কোটার ফাঁকা পদ পূরণে জনপ্রশাসনের ব্যাখ্যা পরীক্ষা করে দেখা হবে

Words
479
Reading
3 min
Listen
Play
8y

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে।

আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম এ কথা বলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোটা নিয়ে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখব।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গতকাল রোববার দুপুর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। রাতভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। আজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনে নেমেছেন কোটা সংস্কারের পক্ষের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোটা নিয়ে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, কোটায় পদ না পেলে ফাঁকা পদগুলো মেধাতালিকা থেকে পূরণের সিদ্ধান্তই একটা সংস্কার। এ কারণে মেধাবীরা খুব একটা বঞ্চিত হন না। এ সময় তিনি বিগত তিনটি বিসিএসের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ৩৩তম বিসিএসে এই ব্যবস্থার কারণে ৭৭ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রার্থী মেধার কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। ৩৫তম বিসিএসে ৬৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ৩৬তম বিসিএসে ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ মেধা কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোটা নিয়ে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখব।
আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক সূত্রে এ কথা জানা গেছে।

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫৫ শতাংশ কোটায় নিয়োগ হয়। বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন করছেন।
সম্প্রতি কোটার ফাঁকা পদ পূরণ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার কোনো পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা না গেলে সেগুলো মেধাতালিকার শীর্ষে থাকা প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে। এক মাস আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলো বিশেষ কোটার অধীন কোনো জেলার বিতরণ করা পদের সংখ্যা থেকে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কম হলে ওই বিশেষ কোটার অপূরণ থাকা পদগুলো জাতীয়ভিত্তিক নিজ নিজ বিশেষ কোটার (অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) জন্য করা জাতীয় মেধাতালিকা থেকে পূরণ করতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অনুসরণের পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগের জন্য নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার কোনো কৃতকার্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে ওই পদগুলো অবশিষ্ট কোটা অর্থাৎ জেলার সাধারণ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করতে হবে। এই দুই পদ্ধতি অনুসরণ করার পরও কোনো বিশেষ কোটার কোনো পদ পূরণ করা সম্ভব না হলে অপূরণকৃত পদগুলো জাতীয় মেধাতালিকার শীর্ষে থাকা প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ কোটার (মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য) কোনো পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলে অপূরণকৃত পদগুলো জেলার প্রাপ্যতা অনুযায়ী নিজ নিজ জেলার সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করতে হবে। কোটাসংক্রান্ত অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।

U5dtg7j51WwcRyBRkJB5SCVdtwh17pY[1].gif

কোটার ফাঁকা পদ পূরণে জনপ্রশাসনের ব্যাখ্যা পরীক্ষা করে দেখা হবে | Ecency