এই যান্ত্রিক জীবনের এই যান্ত্রিক ঢাকা শহরেই বর্তমানে আমার বসবাস৷ শুধু ভার্সিটিতে ভর্তির পর থেকেই এখানে থাকা হয়। এই শহর টা আমার মনের চাহিদার পক্ষে কখনই ছিল না। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় এই শহরটাকেই আপন করে নিতে হচ্ছে। তার পরেও এই যান্ত্রিক শহরে মাঝে মাঝে প্রশান্তি পাওয়া যায়। এই তো সেদিন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে ছিলাম। সেখানকার প্রাকৃতিক সুন্দর ক্যাম্পাসের পরিবেশ আমাকে খুবেই মুগ্ধ করেছিলো। সময়ের অভাবে তেমন ঘুরাঘুরির সুযোগ হয়না। আর এই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ টাও ঠিক কাকতালীয় ভাবে হয়ে যায়।
এই তো কিছুদিন আগে হঠাৎ করে আমার ল্যাপটপ টা নষ্ট হয়ে যায়৷ তাই গত শুক্রবারে সেটা ঠিক করার জন্য আগারগাঁও আইডিবি তে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটের দিকে সার্ভিস সেন্টারে ল্যাপটপ টা জমা দেই ঠিক করার জন্য৷ কিন্তু তারা সময় বেঁধে দেয় যে, সেদিনই যদি নিতে হয় তাহলে বিকাল ৩ টার দিকে নিতে হবে। আমিও তাই করলাম জমা দিয়ে দিলাম। এরপর এতক্ষণ সময় কিভাবে পার করবো সেটা নিয়ে ভাবতেছিলাম। আমার সাথে সেদিন গিয়েছিল আমার পাশের রুমমেট ছোটাভাই শামীম হাসান সরকার৷ তাকে তখন জিজ্ঞেস করি কি করা যায় এতক্ষণ সময় কিছু একটা ভাবো? তখন সে বলেছিলো আসেন ভাই তাহলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় টা ঘুরে আসি৷ এতটা দুর নয় একদম কাছেই এখান থেকে। রিকশা ভাড়া সম্ভবত ৩০ টাকা লাগতে পারে৷ ঠিক এভাবেই এই কথা গুলো বলেছিলো শামীম৷ আমিও রাজি হয়ে যাই। আর তখনই বের হয়ে যাই আমরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্দেশ্যে।
তারপর আমরা ২ জন একটা রিকশা করে যাত্রা শুরু করি৷ ঢাকা শহরের রিকশায় চলতে আমার খুব ভালোই লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর গেইটের সামনে পৌঁছে যায়৷ তারপর গেইট এর ভিতর ঢুকেই আমার ছোট বেলার খুব কাছের একজন বান্ধবীকে ফোন দেই। সে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত সে সেদিন ক্যাম্পাসে ছিলো না। সে আমাকে প্রায়ই বলতো তাদের ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য কিন্তু যেদিন গেলাম সেদিন তাকেই পেলাম না। সে অনেক আপসোস করতে ছিলো। এরপর আর দেরি না করে ভিতরের দিকে হাটতে শুরু করলাম। এর মাঝে অনেক গুলো ভবন দেখলাম কিন্তু নাম মনে রাখতে পরলাম না। কিছুক্ষন হাঁটার পর দেখতে পেলাম একটি ছোট্ট পুকুর এর সাথেই একটি বিশাল ভবন। তখন ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখি এটি কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হল। যা দেখেই আমার মনে উৎফুল্ল তৈরি হলো। কারণ এই হলটিতেই আমার বান্ধবী থাকে৷ বান্ধবীর মুখে এই হলটির অনেক গল্প শুনেছি৷ এবং তার সাথে আরো এই হলের সুন্দর সুন্দর মেয়ের ছবিও দেখেছি ফেইসবুকে। তাই হয়তো এই হলটি ঘিরে একটু আগ্রহ বেশি ছিলো। এরপর এই হলটির একটি ছবি তুলে সামনের দিকে চলে যাই। এর সামনেই ছিলো একটা বড় পুকুর। পুকুরে দেখতে পেলাম একজন বাবা তার মেয়েকে সাঁতার শেখাচ্ছে৷ এগুলো দেখে ছোট্ট বেলার কথা মনে পরে যায়।
পুকুরের পাশেই আছে ড.এমএ ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্র। ভবনটি আমার কাছে খুবই পুরনো মনে হল। ভবনের সামনে অনেকগুলো ফুল গাছ ছিল এর মধ্যে কিছু অপরিচিত ফুল দেখতে পাই। ফুল গুলোর ঘ্রান অনেক মধুর ছিলো আর দেখতে এত সুন্দর আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। আমি এর আগে কখনো এই ফুল দেখিনি। তার পর ফুলগুলোর কিছু স্থিরচিত্র ধারণ করি। এই ভবনের দেয়ালেই একটি সুন্দর চিত্রকর্ম দেখতে পাই। সেখানে একটি ছেলের এবং মেয়ের রোমান্টিক ছবি আকা ছিলো। এবং পাশেই লেখা ছিলো "চাপ নেই বিসিএস হচ্ছে"। সেখানকার পরিবেশ টা ছিলো খুবই শান্ত নিস্তব্ধ দুপুর। সেখানে বসে প্রায় অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে দেই। মনে হচ্ছিল সেদিন সারাদিন ওইখানে বসেই কাটিয়ে দেই। তারপর কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার আমরা হাটতে বের হই৷ এরপর আমরা যাই শেখ কামাল ভবন এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের রাস্তা গুলো ছিলো মনোমুগ্ধ কর রাস্তার দুপাশে ছিলো হাজারো গাছের মেলা।
এরপর আমরা যাই হর্টিকালচারের ভিতর গ্রিনহাউজ চাষাবাদ পদ্ধতি দেখতে। গ্রিনহাউজ চাষাবাদ পদ্ধতি আগে কখনো দেখা হয় নি। তারপর হাটতে হাটতে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে দিয়ে উপচার্য ভবনের সামনে আসি। তখন নামাজের সময় হয়ে যাওয়াতে আর ঘুরাঘুরি হয়নি। তবে এইটুকু সময়েই ভার্সিটির প্রায় পুরোটাই ঘুরা হয়ে গিয়েছিল। তখন ভার্সিটির একটি মসজিদে নামাজ পরে আমরা আবার চলে যাই আমাদের কাজে।
যান্ত্রিক এই ঢাকা শহরের মাঝে প্রাকৃতিক সবুজ ক্যাম্পাস যা আমার মনে সুন্দর একটা অনুভুতির সৃষ্টি করে।এত ব্যস্ততার মাঝে এত কোলাহলের মাঝে এক টুকরো প্রশান্তির দেখা।