বর্তমান পৃথিবীর এই ক্লান্তিলগ্নে, প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন প্রায় ধ্বংসের দিকে । মানুষ হয়ে পড়েছে দিশেহারা। কেউ তার চাকরিতে থেকে ফিরে যাচ্ছে বরখাস্ত হয়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে পড়েছে স্থবির। প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যবসার মালিক হয়ে পড়েছেন দিশেহারা । কিভাবে পরিবারকে ভরণ পোষণ করবেন। ঠিক তেমনই আজকে একজন খুচরা কাপড় বিক্রেতার সাথে কথা বললাম ,জানতে পারলাম তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবস্থা প্লাস তার পারিবারিক অবস্থা।
জিজ্ঞেস করলাম আপনার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কি কি কাপড় আছে কি ধরনের কাপড় বিক্রি করেন এবং কত টাকা লাভ করেন? আমাকে অনেক রঙের কাপড় দেখিয়ে বলল থ্রিপিস, ওয়ান পিস ,বোরকার কাপড় তা ছাড়াও রয়েছে বাচ্চাদের কাপড় ন্যাপকিন আর বিভিন্ন ধরনের কাপড় । ব্যবসার মুনাফার ব্যাপারে বললেন । কোন কোন কাপড় থেকে থার্টি পার্সেন্ট, কোন কোন কাপড় থেকে 4%, কোন কোন কাপড় থেকে 10%, এবং 5 পার্সেন্ট লাভ হয়। তিনি আরও জানালেন যে, গত রমজান ঈদে মোটামুটি ভালো বিক্রি করেছে কিন্তু বর্তমানে করুনা ভাইরাসের ব্যাপক হারে বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা স্থবিরতা চলে এসেছে। সারাদিনে 200 500 টাকা বিক্রি করা যায় না । এখন মানুষ কাপড় কিনতে চায় না , কি দিয়ে কাপড় কিনবে ? কাপড়ের টাকা কোত্থেকে পাবে? সঠিকভাবে তো খাবারই পাওয়া যাচ্ছে না এখন । প্রতিটি সাধারণ মানুষের বাসায় এখন খাবারের অভাব চলছে । মধ্যবিত্ত যারা তাদের ফ্যামিলিতে চলছে টানটান ভাব। আগে খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে তারপরই তো কাপড়-চোপড়ের চিন্তাভাবনা আসবে। তা আমাকে জানালেন এই ব্যবসা এর একজন ভাই।
আমি উনার কাছ থেকে বাচ্চার কিছু কাপড় কিনতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে জানালেন যে , আজ চার দিন পর আপনার কাছে কিছু টাকা বিক্রি করছি। চার দিন যাবত কোন ব্যক্তি কাপড় কিনতে আসেন। এই মাস শেষে এই দোকান ভাড়া 9000 টাকা । বাসায় খাবার দাবার, ফ্যামিলিতে ভরণপোষণ সব মিলিয়ে প্রায় 40,000 টাকা লাগবে। কিন্তু মাসে বিক্রি হবে না আমার দশ হাজার টাকা। কি করে আমি ফ্যামিলি পরিবার চালাবো? কি করে খেয়ে বেঁচে থাকব? হয়তো আল্লাহই ভালো জানেন। বর্তমানে এই কাপড়ের ব্যবসা স্থবিরতা চলছে । জানিনা এই ব্যবসা কখন আর ভালো হবে।
##বর্ষার দিনে কাপড় ব্যবসার অবস্থা, তিনি আরও জানালেন আমাকে, যে বর্ষা না থাকলে হয়তো দু একটা কাপড় বিক্রি করা হয় ।কিন্তু বৃষ্টির দিনে একেবারেই বেচাকিনা কিছুই হয় না। এই দিন গুলো খুবই টেনশনে চিন্তায় কাটে। জানিনা কোন দিন আবার সুস্থ পৃথিবীতে ফিরে আসব । সুস্থভাবে ব্যবসা করবো । প্রতিটি মানুষ এখন আতঙ্কের আছে । আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসলে হয়তোবা প্রতিটি মানুষ আবার কাজ খুঁজে পাবে। হয়তো ব্যবসায় আবার প্রাণ ফিরে পাব ।জানালেন এই ক্ষুদ্র কাপড় বিক্রেতা বিক্রেতা।
পরিশেষে এই কাপড় বিক্রেতার জীবন গল্প থেকে এটাই প্রতীয়মান হলো যে , পৃথিবীটা আসলে সুস্থ অবস্থায় নেই । প্রতিটি মানুষ কাজের চিন্তায়, খাবারের চিন্তায় মগ্ন রয়েছেন। চারদিকে ঘুরছেন কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। কি খাবেন কী পড়বেন এটেনশন । ব্যবসার সুদিন হয়তোবা আসবে নতুবা আসবে না। কিন্তু জীবন তো একটাই। তারপর ও সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের একটাই চাওয়া । সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুন ।ভালো রাখুন ,ভালো থাকলে অবশ্যই আমাদের করে দিবে । ধন্যবাদ সবাইকে । আমরা সবাই সবার জন্য দোয়া করব । বাসায় থাকুন সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।