আমাদের বাংলাদেশ কে ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বলা হয়। কারন বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। ঋতু গুলো হলো গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত। এই ছয় ঋতু নিয়ে আমাদের দেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ হয়ে উঠেছে। আমরা আজকে কথা বলবো গ্রীষ্মকালের জৈষ্ঠ্যমাসের ফল নিয়ে। বাংলা কেলেন্ডার অনুসারে বছরের শুরু গ্রীষ্মকাল দিয়েই হয়ে থাকে। বৈশাখ জৈষ্ঠ্য দুইমাস কে গ্রীষ্মকাল বলা হয়ে থাকে। বৈশাখ মাসেই শুরু হয় নানা ধরনের ফল গাছে ফুলের ছড়াছড়ি। জৈষ্ঠ্যমাসের শুরুতেই অনেক ফলের দেখা মিলে আমাদের। আম, জাম, কাঁঠাল, তরমুজ, আনারস, লিচু,জামরুল ইত্যাদি। এমন আরো অনেক প্রকার ফল আমরা দেখতে পাই জৈষ্ঠ্যমাসে। এই মাসে সকল প্রকার ফল আমরা গাছে না পেলেও বাজারে ঠিকই পেয়ে যাই। গ্রাম অঞ্চলে প্রায় সকল বাড়িতেই আমরা আম, কাঁঠাল লিচু গাছ দেখা যায়। তবে জৈষ্ঠ্যমাসে এমন কেউ নাই যে ফল না খাই। কম বেশি সবাই ফল খেতে পছন্দ করে।
কাঁঠাল আমাদের দেশের জাতীয় ফল হওয়া সত্তেও আম আমাদের কাছে বেশি পছন্দের। আম জৈষ্ঠ্যমাসের একটি প্রধান ফল। আম আমাদের দেশের সব জায়গায় হয়ে থাকে। এর মধ্যে আমাদের দেশে উত্তরবঙ্গে যেমন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরের দিকে বেশি আম চাষ হয়ে থাকে। আমাদের দেশের অধিকাংশ আম উত্তরবঙ্গ থেকে সরবারহ হয়ে থাকে। আম সব জায়গায় হলেও মাটির উর্বরতা ভিন্নতার কারনে আমের স্বাদ ভিন্নতা দেখা যায়। আমাদের দেশের আম পাকার মৌসুম সাধারণত বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। আম যে শুধু পাকলে খাওয়া হয় এমন না কাচা আমেরও বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে।
জৈষ্ঠ্যমাসে আমাদের কাঁঠালও কম জনপ্রিয় নয়। কাঁঠাল নিয়ে বলতে গেলে আমাদের শুরুতেই বলতে হয়, কাঁঠাল আমাদের দেশের একটি জাতীয় ফল। কাঁঠাল জাতীয় ফল হওয়ার কারন হলো এটি সহজলভ্য, পুষ্টি গুন সমৃদ্ধ এবং এর স্বাদের দিক দিয়ে বিবেচনা করেই এটিকে জাতীয় ফলের মর্যাদা দেয়া হয়েছে আমাদের দেশে। কাঁঠাল আমাদের দেশের সকল অঞ্চলে পাওয়া যায় না। কারন কাঁঠাল গাছের শত্রু হচ্ছে পানি। কাঠাল গাছ পানিতে মারা যায় । যে সব এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে যায়, বর্ষায় পানি উঠে সে সকল এলাকায় আমরা কাঁঠাল গাছ দেখতে পাই না। তাই আমাদের দেশে কাঁঠাল এর পরিমান অনেকাংশেই কম আমের তুলনায়। তবে কাঁঠাল উঁচু এলাকায় অনেক বেশি হয়ে থাকে যেমন ঢাকা, গাজীপুর, টাংগাইল, ময়মনসিংহ ইত্যাদি আরো কয়েকটি জেলায় কাঁঠাল অনেক বেশি হয়ে থাকে। এটির এতো সব গুণ থাকার কারনে জৈষ্ঠ্যমাসের সেরা ফলের তালিকায় কাঁঠাল ও চলে আসে।
এর পর আমরা বলতে পারি জৈষ্ঠ্যমাসের লিচু। আমার মনে হয় না লিচু কারও অপছন্দের হতে পারে। এমন কেউ নেই যার লিচু দেখলে খাওয়ার ইচ্ছে হবে না। ছোট থেকে বড় সকলেই লিচু পছন্দ করে থাকে। লিচু গ্রীষ্মের শুরুতেই আসে এবং শেষ হতে বেশি দিন লাগে না অল্প কিছু দিনেই শেষ হয়ে যায়। এটি বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই হয়ে থাকে। কিছু জেলায় যেমন রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, পাবনা, ময়মনসিংহ ইত্যাদি আর অনেক জেলায় উন্নত মানের লিচু চাষ হয়ে থাকে । আর সব জায়গায় লিচুর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।
এরপর আমরা আরো একটি জনপ্রিয় ফলের নাম বলতে পারি আনারস যা আমাদের দেশে এখন প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। কিন্তু জৈষ্ঠ্যমাসে আনারসের প্রধান চাষাবাদের সময় বলা যেতে পারে। এই সময় যে সকল আনারস চাষ হয়ে থাকে এগুলা বেশি স্বাদের হয় এবং বেশি পরিমানে চাষ হয়ে থাকে। আনারস সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে হয়ে থাকে। আনারস চাষ করার নিয়ম হচ্ছে আনারসের চারা রূপন করতে হয়। সেই চারা গাছ থেকে একবারই আনারস ফলন পেয়ে থাকি। পরে আবার নতুন করে চারা রূপন করতে হয়।
এমন আরো অনেক জনপ্রিয় ফল আছে যা আমরা এই গ্রীষ্মকালের জৈষ্ঠ্যমাসে পেয়ে থাকি। এই জৈষ্ঠ্যমাসে এতো ফল পাওয়া যায় বলে আমরা এই মাস কে মধুময় মাসও বলে থাকি। প্রতি বছর গ্রীষ্মে আমরা এই মধুমাসটি পরিবার নিয়ে উপভোগ করি।