আসসালামু আলাইকুম,
আজকে আমি শুনাবো আমার পাখি পালন করার শুরুটা কীভাবে হয় এবং পাখির প্রতি জন্মানো ভালোবাসা ও মায়া। পাখি ভালোবাসে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। আমাদের দেশে নানা প্রজাতির পাখি আমরা দেখতে পাই, আবার তাদের সুমধুর কণ্ঠ কোলাহল আমাদের কে আরো আকৃষ্ট করে তুলে। আমাদের দেশে প্রায় ৬২০ টি প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এ সকল পাখি আমরা নানা সময় দেখে থাকি। কিছু পাখি দেখা যায় সকাল বেলা কোলাহল তৈরী করে আমরা ঘুম থেকে উঠে শুনতে পাই তাদের ডাকাডাকি। সকাল হওয়ার পর থেকে আমরা প্রতিনিয়ত একের পর এক পাখির কোলাহল শুনতেই পাই যা আমাদের কে মুগ্ধ করে। এ সকল প্রজাতির পাখির মধ্যে কিছু আছে যা আমরা পোষ মানাতে পারি আবার কিছু পাখি আমরা খাচায় পালন করে থাকি। যদিও পাখি খাচায় বন্দী করে পালন করা ঠিক না। কারন পাখি তো স্বাধীন একটা প্রানী। পাখি প্রকৃতির মাঝে স্বাধীন ভাবে উড়ে বেড়াবে এতেই এদের সুন্দর্যো টা আমরা উপভোগ করতে পারবো। কিন্তু তবুও আমরা কিছু পাখি খাচায় বন্দী করে পালন করে থাকি।
মানুষ এখন অনেক ব্যাস্ত জীবন অতিবাহিত করছে। কেওবা চাকরি নিয়ে, কেও পড়াশোনা নিয়ে, ব্যবসা ইত্যাদি আরো অনেক কাজে সবাই ব্যাস্ত থাকে। আর এই সকল কাজের পড়ে সবাই ক্লান্তিতে বাসায় ফিরে। আর পরিবার কে সময় দেয়। এইভাবে প্রতিদিন একভাবে চলতে চলতে আমাদের মাঝে একঘেয়েমি চলে আসে। ধীরে ধীরে দেখা যায় কিছু ভালো লাগছে না মন খারাপ থাকছে। আর এই ব্যাস্ততার শেষে একটু সময় কে আনন্দিত করতে নিজের মন কে ভালো রাখতে । আমরা পাখি পালন করতে পারি। আমাদের দেশে এমন অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি পাখি পালন করে তাদের নিজের হাতখরচ চালাচ্ছেন। পাখি পালন করা বেশি একটা কষ্ট না হওয়ায় আর ভালো লাগার মতো একটা কাজ হওয়ায় অনেকেই শখ করে পাখি পালন শুরু করে থাকে। পোষা পাখির মধ্যে আমরা পালন করে থাকি নানা জাতের কবুতর, বাজরিগার, লাভবার্ডস, টিয়া, ককাটেল ইত্যাদি। এমন আরো অনেক প্রজাতির পাখি আমরা পালন করে থাকি।
এইসকল পাখির মধ্যে আমার লাভবার্ড পাখি এবং বাজরিগার পাখি গুলো অনেক পছন্দের। পাখি পালনের শখ আমার অনেক আগে থেকেই ছিলো। লাভবার্ড পাখির সংখ্যা কম হওয়ায় বেশি একটা পাওয়া যায় না। তাই আমি বাজরিগার পাখি বাছাই করি পালন করার জন্যে। কয়েকজন বন্ধুর কাছেও পরামর্শ নেই। আমি ইউটিউবেও পাখির কিছু ভিডিও দেখে পাখি পালনের প্রক্রিয়া ধারণা নিয়ে বাজরিগার পাখি কিনে ফেলি। বাজরিগার পাখি পালনের কিছু সুবিধাও রয়েছে। যেমন এই পাখি গুলো কিছু নিদিষ্ট খাবার খায় তার মধ্যে কাওন, চিনা, সিড মিক্স, নানা প্রকার সবজিও খেয়ে থাকে বাজরিগার পাখি। এই পাখি গুলো বছরে ২ বার ডিম দেয় এবং বাচ্চা ফোটায়। সব থেকে মজার বেপার হলো বাজরিগার পাখি এক সাথে ৫,৬,৭ টা করে ডিম দেয়। যা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। যখন পাখি ডিম দেয় সেটা দেখে আমার মন খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যায়।
বাজরিগার পাখির আরও একটি সুন্দর দিক আছে। সেটা হলো এই পাখি আমরা ছোট থেকে যদি পালন করি তাহলে পোষ মানাতেও পারি। আর এটা ভাবলেই মনে একটা অন্য রকম শান্তি লাগে যে একটা পাখি আমার পোষ মেনেছে এবং আমার কাছে এসে আমার হাতে খাবার খায়। এটা শুধু আমার না আমার মনে হয় যে কারো মন জয় করে নিবে পোষ মানা পাখি গুলো। পাখি পালন করার মধ্যে আলাদা রকম একটা ভালো লাগা কাজ করে যা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। এই সকল গুণ থাকার কারনে এবং এই পাখি গুলো তুলনা মূলক দাম কম আর পালন করাও সহজ হওয়ায় আমি বাজরিগার পাখিটি বেছে নেই পালন করতে। এই পাখি পালন করে এদের প্রতি আমার মধ্যে অন্যরকম একটা ভালোবাসা জন্মেছে। পরিবার থেকে অনেক সময় চাপ দেয় পাখি গুলো বেচে দিতে কিন্তু আমি কোন কথা কানেই নেই না। কারন পাখির প্রতি আমার ভালোবাসা অনেক বেশি হয়ে গেছে, অন্য রকম মায়া জন্মেছে পাখির প্রতি।