দূর্ঘটনা নামটি মনে হয় আমাদের রক্তের সাথেই মিশে গেছে। দূর্ঘটনা কথাটি প্রতিদিন শুনতে শুনতে এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, এখন দূর্ঘটনার কথা শুনলে মনে হয় এটা কিছু না নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা পত্রিকার কাগজ খুললেই হেডলাইনে বড় লেখায় দেখতে পাই, দেশের অমক জায়গায় এই দূর্ঘটনায় এতো জন মারা গেছে, আর এক জায়গায় এতো জন মারা গেছে। টেলিভিশন চালু করতে না করতেই খবর শিরোনামেই বলতে শুনি আজকে এতো জন মারা গেছে এই এই দূর্ঘটনায়। আমাদের দেশে এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কতো মানুষ তাদের আত্মীয় স্বজন বাবা মা ভাই বোন কে হারাচ্ছেন এই দূর্ঘটনায়। এমন কি অনেক পরিবার আছে যারা একদম নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। যেমন একটা পরিবারে যদি এমন একজনই থাকে যে ঐ পরিবারটা চালাচ্ছেন, সেই ব্যক্তি যদি দূর্ঘটনায় চলে যায় না ফেরার দেশে, সে পরিবারে আর কি থাকে । এমন অনেক পরিবার আছে আমাদের দেশে যারা তাদের পরিবারের সেই মানুষকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে।
এখন দূর্ঘটনা বলতে আমরা রাস্তাঘাটের গাড়ির দূর্ঘটনা বলতে পারি না কারন আমাদের দেশে নানা ভাবে দূর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছেন। কিন্তু এটা মেনে নিতে হবে যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত আমাদের দেশে তুলনামূলক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে কিছু দিন যেতে না যেতেই অমক জায়গায় আগুন লেগেছে। আগুন লেগে এতো জন মানুষ মারা গেছে। এইভাবে কতো যে শুনতে হচ্ছে আমাদের দূর্ঘটনার কথা। এইতো দু-এক দিন আগেই তো আমাদের দেশে চট্টগ্রামে কতো বড় একটা অগ্নিকান্ডের মর্মাহত ঘটনা ঘটে গেলো। কতো মানুষের জীবন চলে গেলো এই দূর্ঘটনায়। এই মর্মাহত দৃশ্য দেখলে যে কারও চোখে পানি চলে আসবে। আগুনে পুড়ে কত মানুষের অস্তিত্বই খুঝে পাওয়া যায়নি। আবার যারা বেচেঁ আছে তাদের কষ্ট দেখলে গা শিওরে উঠে। হসপিটালের ফ্লোরে অসহায় ভাবে পরে আছে তাদের শরীরের ব্যাথার যন্ত্রণা নিয়ে। কি এক দূর্ঘটনা! একটা মুহুর্তের মধ্যে সব উলটপালট হয়ে গেলো। কতো পরিবারের স্বপ্ন পূরনের হাতিয়ার, সেই মানুষদের হাড়িয়ে ফেললো এই দূর্ঘটনায়। এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত ঘটে আসা খবরের পাতায় পড়ে আসা আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এইতো দুইদিন আগের ঘটনা। আমাদের ভার্সিটি জীবনের একজন ম্যাম সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। এই খবর টা শুনার পর কেমন যেনো ভিতর থেকে একটা ধাক্কা খেয়ে থমকে গেলাম। আমার ভার্সিটি জীবনের প্রথম ক্লাসটা ছিলো এই ম্যামের। যার কথা বার্তা ব্যবহার সব দিক থেকে অনেক ভালো ছিলো, অনেক ভালো পড়াতো আমাদের। আমরা সবাই তাকে অনেক সম্মান করতাম। এবং পরে ওনার বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনে বৈজ্ঞানিক পদে চাকরি হয়। এই জন্যে আমাদের ভার্সিটির চাকরি ছেড়ে দেন। ম্যাম উনার অফিসে যাওয়ার পথে এক মর্মাহত সড়ক দুর্ঘটনা হয় এবং সাথে সাথেই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু সে আর বেচে ফিরতে পারেনি আমাদের মাঝে। ম্যাম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এটা শুনে আরো বেশি খারাপ লাগে। কতো স্বপ্ন ছিলো তাদের, কত ইচ্ছে ছিলো, সব এক মুহুর্তে হারিয়ে গেলো। কি এক দূর্ঘটনা একটা পরিবার কে ধংস করে দিলো। যেখানে শুরু হতে নিছিলো একটা নতুন পরিবার, নতুন একটা মানুষের। একটা দূর্ঘটনা সব ধুলোয় মিশিয়ে দিলো।
এইভাবে আরো কতো মানুষ কত ভাবে চলে যাচ্ছেন এই দূর্ঘটনায় তা বলে শেষ করা যাবে না। এতো দূর্ঘটনা হচ্ছে নেই কোনো আইন ব্যাবস্থা, নেই কোনো বিচার, নেই কোনো জবাবদিহিতা। দূর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে সেটা এই অবধি শেষ একদিন পরেই আমরা সব ভুলে যাই। কিন্তু একটা পরিবার তো পারে না পরিবারের সেই মানুষটাকে ভুলে যেতে। পারে না সেই মানুষটাকে ফিরে পেতে। আমাদের দেশে এই দূর্ঘটনার মরন মেলায় আমাদের জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই। আমরা এখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসবো তাতেও ভয় হয় কখন কোন দূর্ঘটনার কবলে পরে যাই। আমাদের এই দেশে কেউ পারে না কারো নিরাপত্তা দিতে এমন এক দেশে আমরা বসবাস করি। কিন্তু তার পরেও আমাদের যতোটা সম্ভব নিরাপদে থাকতে হবে এবং সাবধানে চলাফেরা করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করুন, নিরাপদে রাখুন।