বৃষ্টি বিলাস

Words
365
Reading
2 min
Listen
Play
4y

IMG_20220729_214331.jpg

বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা, কিন্তু বাইরের আবহাওয়া দেখে বোঝার উপায় নেই দুপুর হয়েছে। চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে, কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে সাথে মেঘের গর্জন ও গুরু হয়ে গিয়েছে। এই বুঝি নামবে বৃষ্টি। এদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে বৃষ্টি নামার আগের সব প্রস্তুতি, কেউ ব্যাস্ত রোদে শুকানো কাপড় তুলবে বলে,কেউ ব্যাস্ত মাঠের গরু বাড়ি নিয়ে যাবে বলে, কেউবা ব্যাস্ত তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঘরে তুলবে বলে, পাখিরা ব্যাস্ত তার নিরাপদ আশ্রয় স্থানে যাবে জন্য। আর আমি অলস ব্যাক্তি ছাদে বসে সবার ব্যাস্ততা দেখছি, আর বৃষ্টি নামার অপেক্ষায় বসে আছি।

বাইরের প্রকৃতি দেখতে ভালই লাগছে। ঝড়ো বাতাসে শরীরটা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। কিন্তু বেশিক্ষন আর প্রকৃতি উপভোগ করা হলো না। বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। তাড়াতাড়ি করে রুমে চলে আসলাম। রুমে আসার পর বাইরের ঝুম বৃষ্টি দেখে মনকে আর স্থির রাখতে পারলাম না। মনটা খুব করে চাচ্ছিল বৃষ্টিতে ভিজি। অনেক দিন বৃষ্টিতে ভেজা হয় না। শেষ কবে বৃষ্টিতে ভিজেছি মনে পড়ে না। ছোটবেলায় কতনা বৃষ্টিতে ভিজেছি। এখন আর ভেজা হয় না। ছোটবেলার দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়তেছিলো। সবাই মিলে দলবেধে কতই না বৃষ্টিতে ভিজেছি। কতইনা আনন্দ লাগতো তখন।

IMG_20220728_134622_Bokeh (1).jpg

তাই ভাবলাম বৃষ্টিতে ভেজার আজকেই সুযোগ দুপুরবেলা গোসলও করা হয়নি। একবার মনে হচ্ছিলো বৃষ্টি ভিজলে যদি আবার ঠাণ্ডা লাগে তাহলে আবার বিপদ। কারণ আমার আবার একটু ঠান্ডার এলার্জি আছে, অল্পতেই ঠাণ্ডা লেগে যায়। তারপর ভাবলাম যতকিছুই হক আজকে বৃষ্টিতে ভিজবো, আজকে আর মনকে ধরে রাখতে পারছি না। সব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে চলে গেলাম বাইরে বৃষ্টি ভিজবো বলে।

বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে সেই ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে গেলো। ছোটবেলায় কতইনা মজা লাগতো বৃষ্টিতে ভিজতে। তখন বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক উৎসাহ কাজ করতো আনন্দ লাগতো। তখন ছোটোবেলার খেলার সাথীরা মিলে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজতাম, সবাই মিলে একসাথে খেলাধুলা করতাম, দৌড়াদড়ি করতাম। কিন্তু কালকে যখন একা একা বৃষ্টিতে ভিজতে গেছি, তখন মনে হলো ছোটবেলা টাই অনেক ভালো ছিল। তখন যা করতাম সেটাতেই ভালো লাগতো। আর এখন আগের মত সব কিছুতে আনন্দ লাগে না, সব সময় নানান চিন্তা ভাবনা মনের ভিতর ঘুরপাক খায়।

IMG_20220728_134239 (1).jpg

তো যাই হোক বৃষ্টি ভিজতে ভালই লাগতেছিল, অনেক দিন পর বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছাটা পূরণ হলো। তারপর চিন্তা করলাম বৃষ্টিতে ভেজার মুহুর্ত গুলো ক্যামেরা ফ্রেমে বন্দি করা যেতে পারে। এরকম আর কখনো সুযোগ বা সময় হবে কিনা জানা নেই। তাই ছোট ভাইকে ডাক দিয়ে বললাম কিছু ছবি তুলে দিতে। এই ছবি গুলোই একসময় স্মৃতি হয়ে থাকবে।