একটি বেলি ফুলের গল্প

Words
530
Reading
3 min
Listen
Play
4y

ইমু ছাদ থেকে শুকনো কাপড়গুলো একহাতে নিয়ে দৌড়ে এসে মিথিকে খুব আগ্রহের সাথে বললো তোমার জন্য একটা জিনিস আছে। মিথি বললো কি জিনিস খুব স্বাভাবিকভাবে।কারণ তার এখন কিছু ভালো লাগে না তেমন।শরীরটা আগের মত আর নেই।কারণ সে অনাগত সন্তানের মা হতে চলেছে।সারাদিন বমি হওয়া,বমি ভাব,খাবারে গন্ধ লাগা ইত্যাদি সমস্যা গুলো নিয়ে সে ব্যাস্ত।তাই সে আগের মত কোনো ব্যাপারেই কোনো আগ্রহ দেখায় না। কাপড়গুলো পাশের একটি চেয়ারে রেখে দিল ইমু। কাপড়গুলো রেখে মিথির কাছে এসে বললো এই নাও তোমার প্রিয় শুভ্র সাদা বেলি।

মিথি অবাক করা চোখে তাকালো।আর বেলি ফুল দেখে সে খুব আগ্রহের সাথে খুশি হয়ে বললো কোথায় পেলে এই ফুল? ইমু বললো তোমার গাছের ফুল।তোমার বেলি ফুল গাছে ফুল এসেছে।মিথি ইমুর হাত থেকে ফুলটি নিয়ে খুব কাছে থেকে বার বার দেখছে এবং নাকের কাছে নিয়ে বার বার ঘ্রাণ নিচ্ছে। সে খুব খুশি হয়ে ইমুকে বললো তোমাকে ধন্যবাদ। সত্যি আমি অনেক খুশি হয়েছি।

২০১২ তে ইমু আর মিথির পরিচয়। যখন তারা একে ওপরের সম্পর্কে জানতে শুরু করে পছন্দের খাবার ,পোশাক,পছন্দের জায়গা,প্রিয় রঙ,প্রিয় ফুল, প্রিয় ফল সম্পর্কে তখন ইমু জানায় তার প্রিয় ফুল লাল গোলাপ।আর মিথিকে বলে, তোমার কি ফুল পছন্দ? মিথি বললো আমার পছন্দ শুভ্র সাদা বেলি ফুল। ইমু বললো বেলি ফুলের ঘ্রাণ অনেক তীব্র।আমার তেমন একটা ভালো লাগে না।

মিথি আর ইমু এক গ্রামের হওয়া সত্বেও তারা পড়াশোনা ও বাবার চাকরিসূত্রে ভিন্ন জেলায় থাকতো। তাদের সম্পর্কটা আর ৪টা সম্পর্কের মত ছিল না।চাইলেই তাদের দেখা হতো না, একসাথে হাত ধরে হাটা হতো না, চাইলেই একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা হতো না। আবার ভালোবাসা দিবসেও কখনো কাছে থেকে দেখা হওয়া বা ফুল দেয়া নেয়া হতো না। মিথি দেখতো আশেপাশের অনেক বান্ধবীর প্রিয় মানুষগুলো তাদের প্রিয় ফুল পেতো। মিথির খুব মন খারাপ হতো। তার ও খুব ইচ্ছা করতো ইমুর কাছে থেকে প্রিয় ফুল পেতে। কিন্তু দূরত্বই তাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াত। যখন ইমু ফোন করে বলতো আজ ভালোবাসা দিবস। আমি তোমাকে ভালোবাসি। মিথি উত্তরে বলতো আমার ফুল কই? ইমু শুনে হেসে ফেলতো আর বলতো আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। মিথি নাক ফুলিয়ে না উত্তর দিয়ে বলতো, পারবো না আগে আমার বেলি ফুল চাই তারপর উত্তরে ওপাশ থেকে ইমু বলতো আরে পাগলী তোমাকে দেবো বলেছি যখন, দেবই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে। কিন্তু এখন কিভাবে দিবো এখন তো শীতকাল। শীতকালে তো বেলিফুল ফোটে না, বর্ষাকালে ফোটে। মিথি তাও নাক ফুলিয়ে না বুঝে বলতো চুরি করে এনে দিবা। এরকম কতো খুনসুটি করতো দুইপপ্রান্ত থেকে।

মিথি আজ বেলি ফুলটি নিয়ে আগের দিনের স্মৃতিচারণ করছে। আর ভাবছে মানুষটি সত্যিই তার দেয়া কথাটি রেখেছে। আর ভাবছে কলেজের বান্ধবীদের তাদের তখনকার প্রিয় মানুষরা কতো উপহারসামগ্রী দিয়েছে এবং ছেড়ে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে অনেকের প্রিয় মানুষ ছেড়ে চলে গিয়েছে। কেউবা ছেড়ে দিয়েছে।কেউবা একসাথে অনেক মানুষকে ঠকিয়েছে কেউবা নিজেই ঠকেছে। দুইজন দূরে থেকেছি ঠিকই। কিন্তু সে আমাকে মূল্যায়ন করতো। ইমু আমাকে তার দেয়া কথাটি রেখেছে।বিয়ের পর বেলি ফুল দিতে পারে নাই।কিন্তু বেলিফুলের গাছ উপহার দিয়েছিল। আর এবারের বর্ষায় আমি তাকে বাবা হওয়ার অনুভূতিটা অনুভব করাতে পেরেছি আর সে আমাকে একজন কথা দিয়ে কথা রাখা মানুষকে দেখিয়েছে।

মিথি ভাবলো আমার প্রিয় মানুষটি সেরা। তাকে ভালোবেসে ভুল করি নি। তাকে বিশ্বাস করে ভুল করি নি।আমার বান্ধবীদের প্রিয় মানুষদের মত সে ঝরে যায় নি। এত কিছু ভেবে সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বললো। দেরিতে হলেও সে তার কথা রেখেছে। দেরিতে হলেও আমাকে দিয়েছে আমার পছন্দের শুভ্র সাদা বেলি ফুল।

images (10).jpeg
IMG

একটি বেলি ফুলের গল্প | Ecency