হিমালয় কন্যা

Words
417
Reading
2 min
Listen
Play
5y

গত সোমবারে আমার অফিসিয়াল ট্যুর ছিল বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। যেহেতু আমি রংপুর বিভাগের দায়িত্ব এ আছি তাই প্রায় সারা সপ্তাহেই কোথায় না কোথায় ট্যুর থাকে।

received_2685428998430211.jpeg

received_305308124745238.jpeg

received_636382570850026.jpeg

received_851637495509705.jpeg

তো গত সোমবারে প্রায় ৭ টার দিকে আমি বাসা থেকে বের হই । এতো সকালে একটা ট্রেন পঞ্চগড়ে যায়, তাই আমি সেই ট্রেন টা যথাসময়ে ধরে পঞ্চগড় এর উদ্দেশ্য এ যাত্রা শুরু করি। এছাড়াও অনেক দিন ধরে ট্রেন জার্নি করা হয় না।
তাই ভাবলাম আজকে ট্রেন জার্নি টা করেই দেখি কেমন লাগে?

বেশ মজাই লেগেছিল ট্রেন জার্নি টা।ট্রেন টা যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল সামনের দিকে। তখন ছোট বেলার একটা কবিতা মনে মনে আমি আওড়াচ্ছিলাম বার বার। কবিতার নাম এবং লেখকের নাম কিছুই মনে নেই। শুধু কবিতার লাইন গুলো মনে পড়েছিল।

"ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে
রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে
ট্রেনের বাড়ি কই ?

একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায়
মাঠ পেরুলেই বন।
পুলের ওপর বাজনা বাজে
ঝন ঝনাঝন ঝন।

দেশ-বিদেশে বেড়ায় ঘুরে
নেইকো ঘোরার শেষ।
ইচ্ছে হলেই বাজায় বাঁশি,
দিন কেটে যায় বেশ।

থামবে হঠাৎ মজার গাড়ি
একটু কেশে খক।
আমায় নিয়ে ছুটবে আবার
ঝক ঝকাঝক ঝক।"

অদ্ভুত রকমের এক ভালো লাগার অনুভূতি আমার হৃদয় মন জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

received_3105131186373209.jpeg

received_678359179814743.jpeg

received_975502196476039.jpeg

received_291823812816303.jpeg

received_251434913677393.jpeg

received_640350356987144.jpeg

received_377650114088895.jpeg

received_422678636066064.jpeg

received_309907174294958.jpeg

received_602974254380141.jpeg

received_678778546441681.jpeg

received_918593045749371.jpeg

যাই হোক যথাসময়ে পৌঁছে যাই পন্চগড়ে। তারপর আমি আমার অফিসের কাজে মনোনিবেশ করি। ইতিমধ্যে দুপুর হয়ে যায়।
নামাজ পড়ে একটা রেস্টুরেন্টে তাই দুপুরের খাবার খেতে। সেখানে গিয়ে আমার শ্যালক এর সাথে দেখা হয়ে যায়। দু'জন একসাথে খাবার খেয়ে আমার অফিসের ডিলার হাউজে বসে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করি।

আর আমার অফিসের কাজ ৪ টার মধ্যে ই শেষ হয়ে যায়। তখন আমার আর কোন কাজ থাকে না। তাই আমার শ্যালক আমাকে প্রস্তাব দিলো" তুলার ডাঙা" নামক একটি জায়গা থেকে ঘুরে আসতে।

মোটরসাইকেলে করে গেলাম সেখানে দুজনে মিলে। পঞ্চগড়ের ব্রীজটি করতোয়া নদীর উপর দিয়ে মূলত নির্মিত। আর সেই করতোয়া নদীর তীরে তুলার ডাঙা জায়গা টা। এখানে প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য একটি উত্তম জায়গা।

আমার মতে, গরীবের কক্সবাজার হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় এই তুলার ডাঙা জায়গা টা কে।
কারণ সূর্যাস্ত এর সময় এর সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এছাড়াও নদী থেকে পাথর উত্তোলনের দৃশ্য টা ও বেশ মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে।

এছাড়াও এর স্বচ্ছ পানি টা দেখে কক্সবাজার এর সমুদ্র সৈকত এর কথা মনে পড়ে যায়। যদিও এটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো র মতো ই।

যাই হোক, শীতের আগমনে আপনাদেরকে পঞ্চগড় জেলায় স্বাগতম। কারণ শীতকালে এই হিমালয় কন্যা পঞ্চগড় শহরের তেঁতুলিয়া থেকে খুব সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া যায়।
এছাড়াও এখানে আরো অনেক কিছু চমৎকার দর্শনীয় স্থান রয়েছে।যা দর্শনে আপনার সময় নষ্ট হয়েছে বলে ভুল করবেন না কোন মতেই।

ধন্যবাদ সবাইকে।

হিমালয় কন্যা | Ecency