চট্টগ্রাম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

Words
474
Reading
3 min
Listen
Play
4y

আমাদের চট্টগ্রাম ভ্রমণটা অন্যান্য ভ্রমণ কাহিনী থেকে একটু আলাদাই ছিল বলা যায়। প্রতি টুরে আমরা হাতে সময় নিয়ে (৩-৪ দিন) ঘুরতে যাই। কিন্তু এইবারের টুরটা তে আমরা চেয়েছিলাম ১ রাত থাকবো কিন্তু সেটাও থাকা হয়নি। এক দিন ঘুরে ঐ রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে আবার রওনা হই। রাতে না থাকারও কারণ ছিল। আমাদের প্ল্যান ছিল চট্টগ্রামের মেইন চারটা দর্শনীয় স্থান (চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালি, খৈয়াছড়া ঝর্ণা আর মহামায়া লেক) ঘুরে দেখবো। আর মহামায়া লেকে রাতে আমাদের থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সেখানে থাকার জন্য তাবু বুক দিতে পারি নি, তাবু শেষ হয়ে গিয়েছিলো। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অন্য কোথাও হোটেল নিয়ে থাকবো। কিন্তু ঐ একদিনে আমাদের চারটা জায়গা ঘুরে দেখা শেষ হয়ে যায়। যার জন্য সবাই বললো রাতে আর থেকে কি হবে? আমরা ঢাকায় ব্যাক করতে পারি।

1661188310441-01.jpeg

একদিনেই যে আমাদের সব জায়গা ঘোরা শেষ হয়ে যাবে সেটা চিন্তাও করি নি। সব জায়গা ঘোরা শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমাদের সময় শেষ হয় না। কেনো জানি আমাদের সবার কাছে মনে হচ্ছিল ওই দিনটা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় দিন ছিল। আর অন্যান্য দিনে শুয়ে বসে থেকে কোথায় দিয়ে যে সময় শেষ হয়ে যায় বুঝতেও পারি না। আর ওইদিন এতগুলা জায়গা ঘুরলাম তারপরও সময় শেষ হয় না।

আমাদের চট্টগ্রাম ভ্রমণের শুরুটা হয় চন্দ্রনাথ পাহাড় দিয়ে। আমি আমার দুইটা পোস্টের আগের পোস্টে আমার প্রথম পাহাড় জয় অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো পুরো দিনের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। আমরা সে দিন সকাল সাড়ে দশ টার মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘোরার পর্ব শেষ করি। এরপর আমরা সিএনজি করে রওনা হয় গুলীয়াখালি সি বীচ এর উদ্দেশ্যে। প্রায় ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে আমরা সেখানে উপস্থিত হই। আমরা যে সময় সেখানে যাই তখন গুলিয়াখালী বিচে জোয়ারের সময় ছিল। সমুদ্র সৈকতে তখন উত্তাল ঢেউ। আমরা নৌকা করে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষন পরেই পানি দিয়ে ডুবে গেলো সেই জায়গা।

1661193540110-01.jpeg

তারপর সেখানে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নিলাম, সমুদ্র সৈকতের ঠান্ডা বাতাস খেতে খেতে। আরামের বাতাস থেকে উঠতেই ইচ্ছা করতেছিল না সেখান থেকে। এরপর আমাদের পরবর্তী প্ল্যান হলো খৈয়াছড়া ঝর্ণা। গুলিয়াখলী থেকে খৈয়াছড়া যেতে আমাদের প্রায় এক দের ঘণ্টার মত সময় লাগে। আবার সেখান থেকে পাহাড়ী রাস্তা দিয়ে, ঝিরি পথ এর মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে ঝর্নার কাছে যেতে সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিটের মত। পাহাড়ি রাস্তা ও ঝিরি পথ দিয়ে হাঁটতে ভালোই লাগতেছিলো। যদিও সেখান দিয়ে যেতে অনেক সাবধানে পা ফেলতে হয়। কারণ ঝিরি পথের রাস্তা গুলো অনেক পিচ্ছিল হয়।

1661193596093-01.jpeg

অনেকক্ষণ হাঁটার পর আমরা পৌঁছাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই ঝর্ণায়। ঝর্নার ঠান্ডা পানিতে গোসল করার পর এত দূর হেঁটে আসার কষ্ট আর কষ্টই হলে হচ্ছিল না। মন প্রাণ ঠান্ডা হয়ে গেল ঝর্নার পানিতে। ঝর্নার পর্ব শেষ করে আমরা রওনা হই মহামায়া লেক এর উদ্দেশ্যে। ঐখান থেকে লেগুনা করে আমাদের যাইতে ৩০ মিনিটের মত সময় লাগে। বিকালের মহামায়া লেক টা সত্যিই অসাধারণ ছিল। একদিন শান্ত নিরিবিলি মনোরম পরিবেশ। সারাদিন দোড় ঝাঁপ করে শেষ বিকেলটা এমন নিরিবিলি জায়গা পেয়ে ভালোই লাগলো। লেকের ভিতর নৌকা নিয়ে ঘোরা ঘুরি শেষ করে রাতে আমরা আবার রওনা হই ঢাকার উদ্দেশ্যে। এইভাবেই সমাপ্তি ঘটে আমাদের একদিনের চট্টগ্রাম।

1661188253125-01.jpeg

চট্টগ্রাম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা | Ecency