পরীক্ষার মানেই টেনশন আর অতিরিক্ত চাপ। সেটা ফাইনাল পরীক্ষা হোক কিংবা মিডটার্ম পরীক্ষা হোক। তবে সেটা সবার জন্য কিনা জানি না। কিন্তু আমার যখন কোনো পরীক্ষা আসে সেই পরীক্ষার টেনশনে আমার খাওয়া ঘুম কোনো কিছুই ঠিক মতো হয়না। তারপরেও যখন শেষ পরীক্ষা টা এসে যায় তখন কেন জানি আমার অনেক টায় টেনশন কমে যায়। ভিতর থেকে কেমন যেন একটু প্রশান্তি আসতে শুরু করে।
এই তো আমার এখন সেমিস্টার ফাইনাল চলতেছে। আগামী কাল আমার শেষ পরীক্ষা। কিন্তু আমার তেমন টেনশন হচ্ছে না বা পড়ার জন্য তেমন চাপও নিতে ইচ্ছে করছে না। ইচ্ছে করছে না, বললে ভুল হবে তবে এটা বলা যায় যে, ইচ্ছে হলেও পড়া হচ্ছে না। কারন টা কি জানেন? সেটা হল ফাইনাল পরীক্ষার পর বাড়ি যাওয়ার আনন্দ। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই মনে মনে বাড়ি যাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা তৈরি হতে থাকে। অনেক দিন বাড়ি না যাওয়ায় বাড়ির প্রিয় মানুষ, প্রিয় জায়গার মুহুর্ত গুলো সারাক্ষণ পিছু টেনে রাখে। যার ফলে এই বাড়ি যাওয়ার প্রতি তীব্র আকাঙ্খা টা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। ।
ভার্সিটিতে ওঠার পর থেকেই সেই প্রিয় জন্ম ভূমি, সেই মাতৃকার প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে তেমন থাকা হয়না। থাকা হলেও সেটা ইদ বা সেমিস্টার ফাইনাল কিংবা মিডটার্মের পরেই সেখানে যাওয়া হয়। তাও অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু এবার আমাদের প্রায় এক মাসের ছুটি। ভার্সিটিতে ওঠার পর থেকে কখনোই এত দিনের ছুটি পায়নি আমরা।
পরীক্ষা শেষ হতেই শুরু হবে আমাদের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত এত দিনের ছুটি। এই ছুটির মাঝেই হবে ইদুল আযহা। এই ইদকে আমাদের গ্রামের মানুষ বলে থাকে কুরবানি ইদ আবার অনেকেই বলে থাকে বড় ইদ৷ আর আমিও ছোট বেলা এই ইদকে বড় ইদ বলেই চিনে এসেছি। বাবা ভাইয়ের সাথে কুরবানির গরু কিনতে যাওয়ার আনন্দ সেটা কখনোই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাদের বাড়ির খুব কাছেই দুইটা বাজার সেই বাজার গুলোতেই মুলত আমাদের কুরবানির গরু কেনা হয়। বাবা ভাইদের সাথে গরুর হাঁটে যাওয়ার আনন্দই আলাদা।
আর ইদ আসলেই সবাই একসাথে হওয়া আত্বীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া বা বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া সেটাও অনেক আনন্দের মুহুর্ত।
আর এই সব কিছুই মিলিয়েই এবার যেন আমি মহা খুশি৷ তাইতো কাল আমার সেমিস্টারের শেষ পরীক্ষা কিন্তু তার পরও কোনো টেনশন হচ্ছে না বরং ব্যাগ গুছানো কখন যাবো কিভাবে যাবো সেগুলো নিয়েই বেশি টেনশন করছি। এমন কি কালকে রাতে বাড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটেও কেটে রেখেছি। এই এক মাসের ছুটিতে কখন কি করবো সেটাও মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছি। এখন শুধু কালকে পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা। পরীক্ষার টেনশন, চাপ বাড়ি যাওয়ার আনন্দে অনেক টাই বিলিন হয়ে যায়। আর হে এটাই আমি।