ঈদ আনন্দ

Words
464
Reading
3 min
Listen
Play
3y

সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক। ঈদ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমাদের অনেক বেশি আনন্দ আর উত্তেজনা কাজ করে। ঈদ ছোট্ট একটা শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক বড়।

ঈদ হলো মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের জন্য বছরে আসে দুইটা ঈদ একটা ঈদুল ফিতর আর একটা ঈদুল আযহা। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর আর এর দুই মাস পর পশু কোরবানি করে উদযাপিত হয় ঈদুল আযহা। এটি একটি দিন যেখানে মুসলমানরা পরিবারের সবাই মিলে একসাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে, সবাই মিলে ঈদের নামাজ পড়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানী করে এবং সমাজের গরীব দুঃখী মানুষের সাথে, আত্মীয় স্বজনদের সাথে কুরবানীর গোশত ভাগাভাগি করে, এবং সবাই মিলে একসাথে ঈদ উদযাপন করে। ঈদের দিনগুলি পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক আরো গাঢ় করে।

পরিবারের সবাই মিলে একত্রিত হয়ে এক সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এটা অন্য কোনো দিন, ঈদের দিন ছাড়া সম্ভব না। পরিবারের সবাই মিলে ঈদ উদযাপন করা ঈদ আনন্দকে আরও বেশি বাড়িয়ে তোলে। তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে ঈদ আনন্দে আসে ভিন্নতা। বড় হওয়াতে বাড়ছে দায়িত্ব কমছে ঈদ আনন্দ উল্লাস। ছোটবেলার ঈদের দিনগুলো ছিল অনেক রঙিন। ঈদের চাঁদ দেখা, হাতে মেহেদি দেওয়া, ভোরে ঘুম থেকে উঠা, নতুন জামা পড়া নিয়ে কৌতুহল, বাবা বড় ভাই ও ছোট ভাই কে নিয়ে একসাথে ঈদগাহ্ মাঠে যাওয়া, নানুবাড়ি যাওয়া, সবার কাছে থেকে সালামি নেওয়া, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া সব কিছুর মধ্যেই অনেক বেশি আনন্দ ছিল।

এখনও ঈদের দিন আসলে অনেক আনন্দ হয়। ঈদের আগে কবে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হবে, কবে বাড়ি যাবো এই আশায় বসে থাকা। কখনো পরিবারকে ছাড়া ঈদ করা হয় নাই। পরিবারের সাথে ঈদ করার যে আনন্দ সেটা অন্য কোথাও নেই। তবে এখন ঈদের ছুটি হলে বাড়িতে আসা হয় আবার ছুটি শেষ হয়ে গেলে দায়িত্ব নিয়ে আবার ব্যাস্ততার মাঝে ফিরে যাওয়া। কিন্তু ছোটবেলায় এই ব্যাস্ততা কখনো ছিল না।

প্রতিবারের মত এইবারের ঈদটাও ভালো গেছে আলহামদুলিল্লাহ। সকালে উঠে গোসল করে ছোট ভাইদেরকে সাথে নিয়ে চলে গেলাম ঈদগাহ্ মাঠে নামাজ পড়তে। তবে ঈদের দিন ভোর থেকেই ছিল অনেক বৃষ্টি, ভাবতেছিলাম আজকে ঈদ এর নামাজটা কিভাবে পড়বো !? তবে আল্লাহর রহমতে নামাজএর আগে আগেই বৃষ্টি থেমে যায়। আমরা সবাই মিলে নামাজ পড়ে আসি। নামাজ শেষে ব্যাস্ত হয়ে পরি গরু কুরবানী করতে। কুরবানীর কাজ শেষ করতে করতে ১ টা বেজে যায়। এরপর আবার শুরু হলো বৃষ্টি। দুপুরে খাবারের জন্য ছিল খিচুড়ি আর গরুর গোশত। বৃষ্টির সময় খিচুড়ি আর গরুর গোশত খেতে সত্যিই অমৃত। চিন্তা করছি বৃষ্টির মধ্যে কোথাও বের হবো না। কিন্তু বৃষ্টি একটু কমাতেই বন্ধুরা এসে হাজির,আমাকে নিতে। বন্ধুরা মিলে আড্ডা ঘোরাঘুরি এই নিয়ে দিনটা অনেক ভালোই কাটলো।

তবে ছোটবেলার ঈদের দিন গুলোর সাথে তুলনা করলে এখনকার দিনের ঈদ গুলোর অনেক পার্থক্য। ছোট বেলায় ঈদ আসলেই ঈদের চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে ঈদের এক সপ্তাহ পর্যন্ত ঈদের আমেজ শেষ হতো না। আসলে ছোটবেলার সব কিছুই অনেক ভালো ছিল। তখন সবকিছুর মধ্যেই এত বেশি আনন্দ ছিল এখনও ভাবলে আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই।

20230626_184116-01.jpeg

ঈদ আনন্দ | Ecency