একটা সময় ছিলো দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নাটকের জন্য বিখ্যাত ছিলো। বাংলাদেশের নাটকের সুনাম ছিলো অনেক বছর আগে থেকেই। গ্রাম বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা মানুষের জীবন ধারনের পূর্ণ রুপ নিয়েই বাংলাদেশের নাট্য শিল্পীরা নাটক তৈরি করতো।
কিন্তু বর্তমানের নাটক সেই আগের নাটকের থেকে অনেক টায় ভিন্ন হয়ে গেছে। নিজেদের সংস্কৃতি থেকে অনেক টায় যেন দুরে সরে যাচ্ছে। বাইরের দেশের সংস্কৃতি ধারন করছে বর্তমান নাট্য শিল্পীরা। এমন কি অশ্লীল শব্দোচ্চারণের পাশাপাশি অনেক অশ্লীল অভিনয় হয়ে থাকে।
বর্তমানে সেটা যেন আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। তরুণ অভিনেতাদের বেশীর ভাগ নাটকেই যেন অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। যা তরুণ প্রজন্মের জন্য খুবেই ভয়াবহ রূপ ধারন করছে। কারন এই সব নাটক তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরাই দেখে থাকে বেশি।
স্মার্ট ফোনের সুবিধার্তে এখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েটাও নাটক, সিনেমা বা যখন যা ইচ্ছে তাই দেখতে পাচ্ছে। যার ফলে তরুন প্রজন্মের মাঝেও এসব অশ্লীল শব্দোচ্চারণের পাশাপাশি খারাপ অনেক কিছুই ধারন করছে। যা সমাজের জন্য খুবেই ভয়াবহ অবস্থা হবে এবং হচ্ছে।
একটা সময় ছিলো আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন বিটিভে নাটক দেখতাম। আমি যখন খুবেই ছোট ছিলাম তখন আমাদের বাড়িতে একটা সাদা কালো টিভি ছিলো। সেই টিভি টা নাকি আমাদের গ্রামের প্রথম টিভি। বাবার মুখে শোনেছি যে আশে পাশের সব বাড়ির মানুষ এসে পরতো যখন টিভি দেখানো হত।
যখন বাংলা নাটক বা সিনেমা হতো তখন নাকি পুরো বাড়ি ভরে যেত মানুষে৷ তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা সাবলীল সুন্দর অভিনয় হলে পরিবার সহ সবাই একসাথে নাটক দেখা যেত। আমি নিজের চোখেই দেখেছি আমাদের দাদুর রোমে একটা টিভি ছিলো। সেখানে যাখন নাটক দেখানো হত তখন আমার ভাই বোন বাবা সবাই একসাথে বসে নাটক দেখেছি৷
চালের গুড়ো করে, মুড়ি মাখিয়ে বা বাদাম সামনে নিয়ে সবাই একসাথে বসে নাটক দেখেছি। আর সেই সময় টাতেই বাংলাদেশের নাটকের স্বর্ন যুগ গিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর রুপ পুরোটাই ভিন্ন। এখন কার বেশিরভাগ নাটকেই পরিবার সহ দেখার মতো অবস্থা নেই৷ বা নাটক থেকে শেখার মতো কিছুই পাওয়া যায় না।
তবে এখনো কয়েকজন শিল্পী রয়েছেন তারা এখনো চমৎকার সুন্দর শিক্ষনীয় নাটক করে থাকেন। চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান, বাবু, ফারুক আহমেদের মতো আরো অনেক অভিনেতারা সুন্দর সুন্দর নাটক উপহার দিয়ে থাকেন দর্শকদের।
তাছাড়া আফরান নিশো, অপুর্ব, মুশফিক ফারহান, মেহজেবিন চৌধুরী, তানজিন তিশার মতো অনেকেই আছেন তারাও অনেক জনপ্রিয়তা কামিয়েছেন।
তবে তারা হয়তো সেই আগের বাংলা নাটকের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে নাই। বাহ্যিক সংস্কৃতির যে অপব্যবহার হচ্ছে নিজেদের দেশে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশেও হয়তো তাদের সেই পুরনো ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি হারবে।