ইউরোপ সেরা রিয়াল, লস ব্ল্যাঙ্কোসদের ঘরে এল ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা 🏆
"আসি গানা এল মাদ্রিদ" কথা টা অবশ্যই শোনে থাকতে পারেন। এটা হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্তকদের সেই অমর বাক্য। আর সেই বাক্য টা তখনই সবচেয়ে বেশি শোনা যায় যখন কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে রিয়াল মাদ্রিদ৷ কারন তারা বলে, তারা জানে, তারা সব সময় ভাবে তারা রিয়াল মাদ্রিদ কখনো ফাইনাল হারে না। আর এই কথা টার মানেও এটায় যে তারা এভাবেই জেতে। আর তাই তো একটা সাদা মাটা দল নিয়ে কিভাবে ইউসিএলের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো? শুধু তাই নয় বর্তমান ফুটবলের সব শক্তিশালী দল গুলোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো। পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসির মতো বর্তমান ফুটবলের সব শক্তিসালী দল গুলোকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তাও এ-ওয়ে ম্যাচে পিছিয়ে পরেও অসম্ভব কাম বেক করে। সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির সাথেই ম্যাচ টার কথাই ভেবে দেখেন না। এ-ওয়ে ম্যাচে ১-০ গোলে হারার পর আবার নিজেদের মাঠেও প্রথমেই ১ গোল হজম করে ফেলে। দ্বিতীয়ার্ধে তাও কি অসম্ভব কাম বেক টায় না করে যা ফুটবলের পাতায় ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এমন কি ফাইনালেও রিয়াল মাদ্রিদকে কেউ হট ফেভারিট হিসেবে ধরেনি। অপ্রতিরোধ্য লিভারপুলের সামনে পাত্তায় পাবে না এমনটায় শোনা যাচ্ছিলো।আর বলবেই না কেন? অসম্ভব ভালো খেলতে থাকা লিভারপুল তাদের সর্বশেষ ১৮ ম্যাচের কোনেটিতেই হারেনি৷ এই তো পুরো ম্যাচে একদম দাপট দেখিয়ে খেলে গেছে লিভারপুল কিন্তু চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। ১-০ গোলে ম্যাচ টা জিতে নেয় তারা অথচ পুরো ম্যাচ জুরে আধিপত্য দেখিয়েছে লিভারপুল। পুরো ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ শুধু ৪ টি শট নেয়। আর অন্য দিকে লিভারপুল নেয় ২৪ টি শট। আর রিয়াল মাদ্রিদের শট অন টার্গেট ছিলো মাত্র ২ টি৷ আর এর একটিতেই গোল। অন্য দিকে ৯ টা শট অন টার্গেট নিয়েও একটাও গোল করতে পারেনি লিভারপুল। সালাহ, সাদিও মানেদের একের পর এক কঠিন আক্রমণ আটকিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ গোল পোস্টের " দা ওয়াল" কর্তোয়া। এই ম্যাচে তিনি একাই সেভ দিয়েছেন ৯ টি যা চ্যাম্পিয়ন লিগের ফাইনালের ইতিহাসে এটায় সর্বোচ্চ। তাই নিতান্তই ম্যাচ সেরার পুরস্কার টা তার হতেই ওঠেছে এমন কি টুর্নামেন্ট সেরা পুরস্কার টাও। আর হবেই না বা কেন ?
এই টুর্নামেন্ট তিনি ৬১ টি সেভ দিয়েছেন অন্য দিকে লিভারপুলের গোলরক্ষক এলিসন বেকারের মাত্র ১৫ টি সেভ দিয়েছেন। সুতরাং বলাই যাচ্ছে অতি দানবীয় পারফরম্যান্স করে রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষন ভাগের নিউক্লিয়াস হয়ে ছিলেন তিনি। তাছাড়া করিম বেনজেমা, ভিনিয়াস জুনিয়র, লুকামডরিচ , ইসকো তারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে শিরোপা জয়ে। করিম বেনজেমা, ভিনিয়াস জুনিয়র পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অতি দানবীয় পারফরম্যান্স করেছেন। আর শিরোপা জয়ে তারাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আর তাই তো ব্যালন ডি’র নিজের নাম টা শক্ত করেই পাকাপোক্ত করে ফেললেন করিম বেনজেমা। সম্ভবত সেরা তিনে ভিনিয়াস জুনিয়রও থাকতে পারেন।
IMG
করিম বেনজেমা, ভিনিয়াস জুনিয়র, লুকা মডরিচ, টনি ক্রুস, ইসকো, কর্তোয়াদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ১৪ তম চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজেদের করে নেয়। যা শুধু ফুটবল ক্লাবের ইতিহাসে একমাত্র ক্লাব হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের আছে। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে যার ধারে কাছেও কোনো দল নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্রফি আছে শুধু এসি মিলানের তাও রিয়াল মাদ্রিদের অর্ধেক। সুতরাং বলাই যাচ্ছে ইউসিএল যেন নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ ট্রফির মুকুট নিয়ে রাজা আরো কত ট্রফি জিতবে ফুটবল পাড়ায় আরো কত ইতিহাস রচনা করবে সেটাই শুধু এখন অজানা।