▶এই উঠো?
▶হুম
▶হুম কি?উঠো বলছি
▶আরেকটু ঘুমাই না সোনা?
▶নাহহ,আর এক সেকেন্ড ও না,,উঠে আমাকে
রান্নার কাজে সাহায্য করো।
▶কি করতে হবে?(ঘুম জড়ানো কন্ঠে)
▶পেয়াজ,রসুন কেটে দিতে হবে,আমি একা
পারবো না।
▶উফফফ তুমি না শান্তি মত ঘুমাতেও দিবা না।
▶হুম লক্ষি জামাই এর মত উঠে ফ্রেশ হয়ে রান্না
ঘরে আসেন।
▶আচ্ছা তুমি যাও,আমি উঠছি।
▶কি অলস ছেলেরে বাবা!! আমি যাই পরে তুমি আবার
ঘুমাও,তা হবে না। (হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে তুলে
দিল)
.
এই হল নাহিদ আর নন্দিনী, তারা পালিয়ে বিয়ে
করেছে তারা। তাদের পরিবার, সমাজ তাদের গ্রহন
করে নি।কারন তাদের দুই ফেমেলির মাজে একজন সত্রু চিল।
আর অই সত্রুর কারেনে পালিয়ে বিয়ে কারা।
.
কথায় আছে না,
"ভালবাসা কোন বাধা মানে না"
তাদের একে অপরের প্রতি প্রচন্ড ভালবাসা ছিল তাই
তারা কোর্ট মেরিজ করেছে।
বেশ ভালই আছে তারা।
নাহিদ বেসরকারি কম্পানী তে জব করে, ছোট
একটা বাসা নিয়ে দুইজন খুব সুখেই আছে।
তাদের মধ্যে আছে ভালবাসা,বিশ্বাস।
.
নাহিদ অনার্স তৃতীয় বর্ষে যখন পড়ে, নন্দিনী
তখন অনার্স প্রথম বর্ষে।তাদের প্রেম টা খুব
অদ্ভুদ ভাবেই হয়েছে।
সেটা অন্যদিন বলব।
.
▶এই তুমার হল?(চেচিয়ে বলল নন্দিনী)
নাহিদ আস্তে আস্তে রান্না ঘরে গিয়ে দেখলো
নন্দিনী রান্না করছে, কাপড় টা কোমরে
গোজে দাঁড়িয়ে রান্না করছে।
নাহিদ পিছন থেকে নন্দিনী কে জড়িয়ে ধরল।
.
▶এই ছাড়ো!
▶না ছাড়বো না,আমার বউ টাকে এই ভাবেই জড়িয়ে
ধরে রাখব
▶হইছে এত ঢং দেখাতে হবে না,সারারাত অনেক
দুস্টামি করেছেন।
▶হুম করবোই তো,আমার বউ এর সাথে আমি দুস্টামি
করব না তো কে করবে হুম?
▶হুম বুঝলাম, এবার আমার দুস্টু জামাই টা আমাকে একটু
সাহায্য করুন।
▶জ্বী হুকুম মহারানী।
.
নাহিদ বসে পেয়াজ,রসুন কাটছে আর নন্দিনীর
সাথে গল্প করছে।
নাহিদ, নন্দিনী কে কখনো কস্ট দেয় না,রাগ করে
না।এই মেয়েটি তার পরিবার ছেড়ে তার কাছে
ছুটে এসেছে, বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই।।তাই
নাহিদ যেভাবে পারে নন্দিনী কে খুশি রাখার চেস্টা
করে।।
.
অতঃপর তারা দুইজন মিলে রান্না করে এক সাথে
খেতে বসে।একে অপরকে তুলে খাইয়ে
দিচ্ছে।
.
এভাবেই সুখে কেটে যাচ্ছিল তাদের সুখের দিন
গুলি।
.
একদিন অফিসে এক জরুরি কাজ করছিল নাহিদ।
হঠাত নন্দিনীর ফোন আসে...
.
▶কোথায় তুমি?(নন্দিনী)
▶অফিসে। (নাহিদ)
▶তারাতারি বাসায় আসো আমার খুব খারাপ লাগছে।(এটা
বলেই নন্দিনী ফোন কেটে দেয়)
.
নাহিদ অফিসের সমস্ত কাজ রেখে ছুটে বাসার
উদ্দেশ্যে।তার শরির ঘেমে ভিজে গেছে।
বাসায় গিয়ে দেখে নন্দিনী বসে বসে টিভি
দেখছে আর চানাচুর খাচ্ছে।
▶কি হয়েছে তুমার?(নাহিদ)
▶কিছু হয় নি তো এমনি তুমাকে ফোন দিয়ে আনলাম
একা একা ভাল লাগছিল না।(নন্দিনী)
নাহিদ প্রচন্ড রেগে যায়, আর সাথে সাথেই একটা
থাপ্পড় মারে।
.
নন্দিনী কিছু সময়ের জন্য চুপ হয়ে যায়, আর
সেখান থেকে উঠে চলে যায়।
.
আর নাহিদ ক্ষেপে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে,আর
শুয়ে শুয়ে ভাবে,
কাজ টা কি ঠিক করলাম?
নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে,যে মেয়েটি ওর
জন্য এত পাগল,,নিজের পরিবার ছেড়ে চলে
এসেছে আমার কাছে আর আমি তার গায়ে হাত
তুল্লাম?ছিঃ এটা কিভাবে করলাম আমি?
বিছানা থেকে উঠে নন্দিনী কে খুজতে থাকে।
পরে নন্দিনী কে দেখতে পায় বেলকনি তে
দাঁড়িয়ে আছে।
নাহিদ পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে,,
কিন্তু নন্দিনীর কোন সাড়া নেই।চুপ করে দাঁড়িয়ে
আছে।
.
▶সরি বউ!
▶নিশ্চুপ
▶বউ প্লিজ আমাকে মাফ করে দেও।আমি বুঝতে
পারি নি।আমার ভুল হয়ে গেছে।আর এমন করব না।
(কথাগুলো একটানা বলে দেয় নাহিদ)
▶নন্দিনী জোরে কেদে উঠে।।সে ও বলে
আমাকেও মাফ করে দেও।তুমাকে মিথ্যে বলে
ডেকে এনেছি,স্যরি
এই বলে নাহিদ কে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে।
নাহিদ এর চোখ দিয়েও পানি বের হয়ে যায়।
.
▶চল ঘরে চলো(নাহিদ)
▶না যাব না (অভিমানী কন্ঠে)
▶কেন??
▶আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে।
(নন্দিনী)
.
অতঃপর নন্দিনী কে কোলে নেয়
▶বউ তুমি মোটা হয়ে গেছো।(নাহিদ)
▶কি বল্লা?আবার বলো?
▶না না বললাম আমার বউ টা আরো সুন্দর হয়ে
গেছে।
▶তাই বুঝি??আগে কি এটাই বলেছিলা?
▶হ্যা সোনা!
▶মিথ্যা কথা!তুমি আমাকে মোটা বলেছো,,উঠব না
তুমার কোল এ নামাও আমাকে।
▶সরি পাগলি!কান ধরেছি
▶হি হি হি হি
.
.
এভাবেই চলতে থাকে তাদের খুনসুটি সংসার।
বেচে থাকুক তাদের ভালবাসা আজীবন।