শুক্রবারের আনন্দ

Words
473
Reading
3 min
Listen
Play
4y

IMG_20220707_182512.jpg

শুক্রবার মানেই তো আমাদের কাছে একটা আনন্দের দিন। আর সেটা যদি হয় গ্রামের বাড়িতে তাহলে তো কথাই নেই। হ্যাঁ এইবারের শুক্রবার টা আমার কাছে অনেকটাই ভিন্ন। কারন আজকের দিনটা গ্রামের বাড়িতে কাটাচ্ছি এবং সেটা আবার ঈদের ছুটি। এই শুক্রবারের আনন্দটার ভিন্নতা হয়েছে এই কারনে। প্রতিবারের মতো এই শুক্রবারেও আমরা পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায় করি গ্রামের সকলেই একসাথে। অনেক দিন পর গ্রামের সকলকে একসাথে দেখার একটি সুযোগ হয়ে গেলো আজকের এই দিনে। আর ঈদের ছুটি হওয়ায় শহরে যারা চাকরি করে এবং পড়াশোনা করে সবাই তাদের গ্রামের সকলের সাথে ঈদ কাটাতে ছুটে আসছে। ঈদের সময় প্রতিবারই যানবাহনে ভোগান্তিতে পরতে হয় আমাদের সাধারণ মানুষের তার পরেও কেউ ফিরে যায় নি। সবাই যেভাবে পারছে গ্রামে চলে আসতেছে ঈদের আনন্দ সবার সাথে মিলেমিশে কাটাতে।

আজকের এই দিনটা আমার কাছে অনেক বেশি স্বরণীয় হয়ে থাকবে। শুক্রবারের এই দিনটাতে আমাদের গ্রামের ছোটবড় সকলের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়ে গেলাম। আবার অনেকে শুক্রবার পবিত্র দিনে তাদের পরিবারের যারা মারা গিয়েছেন সকলের জন্য কবরস্থানে গিয়ে দোয়া করছেন। সব মিলিয়ে অনেক মূল্যবান একটি শুক্রবার আমরা আজকে পার করছি। এমনি হয়তো শুক্রবার পবিত্র দিনটি আমরা যার যার কর্মসংস্থানে পার করি। গ্রামে এসে এই দিনটা আমরা বেশি একটা কাটাতে পারি না। ঈদের ছুটিটা এইবার অনেক ভালো একটা সময়ে পেয়েছি সবাই। আজকেই ঢাকার অধিকাংশ মানুষ চলে আসবে গ্রামে। আজকের পর থেকে ঈদের ২ দিন অব্দি ঢাকা শহরটা একদম ফাকা হয়ে থাকবে। যা আমরা কখনও দেখি না ব্যস্ততম শহর একদম মানুষ বিহীন হয়ে যায়।

পবিত্র শুক্রবারে আজকে নামাজ শেষ করে গ্রামের সকল কে নিয়ে একটা মিটিং করলো কিভাবে কোথায় কোরবানি দিবেন বা গ্রামের সকল বিষয় নিয়েই সেখানে কথা হলো। আমিও সেখানে বসে মূল্যবান কথা গুলো শুনলাম। ঈদ আসলে যেনো আমাদের গ্রামের সকলে এক হয়ে যায়। এমনি যে যার মতো ব্যস্ত থাকলেও ঈদ আসলেই সকলে মিলে কি করলে ভালো হবে কখন নামাজ পরবেন ঈদের সব কিছু সবাই মিলে বসেই ঠিক করেন। আমার কাছে সকলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেক পছন্দের। আর সকলের মধ্যে ঐক্য রেখে এক সাথে কাজ করতে দেখলে সবার মাঝে অনেক আনন্দ ফুটে উঠে।

received_3310334745876922-01.jpeg

শুক্রবারে নামাজ শেষ করে আমরা সকল ভাই বন্ধু এক সাথে হয়েছি। এখন সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে বের হবো না তা কি হয় নাকি! সবাই আমরা এক সাথে হয়ে আসে পাশের গ্রাম ঘুরতে বেরিয়ে পরি। আর এই সুযোগে এলাকার সকলের কুরবানির গরু দেখাও হয়ে যায় আমাদের। যখন ছোট ছিলাম সবাই গ্রামে থাকতো কর্মজীবন শুরু হয় নাই, পড়াশোনার এতো চাপ ছিলো না, সবাই তখন এক সাথে এদিক সেদিক কতো ঘুরে বেড়াতাম। সেই দিন গুলা অনেক মিস করি। আজকে সেই দিন গুলো মনে হয় ফিরে পেয়েছিলাম। সবাই মিলে এক সাথে গল্প করতে করতে আশে পাশের সকল এলাকা ঘুরে বেড়ানো এক কথায় অনেক আনন্দদায়ক ছিলো। তার মাঝে অনেক দিন পর যারা গ্রামে আসছে ঈদের ছুটিতে তাদের সাথেও দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে।

এইভাবেই কেটে গেলো আজকে পবিত্র শুক্রবারের সারা টা দিন। আর মাত্র একদিন পরেই আমাদের পবিত্র ঈদুল আজহা সবাই সেই পস্তুতি নিতেই ব্যাস্ত। সবার জন্যে দোয়া ও ভালোবাসা সকলেই সুন্দর ভাবে সুস্থতার মাঝে ঈদ আনন্দ উপভোগ করুক।