মানুষের জ্ঞানের আধার হলো বই। সেই জ্ঞানকে আহরণ করতে আমাদের বইয়ের পিছু ছুটতে হয়। আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হচ্ছে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার। লাইব্রেরি এমন এক জায়গা যেখানে অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সকল জ্ঞানের সমুদ্র একত্রিত করে রাখে। লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের সমুদ্র। মানুষ লাইব্রেরি থেকে যেমন জ্ঞান অর্জন করে তেমনি মনের খোরাকও জোগায় এই লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার থেকে। বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। আমাদের জ্ঞান কখনও সীমাবদ্ধ নয়। যে যত বই পড়বে সে ততো জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। আর সেই জন্যে আমাদের প্রয়োজন বই পড়ার নির্দিষ্ট জায়গা, সেই জ্ঞানের জায়গাটি লাইব্রেরি। যেখানে আমরা সকল প্রকার বই পেয়ে থাকি। বিশেষ মানুষদের জীবন কাহিনি চলাফেরা থেকে শুরু করে অতীত বর্তমান সকল বিষয় আমরা এই লাইব্রেরিতে বই পড়ে জানতে পারি।
লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার কয়েক প্রকার হয়ে থাকে যেমন জাতীয় গ্রন্থাগার, গণ গ্রন্থাগার, একাডেমি গ্রন্থাগার, বিশেষ গ্রন্থাগার, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, সামাজিক লাইব্রেরি ইত্যাদি এমন আরো অনেক লাইব্রেরি রয়েছে। জ্ঞানী লোকেরা বলেছেন জ্ঞান অর্জনের প্রধান দুইটি উপায় রয়েছে। একটি ভ্রমন করে পৃথিবীকে জানা অন্যটি বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা। ভ্রমণ করা যেহেতু ব্যয়বহুল একটি ব্যপার সেহেতু লাইব্রেরিতে বই পড়েই জ্ঞান অর্জন করা সব থেকে সহজ উপায়। জ্ঞানের পরিধি অনেক যা আমাদের এই ছোট্ট জীবনে পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব নয়, কিন্তু সম্পুর্ন রূপে না পারলেও যেটুকু সম্ভব সেই জ্ঞান আমরা অর্জন করার চেষ্টা করি। লাইব্রেরিতে বই পড়া মানুষের বুদ্ধিমতাকে বিকাশ করে।
বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে নির্দিষ্ট কিছু সিলেবাস পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা নেয়া হয়। আর শিক্ষার্থীরা সেই সিলেবাস অনুযায়ী নোট মূখস্ত করে পরিক্ষা দিয়ে তারা স্কুল জীবন পাড়ি দিচ্ছে। এখানে কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারলো না। অর্থাৎ শিক্ষকরা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পরিপূর্ণ ভাবে দিতে। তাই আমাদের স্কুল, কলেজ এবং ভার্সিটির আসে পাশে গণ গ্রন্থাগার বা স্কুল কলেজের অন্তর্ভুক্ত একাডেমি লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার করে দেয়া উচিত, যাতে করে আমরা সেখানে পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। বর্তমান সময়ে এখন লক্ষ করা যাচ্ছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি তৈরি করছে এবং অনেক বই সংগ্রহ করছেন। সেখানে সকল শিক্ষার্থীরা গিয়ে অবসর সময় কাটানোর জন্যে বই পরছে। এটা অনেক ভালো একটা সিদ্ধান্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের।
আমি আমার নিজের স্কুল জীবনে পরে আসা লাইব্রেরি নিয়েই বলতে পারি। আমার স্কুলে যখন পড়তাম আমাদের স্কুলের পাশেই ছিলো একটি পাবলিক লাইব্রেরি যেখানে সব শিক্ষার্থীরা গিয়ে বই পড়ার সুযোগ পেতো। আমরা প্রতিদিন টিফিনের সময় নাস্তা শেষ করে কয়েক জন বন্ধু মিলে লাইব্রেরিতে বসে পরতাম। এবং সেখানে গিয়ে বই পড়তে শুরু করতাম আমরা কেউ গল্পের বই নিয়ে বসতাম, কেউ বা নানা ধরনের বড় বড় ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে বসতাম। বই পড়তে পড়তে এক সময় টিফিনের ঘন্টা শুনতে পারতাম। তখন যার যার মতো বই গুলো গুছিয়ে সঠিক জায়গায় রেখে দিতাম। আর আসার আগে আমাদের নাম কখন আসছি কখন বেড়িয়ে যাচ্ছি সেই সময় লিখে আসতে হতো। লাইব্রেরিতে একজন ম্যাম থাকতো বসে, সে সব সময় এইসব কিছুর খেয়াল রাখতেন। এইভাবে আমরা প্রতিদিন লাইব্রেরিতে সময় কাটাতাম যখনি ক্লাস না হতো। এমন যদি প্রতিটা স্কুল কলেজের পাশে পাবলিক লাইব্রেরি বা একাডেমি গ্রন্থাগার হয়। তাহলে শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি বাহিরের অনেক মানুষ আছে যারা লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তে ইচ্ছুক তারা বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবে।
আবার আমার ভার্সিটিতে আসার পড়েই দেখতে পারি আমাদের ভার্সিটিতে অনেক বড় পরিসরে লাইব্রেরি রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার বই রাখা আছে। ভার্সিটির লাইব্রেরিতে সুন্দর পড়াশোনার জন্যে নিরিবিলি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সেখানে এতো সুন্দর শান্তিপ্রিয় পরিবেশ লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার মধ্যে অন্যরকম একটা শান্তি পাওয়া যায়। আমাদের ভার্সিটিতে ক্লাস গতানুগতিক ভাবে না হওয়ায় মাঝে আমরা অনেক অবসর সময় পাই। সেই সময়টাতে আমরা লাইব্রেরিতে গিয়ে বসে। এবং সেখানে অনেক প্রকার বই রাখা আছে। যার যে বই পছন্দ সেই বই নিয়ে বসে পরি বন্ধুরা মিলে। যে পর্যন্ত ক্লাসের সময় না হয় আমরা সেখানে বই পড়তে থাকি। বই পড়ার কোন বিকল্প নেই আমরা যত বই পরবো আমাদের জ্ঞান তত বিকাশিত হবে। মানুষ অসুস্থ হলে যেমন হসপিটালে যায় তেমনি আমাদের মস্তিষ্ক কে ভালো রাখতে লাইব্রেরিতে যাই।
বর্তমান যুবসমাজকে মাদকাসক্ত থেকে রক্ষা করার জন্যে বইপড়া খেলাধুলা করার কোন বিকল্প নেই। কারন সকল ছেলে মেয়েরা যদি এই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে সেই ছেলে মেয়ে কখনও বিপথগামী হবে না। তাই আমাদের স্কুল প্রতিষ্ঠানে এবং গ্রাম ভিত্তিক, থানা ভিত্তিক একাডেমি গ্রন্থাগার, গণ গ্রন্থাগার, সামাজিক গ্রন্থাগার, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইত্যাদি গড়ে তুলা আবশ্যক। এতে করে আমাদের যুবসমাজ সঠিক পথ খুজে পাবে।