অনেক বছর আগের কথা সাউথ আফ্রিকা বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসে৷ সেই সময় সাউথ আফ্রিকার সাথে সহজেই বাংলাদেশ সিরিজ জিতে নিয়েছিলো। অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছিলো তখন বাংলাদেশ। সেটাই ছিলো সাউথ আফ্রিকার সাথে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।
সেই সময় টাতে সাউথ আফ্রিকার একজন ব্যাটসম্যানের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেটা হলো রাইলি রুশো। এগ্রেসিভ ব্যাটিং এর সাথে অসাধারণ সব শট বাংলাদেশের ভয়ের কারন হয়েই দাঁড়িয়ে ছিলো। তারপর বাংলাদেশের বিপিএলে নিয়মিত ক্রিকেট খেলে গেছেন। তখন থেকেই এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের দারুন ভক্ত হয়ে গেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই যখন এই ব্যাটসম্যান সাউথ আফ্রিকার দল থেকে অবসর নেয় তখন খুব খারাপ লেগেছিলো।
ক্রিকেট দুনিয়ায় সব মানুষেই তখন ভেবে ছিলো সেই রাইলি রুশো আর কখনো ফিরবেন না জাতীয় দলে। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেট কে তিনি বিদায় দিয়ে দিয়েছিলেন। সময় যাওয়ার সাথে সাথে তার বয়সের যে পরিবর্তন সেটাই সবাইকে ভাবাতে বাধ্য করেছিলো আর কোনো দিনেই হয়তো সাউথ আফ্রিকা জার্সিতে তাকে দেখা যাবে না।
অবসর নেওয়ার সময়েও তার পারফরম্যান্স ভালোই ছিলো। নিয়মিত পারফরম্যান্স করা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন ছিলেন। তার পর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন টি-টুয়ান্টি দলেও খেলতে থাকেন তিনি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তার নাম তেমন শোনাই যাচ্ছিলো না।প্রায় ছয় বছর ধরে দলের বাইরে তিনি। হঠাৎ করেই দলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। আর সাথে সাথে সাউথ আফ্রিকা দলের কোচ সামনের সিরিজের জন্য দলে ডাক দিয়ে দেয়। বর্তমান সেটা ইংল্যান্ডের সাথে টি-টুয়ান্টি সিরিজ।
প্রায় ছয় বছর পরে দলে ফিরছেন। সেটা অসম্ভব অকল্পনীয় ভাবা যায়। কিন্তু তারপরও তিনি ইংল্যান্ডের সাথে টি-টুয়ান্টি সিরিজ খেলার সুযোগ পান তিনি৷ আর সেই সুযোগ টা তিনি খুব ভালো ভাবেই কাজে লাগান তিনি। ইংল্যান্ডের সাথে প্রথম ম্যাচে মাত্র ৪ রান করে সাজ ঘরে ফিরলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুন ভাবে ঘুরে দাড়ান তিনি৷ ৯৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে বসেন তিনি তাও মাত্র ৫৫ বল খেলে। আর তার উপর ভর করেই সাউথ আফ্রিকা এই ম্যাচটি জিতে নেয়। সেই সাথে চলমান সিরিজে সমতাই ফেরান তিনি।
এত বছর পর দলে ফিরে এই পারফরম্যান্স করবেন সেটা অসম্ভব অকল্পনীয় প্রায় স্বপ্নের মতোই বলা যায়। এটাই ছিলো সাউথ আফ্রিকার হয়ে টি-টুয়ান্টিতে সর্বোচ্ছ রানের ইনিংস তার। তাও শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন, মাত্র ৪ রানের আক্ষেপ আর না হলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতেন তিনি।
তবে এত দিন পর দলে ফিরে দানবীয় পারফরম্যান্স করে দলকে জেতালেন সেটা ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম রেকর্ড হয়ে থাকবে৷ তবে রাইলি রুশোর মতো খেলোয়াড়ের অবসর মানায় না। অভিমানে দল থেকে অবসর নিলেও দলে আবার ফিরে আসাটা সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেটের জন্য সুন্দর সময়েই বলা যায়। আরো কয়েক বছর দেশের হয়ে সার্বিস দিতে পারবেন সেটা অনায়সেই বলা যায়।
সামনে আসসে টি-টুয়ান্টি বিশ্বকাপ সেই খানেও হয়তো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন তিনি। এবং তার ক্যারিয়ার আরো দীর্ঘ হোক সেই আশাই করি।