাত দৃষ্টিতে আমরা মানুষেরা টাকা পয়সা কে ই রিজিকের অন্যতম উঁচু স্তর মনে করি।
কিন্তু আসলেই কি তাই??
টাকা পয়সা তো আল্লাহ তায়ালা ধনী গরীব, উঁচু নিচু, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে ই দিয়ে থাকেন।
লেখকের মতে, রিজিকের পরিপূর্ণ স্তর - মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি। এটা কত জনের ভাগ্যে জোটে?
অথচ কোন মানুষ যদি মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে, তাহলে সে দুনিয়া ও আখিরাত দুই জায়গাতেই সফলকাম।
এখন আর একটা বিষয় ভেবে দেখুন। একটা মানুষ তার গোটা জীবনে সে কত টাকা আয় করবে, কে তার জীবন সঙ্গী হবে, তার জীবদ্দশায় সে কতগুলো খাবার খেতে পারবে , সে কোন জায়গায় জন্মগ্রহণ ও মৃত্যবরণ করবে তার সবগুলোই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে সে পৃথিবীতে আসার পূর্বেই।
এখন শুধু দেখার বিষয় হলো যে মানুষ টা এগুলো হালাল পথে না হারাম পথে উপার্জন করবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন পরিপূর্ণ ভাবে। কারণ তিনি মানুষের মাথায় মগজ দান করেছেন।যার দ্বারা মানুষ বিবেককে কাজে লাগিয়ে ন্যায় ও অন্যায়ের পথ বেছে নেবে।
আর এই স্বাধীনতা পেয়েও যারা হালাল বা ন্যায় পথে জীবন বা জীবিকা নির্বাহ করবে তারাই প্রকৃত সফলকাম। আর যারা এর বিপরীতে চলবে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আর এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সব কিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে।
—(সুরা হুদ : আয়াত ৬)
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। আর তাকে (এমন উৎস থেকে) রিজিক দেবেন যা সে ধারণাও করতে পারবে না।
—(সুরা ত্বালাক : আয়াত ২-৩)
হালাল বা হারাম পথে জীবন বা জীবিকা নির্বাহের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা যেহেতু আমাদের কে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন। তাই সকলে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহ তায়ালা কাছে প্রার্থনা করি আমরা যেন হালাল পথে রিজিক তালাশ করতে পারি সেই তৌফিক দান করেন।
আমীন।।