মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চরিতে ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ

Words
410
Reading
2 min
Listen
Play
4y

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা মধ্যবর্তী টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হয় মিরপুর শেরে বাংলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রথমে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে যায় বাংলাদেশ৷ আর মিরপুরের মতো স্লো পিচে আগে ব্যাটিং করাটা ভাগ্যের বেপার। তাই বাংলাদেশ দলের টেস্ট ক্যাপটেন মুমিনুল হক আগে ব্যাটিং নিতে কোনো ভুল করেনি। প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী মাহমুদুল হাসান জয়।

দিনের শুরুতে প্রথমেই ব্যাট করতে নেমে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের এক বল পরেই (০) রানে মাঠ ছাড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। তখন স্কোর বোর্ডে বাংলাদেশের এক রানও যোগ হয়নি। এর পর মাঠে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তখন স্কোর বোর্ডে ৬ রান যোগ হতে না হতেই বাংলাদেশের আরেক ওপেনার প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবালও ফিরেন শূন্য রানে। এর পর একে একে মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব অল হাসানও ফিরে যান সাজ ঘরে। তখন বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে মাত্র ২৪ রান। শ্রীলঙ্কান বোলার রাজিথা দলের ৬.৪ ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট তুলে নেন। এর পরের বলেই আবার সাকিব অল হাসানকও সাজ ঘরে পাঠান তিনি। তখন স্কোর বোর্ডে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তখন সর্ব নিম্ন রানেরে লজ্জার রেকর্ডের হাতছানি। ঠিক তখনই বাংলাদেশের হয়ে একটু একটু করে ভরসা যুগাতে থাকে মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস। মুশফিকুর রহিম যেন মাঠি কামড়ে ক্রিজে পরেছিল আর তার সাথে লিটন দাসও।

মুশফিকুর রহিমের ধীর গতির ব্যাটিংয়ের সাথে উইকেট ধরে রাখা টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো দলের জন্য। আর তখন তিনি সেটাই করেন। সাথে লিটন দাসের সুন্দর সাবলীল শট গুলো বাংলাদেশ দলের রানের চাকা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে৷ তুলে নেন তারা ১০০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তবে সেখানেই শেষ নয়। ষষ্ঠ উইকেটই মুশফিকুর রহিম আর আশরাফুলের রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েন। করেন ২৫৩ রানের বিশাল পার্টনারশিপ। এবং তারা দুজনেই পেয়ে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার।

মুশফিকুর রহিম এই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারটি ছুইতে খরচ করেন ২১৮ বল আর অন্য দিকে লিটন দাস খরচ করেন ১৪৯ বল। মুশফিক পেয়ে যান টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি। আর তাদের উপর ভর করেই বাংলাদেশ দল প্রথম দিন শেষে সংগ্রহ করে ২৭৭ রান৷ মুশফিক ২৫২ বলে ১১৫ রান আর লিটন দাস ২২১ বলে ১৩৫ রানে দুজনেই অপরাজিত থাকেন।

অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার হয়ে রাজিথা ১৯ ওভার করে ৪৩ রান খরচে তুলে নেন ৩ উইকেট আর তাদেরই আরেক বলার ফার্নান্দো ১৭ ওভারে ৮০ রান খরচে তুলে নেন ২ উইকেট ।

মুশফিক লিটনের যোগল বন্দিতে বিশাল লজ্জার রেকর্ড থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ । খাদের কিনারা থেকে টেনে নিয়ে এখন বিশাল রানের সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ। আগামী কালও হয়তো আরেকটি সুন্দর শুরুর অপেক্ষা করবে বাংলাদেশ৷ আশা করা যায় মিরপুরের টেস্ট যেকোনো এক দল জয়ের হাসি হাসবেই।

images (6).jpeg
IMG