কে জিতবে ফিনালিসিমা? আর্জেন্টিনা নাকি ইতালি। 🇦🇷 VS 🇮🇹

Words
424
Reading
2 min
Listen
Play
4y

images (16).jpeg
IMG

ফুটবল বিশ্বের সামনে আরেকটি মহারন অপেক্ষা করছে আজকে রাতে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন বনাম লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আজকে রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি ফুটবল স্টেডিয়ামে। দুই মহা দেশের দুই রাজার সেরা হওয়ার লড়াই। রক্ত পাতহীন এক মহা যুদ্ধ দেখবে ফুটবল বিশ্ব। আর তাতেই নিশ্চিত হবে কোন রাজার হাতে ওঠবে ফাইনলিসিমার মুকুট।

এই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে লড়াই এর আগে ফুটবল বিশ্ব মাত্র দুইবার দেখেছিলো। ১৯৮৫ এবং ১৯৯৩ সালে মহাদেশীয় চ্যাম্পয়িন অনুষ্ঠিত হয়ে ছিলো। প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স এবং পরের বার ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ঠিক ওই ট্রপির পর
আর্জেন্টিনা ২৮ বছর পর্যন্ত শিরোপাহীন ছিলো।

সর্বশেষ ২০২১ আর্জেন্টিনা কোপা শিরোপা জিতে নেয় আর তাতেই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ফাইনলিসিমায় লড়াইয়ে সুযোগ এসে যায়। যা মেসিদের সামনে আরেকটি আন্তর্জাতিক শিরোপার হাতছানি।

তবে দুর্দান্ত ইতালির হঠাৎ চন্দ পতন বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেড়িয়ে বিশ্বকাপের মুলপর্বে সুযোগ করতে না পারাই এই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের লড়াইয়ে উত্তেজনার অনেক টা ভাটা পরেছে। তার পরেরও আর্জেন্টিনা ইতালির ম্যাচ বলে কথা। ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকার মহারণ বলে কথা। তবুও ফুটবল বিশ্বের এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা উন্মাদনার কোনো কমতি নেই।

অন্যদিকে ৩১ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে খুব ভালো ভাবেই জায়গা করে নেয়। এমনকি ২০১৯ সালের পর কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের সাথে হারার পর আর কোনো ম্যাচেই হারেনি আর্জেন্টনা। আর সেই ২৮ বছর শিরোপাহীন থাকা দল টা কোপা জেতার পর যেকোনো শিরোপার জন্য যেন মরিয়া হয়ে আছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির কন্ঠেই শোনা যাক " আমরা এই ম্যাচ টা জিততে চাই। দেশের জন্য আরেক টা ট্রপি নিয়ে যেতে চাই৷ ইতালি যে বিশ্বকাপে নেই সেটা লজ্জার৷ ওরা বিশ্বকাপে থাকলে অন্যতম ফেভারিট থাকতো। ওরা দুর্ভাগা, নইলে গ্রুফ স্টেজ থেকেই বিশ্বকাপে যায়গা করে নিতো। ইতালি যদি বিশ্বকাপ খেলতো তাহলে নিশ্চয় কেউ ওই গ্রুপে খেলতে চাইতো না। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ। তার জন্য এই ম্যাচ টা আমাদের একটা ভালো পরিক্ষা"। মেসির কথা শোনে বুঝতেই পারছেন ম্যাচটি জেতার জন্য কতটা মরিয়া হয়ে আছে আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচ টা ইতালিও বিন্দু পরিমানও ছাড় দিবেন না। কেননা ইতালির অন্যতম কিংবদন্তি খেলোয়াড় জর্জো কিয়েলিনির জন্যও এটা শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচ পরেই জুভেন্টাসের পর জাতীয় দলের জার্সিটাও তুলে নিবেন। তার কন্ঠেও মহারনের আগুন ঝরছে " যখন জানতে পারলাম আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, তখনই বুঝেছিলাম, এটাই আমার কপালের লিখন। আমার শেষ সুযোগ। আরেকটা ম্যাচ, লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের বিপক্ষে ওয়েম্বলির মাঠটা আইকনিক। ওই মাঠে ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন খেলবে। এই সুযোগ না থাকলে আমি আগেই অবসরে যেতাম"। তার কথা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে শেষ শিরোপা জিতে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ টা রাঙিয়ে রাখতে চাইবেন।

সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব দেখবে এক অন্যতম মহারণ। কার হাতে উঠবে শিরোপা এটাই এখন দেখার বাকি। আজ রাত ১২.৪৫ শে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। দুই দলের জন্যই রইলো শুভকামনা।