এইতো কিছু দিন আগেই ঘুরে আসলাম চাঁদপুর থেকে। একদিনের ছোট ট্যুরের জন্য চাঁদপুর উপযুক্ত একটি স্থান। হঠাৎ এলাকার সমবয়সী দুই ভাই বলতেছে লঞ্চ ভ্রমন করবে। তারা আগে কখন লঞ্চ ভ্রমন করেনি। তাই তাদের অনেক ইচ্ছে লঞ্চ ভ্রমনের। আমি এর আগেও লঞ্চে করে কয়েক বার ভ্রমন করেছি। লঞ্চ ভ্রমন আমার কাছেও অনেক ভালো লাগে। তাই চিন্তা করলাম একদিনের ছোট্ট ভ্রমন হিসেবে চাঁদপুর উপযুক্ত স্থান। আমিও ভাইদের বললাম চাঁদপুর যাই তাহলে, অরাও সম্মতি দিলেন। আমার ক্লাসও চলছে এই সময়। তাই আমার ছুটির দিন দেখে একটা সময় নির্ধারণ করলাম এবং সেই সময় মতো ভাইরাও ঢাকা চলে আসলো। আমাদের প্লেন ছিলো আমরা অনেক সকালে ঢাকা থেকে রওনা হবো সারা দিন ঘুরাফেরা করে রাতে আবার ঢাকা ফিরবো। সব কিছু ঠিক রেখে আমরাও সেভাবেই প্রস্তুতি নিলাম।
চাঁদপুর একদিনে ঘুরে দেখার মতো ভালোই কয়েকটি জায়গা আছে। যেমন বড়স্টেশন মোলহেড নদীর মোহনা, মিনি কক্সবাজার, চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যের প্রতীক ইলিশ চত্বর, অঙ্গীকার ভাষ্কর্য, রূপসা জমিদার বাড়ি ইত্যাদি। এইসব জায়গায় একদিনে ঘুরার জন্যে উপযুক্ত। আমরা আগের দিনেই ভিডিও দেখে ধারনা নিয়ে নিলাম কোথায় কিভাবে যেতে হবে। সকালেই আমরা রওনা হয়ে সদরঘাটে পৌছালাম। লঞ্চে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘন্টার মতো। আমরা আগের দিন রাত ১২টায় রওনা হলে ভোরবেলা পৌছাতাম কিন্তু সেভাবে ধারনা না পাওয়ায় সকালে আমরা রওনা দেই। যাইহোক আমরা লঞ্চ গিয়ে দেখলাম ডেক ভাড়া ১০০ আর চেয়ার ২৫০। ভাবলাম আমরা মাত্র ৪ঘন্টার ভ্রমন চেয়ারেই বসে থাকলে লঞ্চের মজাটা তো উপভোগ করতে পারবো না। তাই আমরা ডেকেই উঠে গেলাম।
লঞ্চ ভ্রমন সব সময় রাতেই দিয়েছি তাই দিনের যে সৌন্দর্য লঞ্চ থেকে দেখা যায় সেটা উপভোগ করছিলাম না। কিন্তু চাঁদপুরের ভ্রমনে এই আনন্দটা উপভোগ করতে পেরেছি। নদীগুলো ভয়ে চলেছে এঁকেবেঁকে। সামনে থেকে অন্য আরও লঞ্চ আসছে। আবার নদীর চরে গুরু পালন করছে সব মিলিয়ে অসাধারণ দৃশ্য ছিলো। যা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। সব থেকে মজার ব্যাপার হলো জীবনে প্রথম লঞ্চ ভ্রমনের মজা সব থেকে বেশি হয়ে থাকে। আমার জীবনের প্রথম লঞ্চ ভ্রমন করছিলাম বন্ধুর গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন প্রথম লঞ্চে উঠে এতো ভালো লাগছিলো যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সেই আনন্দটা দেখতে পারলাম আমার দুই ভাইয়ের কাছে, তাদের আনন্দটা দেখে আমরো সেই প্রথম ভ্রমনের কথা মনে পরে গেলো।
আমরা অবশেষে প্রায় ৪ ঘন্টা পর চাঁদপুর গিয়ে পৌছালাম। লঞ্চ ঘাটে থামাতেই দেখলাম নৌকা নিয়ে অনেক লোক ইলিশ বিক্রি করার জন্যে আসছে। আমরা দেখতে দেখতে নেমে গেলাম লঞ্চ থেকে । চাঁদপুর নামতেই ইলিশ দেখে না খেয়ে থাকতে পারলাম না। লঞ্চঘাটেই এক হোটেল থেকে ইলিশ বাজিয়ে খেয়ে নিলাম। চাঁদপুর গিয়েছি আর ইলিশ খাবো না তা কি হয়। এর পর চাঁদপুর আমার এক বন্ধুর বাসা। অকে ফোন করলাম ও বললো আগে অর বাড়িতে যেতে হবে তার পর ঘুরবে আমাদের নিয়ে। বন্ধুর বাড়ি চাঁদপুর হাজীগঞ্জ সেখানে আমরা গিয়ে বন্ধুর সাথে দেখা করলাম। পরে অই আমাদের নিয়ে চাঁদপুর শহর এবং আশেপাশে ঘুরে দেখালেন। আমাদের খুব একটা সময় হাতে না থাকায় আমরা বেশি কোথাও যেতে পারিনি। অল্প কিছু স্থান ঘুরে আমাদের আবার রওনা হতে হলো। কারন আবার ঢাকা ফিরতে হবে বেশি রাত হয়ে যাবে।
এরপর বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলাম চাঁদপুর লঞ্চঘাটে। সেখানে লঞ্চ ছাড়ার সময় আমরা লঞ্চে উঠে আবার চলে আসলাম ঢাকা। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় ২ টা বেজে গিয়েছিলো। এই ছিলো আমাদের একদিনের ছোট্ট ভ্রমন। আমাদের হাতে বেশি সময় না থাকায় সকল জায়গা ঘুরে আসতে পারি নি। তার পরেও আমার কাছে একদিনের ভ্রমন হিসেবে সুন্দর একটি ভ্রমন ছিলো।