পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজ চলাফেরা সর্বক্ষেত্রেই আমরা এখন ইন্টারনেট দুনিয়ার উপর নির্ভরশীল। ভার্চুয়াল জগতের যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। মেডিসিন ব্যাবহার করে যেমন মানুষের প্রাণ বাঁচানো যায় তেমনি মেডিসিনের অপব্যবহারে মানুষের মৃত্যুও ঘটে। তাই আশক্তিহীন ভাবে ভালো দিকগুলোর ব্যাবহার করতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু আমরা দিন দিন ভার্চুয়াল দুনিয়াতে অনেক বেশি আসক্ত হয়ে যাচ্ছি। দিন দিন এইগুলো আমাদের জীবনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আমরা এখন এতটা আসক্ত হয়ে গেছি যে কোনো কারণ ছাড়া অকারণেই সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব বা ইন্টারনেট দুনিয়াতে পরে থাকি। একটা মেসেজ বা নোটিফিকেশন চেক করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা পাড় হয়ে যায় বুঝতেও পারি না। মোবাইল ফোন থেকে একটু দূরে থাকলে পড়তে বসলে বা অন্য কোনো কাজে ব্যাস্ত থাকলেও বার বার আমাদের মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো নোটিফিকেশন বা মেসেজ আসলো কি না। আর যদি একটা বার সেটা চেক করতে যাই তাহলে তো আর দিন দুনিয়ার কথা খেয়ালই থাকে না। আর এখনতো অনলাইন গেমস তরুণ সমাজে মহামারী আকার ধারন করেছে। গেমস নিয়ে তারা এখন ঘণ্টার পর ঘন্টা ব্যায় করে দিচ্ছে।
মানুষের মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামে এক ধরনের কেমিক্যাল প্রতিনিয়ত নিঃসরিত হয়। হঠাৎ কোনো ভালো কিছু তার সামনে আসলে যেটা সে প্রত্যাশা করে নি তখন ডোপামিন আরো বেশি নিঃসরিত হতে থাকে। তার মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে এবং ব্রেইন তখন ঐ মুহূর্ত গুলো বার বার খুঁজতে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই ডোপামিন এবং ভালোলাগার সাময়িক অনুভূতি গুলোকে বার বার ফিরে পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা এটাই হচ্ছে আসক্তি। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এখন ভার্চুয়াল ভাইরাসে আসক্ত। মাদক আসক্তি যেমন আমাদের জন্য ক্ষতিকর তেমনি ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি আমাদের মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।
এই জেনারেশনের ছোট শিশুরাও এখন এই ভাইরাসে আসক্ত। আমাদের ছোটবেলায় আমরা মাঠে খেলাধুলা করতাম, দৌড় ঝাঁপ করতাম। কত রকমের খেলা খেলতাম তার কোনো শেষ নেই। আর এখনকার জেনারেশনের ছোটবেলা শুরু হয় মোবাইল ফোন ইন্টারনেট আর ইউটিউব দিয়ে। তারা এখন ইউটিউব ছাড়া কিছুই বোঝে না। কোনো কিছু জানুক বা না জানুক ইউটিউব এর নারীনক্ষত্র খুব ভালো করে জানে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিচয় ও তা থেকে প্রেম এর ঘটনা অহরহ। এদের অধিকাংশ সম্পর্ক তারা টিকিয়ে রাখতে পারে না। এদের সম্পর্ক সোশ্যাল মিডিয়াতে তৈরি হয় আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই শেষ হয়ে যায়। কারণ ভার্চুয়াল জগতের মানুষ আর বাস্তব দুনিয়ার মানুষের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একজন তরুণকে যতটা প্রেমিক পুরুষ মনে হয় বাস্তবে সে হয়তো ততটা নয়। আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে একজন তরুনীকে যতটা সুন্দরী লাগতে পারে বাস্তবে সে ততটা নাও হতে পারে। এছাড়াও পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি হওয়ার মতো নোংরামি কার্যকলাপও এই ইন্টারনেট দুনিয়াতে হয়ে থাকে।
নিজেকে সংযত রেখে আসক্তিহীন ভাবে ইন্টারনেট এর ভালো দিক গুলো ব্যাবহারে কোনো আপত্তি নেই। তাই আসুন আমরা সবাই এই বিষয়ে সচেতন হই। আমাদের পরিবার, সন্তান, আশেপাশের সকলকে সচেতন করে তুলি।