বিবাহ একটি পবিত্র বন্ধন। একজন ছেলে ও একজন মেয়ে একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কয়েক বছর আগেও বিবাহ বিচ্ছেদটা অস্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এটা এখন স্বাভাবিক একটা বিষয় হয়ে গেছে। বিবাহ বিচ্ছেদকে সবাই এখন খুবই সামান্য বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু এই বিবাহ বিচ্ছেদ আল্লাহতালার কাছে সবচেয়ে অপছন্দের আর শয়তানের কাছে সবচেয়ে পছন্দের। একটা ছেলেমেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।
বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য অনেক কারণ জড়িত। এক একজনের এক এক কারণে সংসারে ফাটল ধরছে। বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণ হিসাবে আমি মনে করি, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধের অভাব। এছাড়াও একে অপরকে সন্দেহ করা, অন্য আর একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, অতিরিক্ত দেনমোহর ধার্য্য করা, যৌতুক ইত্যাদি কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে থাকে। তবে এখন বিবাহ বিচ্ছেদ অধিকাংশ নারীদের কারণে হয়ে থাকে। পুরুষদের কারণে যে হয় না সেটা বলতেছি না। পুরুষদের কারণে ও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়, কিন্তু সেটা তুলনামূলক ভাবে কম।
এইতো মাসখানেক আগে আমার এক কাছের বন্ধুর বিয়ে হয় খুব ধুমধাম করে। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী খুব হাসিখুশি থাকলেও বিয়ের ৩-৪ মাসের মাথায় তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তার স্ত্রী তাকে নানান দিক থেকে সন্দেহ করে,তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। ছেলের পরিবারে সবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে। বিয়ের ৬ মাস যাইতে না যাইতে এক পর্যায়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
আবার আমার গ্রামের আর এক বন্ধুর বিয়ে হয়। তবে তার বিয়েতে অনেক টাকা দেনমোহর ধার্য্য করা হয়। বিয়ের কয়েক মাস পরে শুনি তাদের নাকি বিবাহ বিচ্ছেদ হবে। পরে শুনতে পারি মেয়ে ছেলের সাথে ভালো ব্যবহার করে না, ছেলের পরিবারের সাথে ভালো ব্যাবহার করে না।এক পর্যায়ে মেয়ে তাদের সম্পর্ক রাখতে চায় না। বিবাহ বিচ্ছেদ এখন সবাই খুব স্বাভাবিক বিষয় মনে করে। বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আমাদের চারপাশে এখন অহরহ।
এখন অধিকাংশ নারীরা মমতাময়ী মা হয়ে, ঘরের এক কোণায় শুধু সংসার করতে চায় না। নারীরা এখন ছেলেদের সাথে কাধে কাধ রেখে এগিয়ে যেতে চায়। অনেক পরিবারে এখন স্বামী স্ত্রী উভয়েই চাকরি করে। দু জনেই তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। অনেকে সন্তান নিতে চায় না, সন্তানকে ঝামেলা মনে করে। আবার সন্তান হলেও দুজনেই চাকরি নিয়ে ব্যাস্ত। তাদের সন্তান বেড়ে ওঠে অবহেলায়। এক পর্যায়ে ঐ পরিবারে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর ফলে তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। মূলত এর প্রভাব পড়ে সন্তানের উপর।
বিবাহ বিচ্ছেদের আর একটি কারণ হচ্ছে বিশ্বাস এর অভাব। একটা সম্পর্ক টিকে থাকার মূল মন্ত হচ্ছে দুজন দুজনের প্রতি বিশ্বাস রাখা। একজন আর একজনকে বিশ্বাস না করলে ঐ সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করা অসম্ভব। আর স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সম্মান করা, যেটা এখন নাই বললেই চলে। একে অপরের প্রতি সম্মান করা একটা সম্পর্কের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী স্ত্রী দুইজনেরই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রোদ্ধাশীল হওয়া উচিত।
একটা সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ধৈর্য্য ও একে অপরকে বোঝা, একে অপরকে বিশ্বাস করা খুব জরুরি। বিবাহ বিচ্ছেদ কোনো মঙ্গলকর কাজ নয়,কোনো ভালো কাজ নয়। আমার মনে হয় একটা পরিবারের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা থাকা অনেক জরুরি। একজন মানুষের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান থাকলে স্বাভাবিক ভাবে সে এত সব জঘন্যতম কাজ করতে পারবে না। স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রতি পারস্পরিক মর্যাদা থাকা প্রয়োজন। বিবাহ বিচ্ছেদ নয়, স্বামী স্ত্রীদের সম্পর্ক অটুট থাকুক আজীবন।