জীবনের মানে খুজতে গিয়ে অনেক কিছুই আমাদের চোখের সামনে পরে। আসলে জীবন মানে কি? আমরা কিভাবে তার সংজ্ঞা জানতে পারবো। এতো প্রশ্নের পর একটাই উত্তর খুজে পাই । আর সেটা হলো জীবন মানে কি এর নির্দিষ্ট উত্তর জানতে হলে অনেক কিছু আমাদের বুজতে হবে। সময়ের এবং ব্যাক্তির ভিন্নতার সাথে সাথে এই সংজ্ঞাটির পরিবর্তন ঘটে। যেমন আপনি যখন একটি বাচ্চা কে এই প্রশ্ন করবেন জীবন কি? সে হা করে তাকিয়ে থাকবে এ কেমন প্রশ্ন করে। আবার এই একই প্রশ্ন যদি এস এস সি পরিক্ষার্থী কে করা হয় সে উত্তরে বলবে জীবন মানে পড়াশুনা করা, খেলাধুলা করা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া। কিন্তু এই একই প্রশ্ন আমরা যদি একজন সংসারি বাবা কে জিজ্ঞাসা করি সে হেসে দিয়ে উত্তর টা দিবে এমন, জীবন মানে হলো সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে সারা দিন কাজ করে রাতে বাড়ি ফেরা। আর মাস শেষে সেই টাকা দিয়ে পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফুটানো।
আসলে জীবন মানে কি? এর উত্তর টা এক এক মানুষের কাছে এক এক রকম হয়ে থাকে। যে যার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করেই তার উত্তর টা দিয়ে থাকে। বড় বড় ব্যাক্তিদের থেকে আরো ভিন্ন রকম সংজ্ঞা আমরা পেয়ে থাকি যেমন,
আইনস্টাইন বলেন-
" জীবন হলো বাইসাইকেলের মতো, তুমি যদি পরে যেতে না চাও, তাহলে চালিয়েই যেতে হবে"
সত্যি বলতে এদের মতবাদ গুলো ঠিকি বলে গেছেন। আমাদের জীবন কে আমরা যেভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই সেভাবেই চলবে। কেউ মনে করে যদি আমরা আমাদের প্রিয়জন কে পাই তাহলে আমাদের জীবন সার্থক। আবার কেউ বা মনে করে রাস্তার অসহায়, গরীব দুখিকে সাহায্য করে তাদের মুখে দুমুঠো খাবার দিতে পারলে তাদের জীবন সার্থক। আমরা যে যার যায়গা থেকে যা করছি সেটাই সার্থকতা ভেবে আসছি।
আমরা দেখি দুনিয়াতে প্রতিনিয়ত কত মানুষ মারা যাচ্ছে এবং আগেও কত শত মানুষ মারা গেছে। কিন্তু তাদের আমরা কয়জনেই বা চিনি জানি বা মনে রাখছি! হ্যা আমরা কিছু বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের ঠিকই মনে রাখছি। যেমন রবিন্দ্যনাথ ঠাকুর, হিটলার, কাজী নজরুল ইসলাম, আইনস্টাইন ইত্যাদি আরো অনেক আছে এমন যাদের নাম হাজার হাজার বছর যাবত মনে রেখে আসতেছি আমরা। এদের নাম তো মুছে যাচ্ছে না বরং আরো উজ্জ্বল ভাবে ফোটে উঠছে। কেনো এদের কে সবাই মনে রাখছেন? কারন এদের জীবনে মানুষের জন্যে কিছু না কিছু করে গেছেন। কেউ বা ভালো কাজ করেছে কেউ বা খারাপ কাজ করেছে। কিন্তু এই কাজের মাধ্যমেই তাদের কে আমরা মনে রেখেছি। এই মানুষগুলো সব সময় মানুষের জন্যে ভালো কিছু করে গেছে, এবং মানুষের কথা ভেবেছে তাদের জীবনটা শুধু মানুষকে ঘিরেই রয়েছে। তারা তাদের নিজের জন্যে কখনোই ভাবে নি। তারা চেয়েছে মানুষকে এবং দুনিয়া কে কিছু দিয়ে যেতে। আর তার জন্যেই আমরা তাদের যুগেযুগে মনে রেখেছি।
বর্তমান সমাজে আমাদের দেশেও দেখা যায় কিছু সংখ্যক লোক যারা মানুষের জন্যে অনাবরত কিছু না কিছু করেই আসছে। এর মধ্যে আমার দেখা একজন মানুষ যিনি সব সময় সমাজের গরীব-দুঃখীদের পাশে দাড়াচ্ছেন । মানুষ কে তার সাধ্য মতো সাহায্য সহযোগিতা করছেন। তিনি হলেন ফিরোজ রহমান ভাই। যে বাংলাদেশের একজন নাগরিক। তিনি সব সময় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছে। তার প্রত্যেকটি ভিডিও আমি দেখি এবং ভিডিওতে একটা বিষয় লক্ষ করি যাদের সে সাহায্য করছে তাদের মুখের হাসিটা এতো মধুর হয়, তা দেখে যে কারো মন নিমিষেই ভালো হয়ে যাবে। ফিরোজ রহমান ভাই সাহায্য করেন কিন্তু তার মুখ কখনই দেখান না। কারন তার উদ্দেশ্য হলো তাকে দেখে যেনে সবাই শিক্ষা নিতে পারে। মানুষের পাশে কিভাবে দাড়াতে হয়, অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে হয়। অসহায় গরীব-দুঃখীদের মুখে একটু হাসি কিভাবে ফুটাতে হয়। এখানে ফিরোজ ভাই তার জীবনে এমন কাজ করছেন যার ফলে সকলেই তাকে অজানতেই মনে রাখছেন। সে তার কাজের দিক থেকে সার্থকতা পেয়ে গেছেন। কারন সে তার জীবনে এমন কাজ করে আসছেন যা মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে। সে না থাকলেও তাকে মানুষ মনে রাখবেন। এটাই তার জীবনের সাফল্য। এটাই জীবন, আমরা এই কাজ গুলো কেই জীবন এর অর্থ বলতে পারি।
আমরা সব শেষে বলতে পারি জীবনের মানে বলতে নিজের জন্যে কিছু করা নয়। দুনিয়াতে আসলাম বড় হলাম কাজ করলাম সংসার করলাম, আর সময় ফুরিয়ে এলো দুনিয়া থেকে বিদায় নিলাম। এর নাম জীবন নয়। এমন কিছু রেখে যান দুনিয়াতে যেখানে আপনি থাকবেন না কিন্তু আপনার কাজের প্রতিদান ঠিকই থাকবে। মানুষের মনে আপনি সারাজীবন থেকে যাবেন। আমরা একেই জীবনের সার্থকতা বলতে পারি। এটাই হলো জীবনের মানে।