সেমিস্টার বিরতি দিলে যেনো বাড়ি ফেরার আনন্দে মেতে ওঠে সবার মন। পরীক্ষা শেষ করেই বাড়ি যেতে হবে এমন একটা মনোভাব। অনেক দিন বাড়িতে যেতে না পারা আমার আকুল আকাঙ্ক্ষী মনকে যেনো আর মানাতেই পারছি না। পরীক্ষার আগের দিন বাড়ি ফেরার আনন্দে পড়াতে আর মন দিতে পারি না। কখন পরীক্ষা শেষ হবে তার জন্য অপেক্ষা। পরীক্ষার আগের রাতেই বাড়ি ফেরার সব প্রস্তুতি নেওয়া শেষ। পরীক্ষা যেমন নয় তেমন হক, আগে মনকে শান্ত করতে হবে, বাড়ি যেতে হবে।
প্রতিবারের থেকে এইবারের সেমিস্টার বিরতি একটু বেশি আনন্দের। সেমিস্টার বিরতির সাথে রয়েছে ঈদের আনন্দ, সব একসাথে। এবারের সেমিস্টার বিরতিটা একটু দীর্ঘায়িত হবে ঈদের ছুটির কারণে। ঈদটা খুব ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে কোনো চিন্তা ছাড়া।ঈদের পর পরই বিশ্ববিদ্যালয় ফেরার কোনো তাড়না থাকবে না। কারণ এবার সেমিস্টার বিরতি টা প্রায় এক মাসের মত।
ঈদের আগে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনেক বেগ পেটে হয় ঈদে ঘরমুখী মানুষদের, ছোট খাটো একটা যুদ্ধ করতে হয় বলা চলে। তার মধ্যে আপনি যদি ট্রেনে করে যেতে চান তাহলে তো ঈদের আগে ট্রেন এর টিকিট পাওয়া মনে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। আমি যদিও ঈদের অনেক আগে বাড়ি যাচ্ছি তাই অতটাও বেগ পেতে হয় নি। তারপরও ট্রেনের টিকেট ২-৩ দিন আগেই শেষ হয়ে যায়। তাই ৩ দিন আগেই ট্রেনের টিকেট এর ব্যাবস্থা করে ফেলি। আমার সাথে আমার বড় ভাই ও যাবে বাড়িতে। তাই টিকেট নিয়ে আমার কোনো মাথা ঘামাতে হয়নি। বড় ভাই (রাশেদ ভাই) সব ব্যাবস্থা করেন।
পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে রওনা হই এয়ারপর্ট রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে। ট্রেন এর সময় ছিলো বিকেল ৫ টায়। তাই আমি হতে কিছু সময় নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। ঢাকা শহরের যানজটের কথা তো আর বলা যায় না। তেমন একটা যানজট মোকাবেলা করতে হয়নি। প্রায় ১ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে উপস্থিত হয়ে যাই। এখন শুধু ট্রেন আসার অপেক্ষা। আমি যাওয়ার ২০ মিনিট পর রাশেদ ভাই এসে উপস্থিত। দুজন মিলে গল্পঃ করতে করতে আমাদের গন্তব্যে ফেরার কাঙ্ক্ষিত সেই ট্রেন (সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস) উপস্থিত।
এবার ট্রেনে ওঠার পালা। কেনো জানি ছোটবেলা থেকেই আমার ট্রেনে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়। কারণ ট্রেন স্টেশনে খুব অল্প সময়ের জন্য দাড়ায়। আর ট্রেনে ওঠার জন্য অনেক যাত্রী অপেক্ষা করে।আমার মনে হয় আমি ট্রেনে উঠতে পারবো না, ভয় লাগে একটু আরকি। যাক চিন্তার কোনো কারণ নেই খুব কষ্টে উঠতে পেরেছি।
জানলার পাশের সিটে বসে জানালা দিয়ে গায়ে হাওয়া মেখে প্রাকৃতিকর মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে গন্তব্যে পৌঁছনোর মধ্যে যে রোমান্টিসিজম লুকিয়ে রয়েছে, সেটা একমাত্র ট্রেন যাত্রীরাই বোঝেন। জানালার পাশের এই সিট টা কার না প্রিয়। তাই আমরা চুক্তি করে নেই অর্ধেক সময় আমি বসবো আর অর্ধেক সময় ভাই বসবে। সিটে বসার ২-১ মিনিটের মধ্যেই ট্রেন আমাদের গন্তব্যের দিতে যাত্রা শুরু করে। আলহামদুলি্লাহ আমি এখন বাড়িতে।