ঈদের পর বিয়ের আমেজ

Words
330
Reading
2 min
Listen
Play
4y

ঈদ মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দের মাঝে আরো বারতি আনন্দ যোগ হয় যখন কোনো বিয়ের রেওয়াজ পরে। তবে বর্তমানে সেই রেওয়াজ টায় শুরু হয় ইদের পর পরেই। চারদিকে শুধু বিয়ে আর বিয়ের খবরই শোনা যায়। এই তো ইদের পর দিনেই আমাদের তিনটা বিয়ের দাওয়াত ছিলো। এরপর দিন ছিলো আবার চারটা বিয়ের দাওয়াত। প্রতিদিনই বিয়ের দাওয়াত যেন আছেই। একদিনেই কোথাও ভাই যাচ্ছে অন্য জায়গায় আব্বু যাচ্ছে আর না হলে আব্বুই আবার দুই জায়গায় যাচ্ছে।

এইতো পাশের বাড়ির একটি মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল তাও রোজার দুই দিন আগে৷ কিন্তু ঈদের তিন দিন আগে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। তারপরেই ওই মেয়ের পরিবার ওই আগের তারিখেই অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করে ফেলে। এটা দেখে খুবই অবাক হলাম যে এত অল্প সময়ের মধ্যে কিভাবে ভেঙ্গে যাওয়া বিয়ে আবার অন্য জায়গায় ঠিক করে আবার বিয়ে দিয়ে দেয়। তারপর জানতে পারলাম যে লোকটির সাথে বিয়ে হয়েছে তার বয়স (৩৬) অন্য দিকে মেয়েটির বয়স মাত্র ( ১৫). বয়সের এত পার্থক্য টা ছিলো অর্ধেকেরও কম।আসলে গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জীবনে এমনটা প্রতিনিয়তই হচ্ছে। তারপরেও দোয়া করি মেয়েটি সুখী হোক।

তবে হয়তো ইদুল ফিতরের পর এত বিয়ের হওয়ার আরেকটি কারন আছে। কারন আমাদের দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান আরো অন্য ধর্মের মানুষ বসবাস করলেও কিন্তু এদেশের প্রায় ৯০% জনসংখ্যায় মুসলিম। যার ফলে পুরো একমাস মুসলিম ধর্মালম্বিদের লোকজন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রেখে থাকে আবার এর সাথে তারাবির সালাতও পড়েও থাকে। আর এই মাস টা হলো মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাস। সকল পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস,সঙ্গমের মাস। যার জন্য অনুষ্ঠান করা বা মুসলমানদের যেভাবে বিয়ের রেওয়াজ থাকে সেটা সুন্দর ভাবে গুছিয়ে করা যায় না। তার জন্যই এভাবে আরো পুরো এক মাসের অনেক বিয়ে আটকে থাকে রোজার জন্য। যার ফলে রোজা শেষ হতেই ইদুল ফিতরের পর পরেই বিয়ের একটা আমেজ শুরু হয়। সেটা কিন্তু আবার গ্রামে খুবই বেশি হয়ে থাকে তবে শহরে গ্রামের তুলনায় কিছুটা কম হয়।

এই গল্পটি আমার গ্রামের কয়েক বছর ধরে ইদুল ফিতরের পর বিয়ের পরিসংখ্যান থেকেই লিখা। দোয়া করি বিয়ের পর সকল দাম্পত্য জীবন সুখী ও সুন্দর হোক এবং এভাবেই ইদুল ফিতরের পর বিয়ের আমেজ চলতে থাকুক।

IMG_20220503_191440.jpg