ঈদের ছুটিতে আসা হয়েছিল নিজ বাড়িতে কিন্তু এখনো ঢাকা ফেরা হয়নি। কারণ সেমিস্টার বিরতির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়নি এখনো। আর সবার তো আমার মতো এমন ছুটি নেই। তাই সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। এখন আমার সমবয়সী যারা ছিলো কেউ নেই গ্রামে। একা একা সব সময় থাকতে হয় আর একাই সময় কাটাতে হচ্ছে।একা সময় কাটানোও একটি শাস্তিস্বরূপ। কিছু করতে ভালো লাগে না সারা দিন আবার রুমে শুয়ে বসে থাকতেও ভালো লাগে না। এমন একা থাকতে থাকতে মাঝে মধ্যে ডিপ্রেশনে চলে যাই। কিছু তো আর করার নেই। ঢাকাতেও চলে যেতে পারছি না কারন সবাই এখনও আসে নি। আর এখন ঢাকা চলে গেলেও বাড়ির মত একি অবস্থা হয়ে যাবে। তাই বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছি।
বাড়িতে একা থাকতে থাকতে কিছু ভালো লাগছিলো না। হঠাৎ মনে হলো কোথাও যাই ঘুরে আসি। কিন্তু সাথে তো তেমন কেউ নেই যে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। তাই ভাবলাম একাই বেড়িয়ে পরি। গতকাল আমি একা বেড়িয়ে পড়লাম সাথে নিলাম আমার সঙ্গি বাইকটাকে। বাইকই আমার এক মাত্র সঙ্গি একাকিত্ব সময়ের। ঘুরবো কোথায় তার কোন নিদিষ্ট গন্তব্য নেই। ভাবলাম আজকে যেদিক মন চাইবে সেদিকেই যাবো। এই বলে বেড়িয়ে পরলাম। আমার ঘুরতে অনেক ভালো লাগে সেটা কাছে হোক বা দূরে। আমাকে যদি কেউ বলে আসো আজকে সারা দিন ঘুরাফেরা করি আমি তার সাথে সারা দিনি ঘুরতে রাজি অনেক ভালোবাসি ঘুরতে। কিন্তু আজ আর কি করা সঙ্গি না পেয়ে একাই বের হতে হলো।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভাবলাম কোন দিক যাবো। হঠাৎ মনে পরলো যখন আমি ছোট ছিলাম প্রথম সাইকেল কিনে দিলো। তখন আমি আর আমার বন্ধু ২ জনে সাইকেল দিয়েই অনেক ঘুরতাম, অনেক দূরে দূরে চলে যেতাম ঘুরতে। যা এখন ভাবলে মনে হয় অসম্ভব ছিলো সাইকেল নিয়ে এতো দূর কিভাবে চলে গেছি। তো ভাবলাম আজকে আমরা যেদিক সাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেদিকেই যাই। দেখি আসি আগের দিনের সুন্দর গ্রাম গুলো। তো যেতে যেতে বেশি একটা সময় লাগলো না কারন বাইকে করে আশেপাশে কোথাও যেতে আর কতই বা সময় লাগবে। কিন্তু যেখানে গিয়েছি সেটা আমাদের থানার পাশের থানা। গ্রামটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগতো।
সেখানে পৌছেই দেখি সব কেমন উলটপালট। আগে যেমন গ্রাম ছিলো আকাবাকা রাস্তা এবং রাস্তার পাশে নদী, ভাঙ্গা ব্রিজ। সেখানে গিয়ে বসতাম আমরা কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুই উন্নতি হয়েছে। ব্রিজটা নতুন ভাবে তৈরি করেছে গ্রামের রাস্তাটাও পাকা করে ফেলেছে। সব মিলিয়ে একদম পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে গ্রাম গুলো। আরও একটি গ্রাম ছিলো নাম হলো হিজলী। এই গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে একটি নদী আর সেই নদীর পাশেই ছিলো অনেক বড় একটি বট গাছ। সেখানে গিয়ে সেই বট গাছটি ঠিকঠাকই দেখলাম। সেই বট গাছের নিচে গিয়ে আমরা সাইকেল রেখে কতো ছবি যে উঠেছি। বট গাছের উপরে গিয়ে বসে থাকতাম আবার নদীর পাশদিয়ে যাওয়া রাস্তাটা ছিলো অনেক সুন্দর। বট গাছটি এখনও তেমনি আছে আগে যেমন ছিলো । শুধু গ্রাম গুলো আগের থেকে পরিবর্তন হয়েছে।
এই গ্রামগুলোতে আমরা সাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়েছি ২০১৪ সালে আর বর্তমানে এখন ২০২২ চলছে। প্রায় ৮ বছর পর গিয়েছিলাম গ্রাম গুলোতে ঘুরতে। সব কিছু কেমন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে। কিন্তু গ্রাম গুলোর সৌন্দর্য এখনও আগের মতোই আছে। একা একা বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণের জন্য পুরোনো সেই দিন গুলো যেনো আবারও ফিরে পেয়েছিলাম। এইভাবেই কাটিয়ে দিলাম কালকের সুন্দর একটি দিন। সেই ছোট্টবেলার দিনগুলো এখন অনেক বেশি মিস করি। এখন চাইলেও আর পারি না সাইকেল করে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যেতে। হইতো আমার এখন সময় আছে কিন্তু কর্মের ব্যস্ততায় সব হারিয়ে গিয়েছে।