এ কালের টাইটান ও সে কালের টাইটানিক।।

Words
416
Reading
2 min
Listen
Play
3y

বর্তমান সময়ে সব থেকে আলোচিত বিষয় হলো টাইটান। টাইটান মূলত তৈরি করা হয়েছিলো ততকালীন তলিয়ে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখার লক্ষে, সাবমেরিন টাইটানের যাত্রা শুরু হয়। সেই টাইটান সাবমেরিনটির যাত্রার এমন করুন সমাপ্তি বর্তমান বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। টাইটানে যাত্রায় ৫ বিখ্যাত ব্যাক্তি ছিলেন যাদের কে এখন মৃত বলে ঘোষনা করা হয়েছে। পাঁচ ব্যাক্তির মধ্যে ছিলেন ৪৮ বছর বয়সী শাহাজাদা দাউদ এবং তার ছেলে ১৯ বছর বয়সী সুলেমান দাউদ। ব্রিটিশ অভিযাত্রী ৫৮ বছর বয়সী হ্যামিশ হ্যামিশ হার্ডিং এবং ৭৭ বছর বয়সী পল অরি নাজোলে ফরাসি তিনি নৌবাহিনীর সাবেক ডুবুরি ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাবমেরিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওশাংেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টক্টন রাশ ওনার বয়স ছিলো ৬১ বছর। যিনি সাবমেরিনটি চালাচ্ছিলেন।

১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল টাইটানিকের যাত্রা শুরু করেন নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিক ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার পর ১৯৮৫ সালে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ খুজে পান। সেই সময়ের সর্ব বৃহৎ জাহাজ ছিলো টাইটানিক। টাইটানিক তৈরি করার পর নির্মাতারা বলেছিলেন এই জাহাজ কখনো ডুবে যাবে না। অথচ প্রথম যাত্রার সমাপ্তি না হতেই টাইটানিকের সমাপ্তি ঘটে। তখন প্রায় ২২০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা টাইটানিক ডুবে গিয়ে প্রায় ১৫০০ যাত্রী মারা যান এবং ৭০০ জন যাত্রী উদ্ধার করতে পারেন। তখনকার সময়ে সব থেকে বড় একটি দুর্ঘটনা ছিলো। যা পুরো বিশ্ব কে তাক লাগিয়েছিলো।

ততকালীন সেই টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখার লক্ষে আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানের যাত্রা শুরু করেন। সাবমেরিন টি ১ঘন্টা ৪৫ মিনিট যাওয়ার পর হঠাৎ নিয়ন্ত্রনকক্ষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তৎক্ষনাৎ মার্কিন নৌবাহিনী জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই মহাসাগরের তলদেশে বিস্ফোরণ শব্দ শনাক্ত করেন। ধারনা করা হয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই সাবমেরিনটি বিস্ফোরণ হয়ে ধংশ হয়ে যায়। এবং দীর্ঘ ৪ দিন অনুসন্ধানকারী দল জানান টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের আশে পাশে টাইটান সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। আশেপাশে এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে আরও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যাওয়ার লক্ষে। তবে এখনও সঠিক ভাবে জানা যায় নি আসলে সাবমেরিনটি কি হয়েছিলো বা কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো, কেনো এমন সমস্যা হলো তা এখনও অজানা রয়েছে।

টাইটানিক জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর রয়েছে। মহাসাগরের তলদেশে যেখানে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষে সেখানে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ পাউন্ড চাপ রয়েছে। যার ফলে দেখা যায় অতী চাপে সাবমেরিনটি ধ্বংস হয়েছে বলে ধারনা করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। টাইটান সাবমেরিনটি ধ্বংসে সারা বিশ্বের মানুষকে তাক লাগিয়েছে। ততকালীন সেই টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখার আগ্রহে এতো অর্থ ব্যয় করে গিয়ে জীবন দিতে হলো বিশ্বের বিত্তশালী মানুষ গুলো। তারা হইতো বুঝে উঠার আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো টাইটান সাবমেরিনটি। শতবছর আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা আবার নতুন করে ঘটে গেলো। যা কখনই কেউ ধারনা করতে পারেনি টাইটানিক বা টাইটান সাবমেরিনের সাথে এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটবে। এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে মুহুর্তে।

prothomalo-bangla_2023-06_ca7987ae-99ae-4bdf-bd30-d8bd1e0dbfbd_1.jpg
Img