বাংলাদেশের এক মাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। চারপাশে নীল পানির সাগর আর নীল আকাশ মিলেমিশে একাকার এই দ্বীপ। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এই দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। এখনকার মূল আকর্ষণ হচ্ছে সমুদ্রের নীল পানি,নীল আকাশ,সামুদ্রিক প্রবাল,সমুদ্রের ঢেউ। এখনকার আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো আপনি এখানে আসলে একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। আর এখানে মূল দ্বীপ ছাড়াও রয়েছে আর একটি ছোট দ্বীপ "ছেড়া দ্বীপ"।
সেন্টমার্টিন আমরা ২ রাত ৩ দিন অবস্থান করি। প্রথম দিন রুম ঠিক করে, ফ্রেশ হয়ে, খাওয়া দাওয়া শেষ করতে করতে বিকেল হয়ে যায়। জার্নি করে সবাই একটু ক্লান্ত ছিলাম। কিন্তু সেন্টমার্টিন আসছি সূর্যাস্ত দেখবো না তা কি কখনো হয়! আমরা সবাই মিলে হাঁটতে হাঁটতে সেন্টমার্টিনের পশ্চিম দিকের সমুদ্র সৈকতের দিকে যাই সূর্যাস্ত দেখবো বলে। মনে হচ্ছিলো সূর্যটা ধীরে ধীরে সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যাচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে আঁধার নেমে আসে চারিদিকে।
আমাদের হোটেল ছিলো সমুদ্র সৈকতের একদম নিকটে। অর্ধরাত আমরা সমুদ্র সৈকতে কাটিয়ে দেই। রাতের পরিবেশটা ছিলো একদম নিরব। চাঁদের আলোয় চারপাশটা আলোকিত হয়ে আছে আর শুধু শোনা যাচ্ছে বিরামহীন ঢেউ এর শব্দ। মনে হচ্ছিলো সারা রাত এখানে বসেই কাটিয়ে দেই। সেখানে যে কেউ থাকলে ওই মুহূর্তের প্রেমে পড়ে যাবে।
আমাদের সকালের পরিকল্পনা ছিল আমরা সবাই মিলে সূর্যোদয় দেখবো আর সাইকেলিং করে পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরে দেখবো। তো আমরা সকালে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে বের হই সাইকেলের সন্ধানে। আমরা সাইকেল ভাড়া করি ঘণ্টা প্রতি ৪০টাকা করে। আমরা প্রত্যেকে একটা একটা করে সাইকেল নিয়ে চলে যাই দ্বীপের পূর্ব দিকের বিচে। মনে হচ্ছিলো যেন সূর্যটা আবার সমুদ্রের বুক থেকে উঠে আসছে।
সূর্যোদয় দেখা শেষ করে আমরা রওনা হই ছেড়াদ্বীপ এর উদ্দেশ্যে। এর মাঝ পথে আমরা সকালের নাস্তা করে নেই। ছেড়া দ্বীপ সেন্টমার্টিন এর সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত আর একটি খন্ড দ্বীপ। জোয়ারের সময় এই দ্বীপের তিন ভাগের এক ভাগ পানিতে ডুবে যায়। জোয়ার চলে গেলে আবার পুরো দ্বীপ ভেসে ওঠে। প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা আমরা সাইকেল নিয়ে পুরো দ্বীপ ঘুরে বেড়াই। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ভালো লাগার মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো সমুদ্রের পাশ দিয়ে সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো।
ঘোরাঘুরি শেষ করে আমরা বিচে নামি গোসল করার জন্য। সমুদ্রের পানি ছিলো একদম পরিষ্কার। তবে সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, প্রচুর জেলি ফিশ ঘোরাঘুরি করে। তাই বেশি সময় গোসল করা হয় নি।
সেদিন সকালে দেখতে পাই সমুদ্রে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। এখানকার মানুষদের জীবিকার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে এই সামুদ্রিক মাছ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি মাছ ভাস্কর্য।
আর একটু সুন্দর মুহুর্ত ছিলো পরের দিন ভোরে কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল।