আমাদের মানব শরীর বলতে আমরা যা বুঝি শুধু রক্তে মাংসে গড়া কাঠামো নয়। এর পাশাপাশি আরো একটি ভাগ যেটা হলো আমাদের মন বা মানসিক স্বাস্থ্য। আমাদের শারীরিক রোগ নিয়ে আমরা কতশত জায়গায় চলে যাই ডাক্তার দেখাই এবং পরিক্ষা করি ঔষধ খেয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের ভিতরে থাকা মানসিক রোগ নির্ণয় করার কোন যন্ত্র না থাকায় আমরা মানসিক কোন রোগকে গুরুত্ব দেই না। সমাজে এই মানসিক রোগ নিয়ে গুরুত্ব দেয়া মানে সবার কাছে শুনতে হবে পাগল। কিন্তু আমরা এটা জানি না যে পৃথিবীতে প্রতি চার জন মানুষের মধ্যে একজন কোন না কোন ভাবে এই মানসিক রোগে ভুগছেন। সাধারণত মানসিক রোগ অনেক ধরনের হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম বা প্রধান হচ্ছে ডিপ্রেশন।
ডিপ্রেশন কি? এর মানে হলো, হঠাৎ করে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা ঘটনায় আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। আর এটা হওয়াটা আমাদের স্বাভাবিক । কিন্তু যদি এই মন খারাপ হওয়ার স্থায়িত্বটা বেশি দিন হয়ে যায়, তাহলে আমরা এটাকে ডিপ্রেশন বলতে পারি। ডিপ্রেশন অনেক ধরনের হয়ে থাকে এর মধ্যে দুইটি বিশেষ ধরনের ডিপ্রেশন হলো ১. Endogenous Depression, ২. Exogenous Depression. এই দুইটি আমরা বেশি দেখে থাকি। Endogenous depression হলো আমরা যে সব ডিপ্রেশনের পেছনে কোন কারন খুজে পাইনা। আর যে ডিপ্রেশনের নিদিষ্ট ঘটনা বা সমস্যা থাকে তাকে বলা হয় Exogenous depression.
ডিপ্রেশনের ভয়াবহতা আমাদের দেশে এখন অনেক বেশি। বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে ২০১৮ সালে গবেষণায় দেখা যায় আমাদের দেশের শতকরা ৬.৭% মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছে। ডিপ্রেশন একজন মানুষকে শারীরিক ভাবে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। পৃথিবীতে এমন মানসিক রোগের মধ্যে ডিপ্রেশন চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সাধারণত লিঙ্গভেদে ডিপ্রেশনের ভিন্নতা দেখা যায়। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের দুইগুণ বেশি আক্রান্ত থাকে। এর কারন হিসেবে দেখা যায় মেয়েরা সাধারণত তাদের কষ্টের অনুভূতি গুলো কারো কাছে বলে না মনের ভিতর চেপে রেখে দেয়। যা ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে রুপ নেয়। কিন্তু ছেলে দের কম হওয়ার পিছনে কিছু কারন দেখা যায়। ছেলেরা কখনও তার কষ্টের কথা কাউকে বলতে চায় না। এর কারনটি হলো সমাজে প্রচলিত রয়েছে ছেলেদের কখনও কষ্ট পেতে নেই, কষ্ট পাওয়া কান্নাকাটি করা এগুলো তো মেয়েদের কাজ। এর জন্যে ছেলেরা ডিপ্রেশনে থেকেও কখনও তা প্রকাশ করতে পারে না।
উপরের তো সব জানতে পারলাম ডিপ্রেশন আমাদের মাঝে কোন পর্যায়ে চলে গিয়েছে। বর্তমানে দেখা যায় আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষই ডিপ্রেশন চলে যায়। এর শেষ পরিনতি অনেক সময় দেখা যায় সুইসাইড করে ফেলে। ডিপ্রেশনের ভয়াবহতা অনেক বেশি হয় যখন তার আশেপাশের মানুষ তাকে বুঝতে না পারে। যখন একটা মানুষ সবার কাছে বলবে তার কিছু ভালো লাগছে না মাথায় সমস্যা ব্যাথা হচ্ছে। তখন আমাদের আশেপাশের সকলের তার সমস্যাটা ডাক্তারের কাছে নিয়ে দেখাতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলেই দেখা যাবে একজন ডিপ্রেশনের রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছেন। এর পর থেকে তার জীবন যাত্রা আগের মতো ফিরে পাবেন। এমন নয় যে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত শুধু নিদিষ্ট কিছু ব্যক্তি হয়। এটা সকলের হতে পারে জীবনে চলার পথে যে কোনো সময় আমরা ডিপ্রেশনে পরতে পারি। তাই আমাদের আশেপাশের ডিপ্রেশনে থাকা মানষটিকে অবহেলা না করে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাই।