ভার্সিটি জীবন মানেই স্মৃতি রঞ্জিত কিছু সময়। সময় টা হইতো খুব বেশি দিন না, মাত্র ৪টি বৎসর। যা দেখতে দেখতেই কিভাবে পার হয়ে যায় আমরা বুঝতেও পারি না। মনে হয় এইতো কিছু দিন আগেই ভর্তি হলাম ভার্সিটি। সব কিছুই ছিলো নতুন, কাউকেই ভালো ভাবে চেনা নেই জানা নেই সবই অচেনা। আজ সেই অচেনা মানুষগুলোই সৃতির পাতায় লিখে রয়েছে। অচেনা জায়গাটাও এখন পুরোনো হয়ে গিয়েছে। নতুন নতুন মানুষের আগমন ঘটেছে। কিন্তু আমাদের সেই প্রথম দিনের সেই নতুন মানুষ গুলোর মতো কাউকে গ্রহন করতে পারি না আর। সেই নতুন থেকেই নতুন মানুষদের সাথে মিশতে মিশতে এখন এমন ভাবে মিশে গিয়েছি। ভার্সিটি জীবনে এমন কিছু বন্ধু পেয়েছি যাদের কে আমরা ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারবো না। আমাদের বন্ধুদের নিয়ে যদি বলা শুরু করি সারাদিন বলেও শেষ করতে পারবো না। আমরা কতটা সুন্দর দিন কাটাতাম একসাথে। যেখানেই যেতাম যাই করতাম আমরা এই কয়েকজন বন্ধু মিলেই।
বন্ধুদের কথা বলতে গেলে এতো কথা যা বলে শেষ করা যাবে না। আমি মাঝে মাঝেই একা বসে চিন্তা করি জীবনে এমন কিছু বন্ধু আসছে বলেই আমার জীবন সার্থক। আবার ভার্সিটির শুরু থেকে কিছু শিক্ষকদের পেয়েছি যাদের হয়তো কখনও ভুলতে পারবো না। অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি। মোট কথা ৪টি বৎসরে জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি আবার হারিয়েছিও। তবে অর্জনের দিকটাই হইতো বেশি আমাদের। এতো কিছু পেয়েও এখন আমরা সবাই নিজেদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। সব কিছুই কেমন যেনো আবার হারিয়ে ফেলছি আসতে আসতে। এটাই নিয়ম জীবনের চলার পথে কিছু জিনিস নতুন করে পাবো আবার পিছনের কিছু জিনিস হারিয়ে ফেলবো।
ভার্সিটিতে প্রতিবছর টেক্সটাইল কার্নিভাল আনুষ্ঠানিক ভাবে করে থাকে। এটি একটি ডিপার্টমেন্ট এর পরিচিতি পর্ব বলা যেতে পারে। কার্নিভালে টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্টের নতুন ছাত্রছাত্রীদের বরন করে নেয়া হয়। সবার সাথে সবার পরিচয় হয়। নানা ধরনের খেলাধুলা আয়োজন করা হয়। এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। এখানে আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যার থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা নানা ধরনের অভিনয় করে থাকেন। আমরা প্রথম যে কার্নিভাল টা শুরুতে এসে পেয়েছিলাম সেটা অনেক বড় পরিসরে করা হয়েছিলো। প্রথমবার অনেক আনন্দও করা হয়েছিলো সবাই মিলে। এর পর আমরা আর তেমন ভাবে কার্নিভালে অংশগ্রহণ করতাম না। সেই প্রথমবারের মতো করে আর করাও হয় নি আমাদেরও যাওয়া হয় নি। তবে এইবার আমাদের ভার্সিটি জীবন শেষ করে ফেলেছি। এখন কার্নিভালের সবার মধ্যে আনন্দ দেখে আমাদের সেই আগের দিন গুলোকে অনেক মনে করছি। খারাপও লাগছে কারন আমাদের বন্ধুদের সকলেই এখন আমরা ব্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
ক্যাম্পাসে গিয়েই দেখতে পেলাম সবাই কার্নিভালে আয়োজিত খেলাধুলায় অংশ নিয়ে ক্রিকেট খেলছে কেউ বা ফুটবল আরও কয়েক ধরনের খেলায় সবাই ব্যস্ত। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারী কার্নিভাল অনুষ্ঠান কিন্তু আমরা কেউ নেই। এখন নতুন ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করবে আনন্দ করবে। হয়তো আমরা একটি সময় এইসব প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু এখন সবই মনে হলেই কষ্ট পাই। এখন ইচ্ছে করে আবার সেই ভার্সিটির নতুন দিনের মতো করে আনন্দ করতে, সেই দিনে ফিরে যেতে। কিন্তু এখন তো আর সেটা সম্ভব হয়ে উঠবে না। সময় কারো জন্যে অপেক্ষা করে না। সময় তার নিজের গতিতে চলছে। আর আমাদের সময় গুলোও এভাবে ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে।