পরিবারের সকলের মুখ উজ্জ্বল করে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করে যখন একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেন তখন সেই আনন্দ বলে প্রকাশ করার মতো নয়। তবে সেই সন্তান যদি হয় প্রতিবন্ধী তাহলে তাদের পরিবারে বা মা বাবার উপর নেমে আসে হতাশা। বাবা মার হতাশা হওয়াটাও স্বাভাবিক কারন একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করলো সে এমন প্রতিবন্ধী হওয়ায়, তাদের চিন্তা চেতনা কাজ করবে মানুষ কি বলবে। সমাজে কিভাবে বেড়ে উঠবে তাদের সন্তান । কি করে খাবে এইসব চিন্তা মা বাবার মাথায় চলে আসাটাও স্বাভাবিক। প্রতিবন্ধী বলতে যাকে বুঝানো হয়, একজন ব্যাক্তি অসুস্থতায়, চিকিৎসা বা দুর্ঘটনায় অথবা জন্মগতভাবে কোন ব্যাক্তির যদি শারীরিক বা মানষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এর জন্যে কর্মক্ষমতা আংশিক বা সম্পুর্ন ভাবে হারিয়ে ফেলে তাহলে আমরা সেই ব্যাক্তি কে প্রতিবন্ধী বলে থাকি।
একজন প্রতিবন্ধী সে কি মানুষ নয়! সেও তো আমাদের মতোই একজন মানুষ। তারও জীবন আছে, জীবনের তাগিদ আছে। তার ইচ্ছে আশা সব কিছুই তার মধ্যে বিদ্যমান আছে।তাহলে আমাদের থেকে কি তারা আলাদা? না তারাও আমাদের মতোই একজন মানুষ, আমাদের সন্তান, আমাদের ভাইবোন, পরিবারের সদস্য, একটা দেশের নাগরিক। হ্যাঁ তাদের কিছু জিনিস আলাদা হয়েছে সেটা তো নিজ ইচ্ছেতে হয় নি। হইতো জন্মগতভাবে কর্ম ক্ষমতা হারিয়েছেন বা মানষিক ভাবে র্দুবল হয়েছে কিন্তু তা সম্পুর্ন প্রাকৃতিক ভাবেই হয়েছে। তাই বলে কি আমরা তাদের কে অবহেলা করবো? তাদের নিয়ে হাসিঠাট্টা বা সমালোচনা করবো? না এটা কেনো করবো। যারা এইসব করে তারা নিজেদের অমানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। আমাদের কর্তব্য হলো তাদের কে আমরা সকল দিক থেকে সুযোগ সুবিধা দিবো যাতে তাদের কাছে থাকা প্রতিভা প্রভাবিত করতে পারেন। তাদের কে আমরা সবার মতো স্বাভাবিক ভাবেই নিবো। তারা তো আমাদেরই ভাই বোন বা পরিবারের সদস্য। তাদের সাথে এমন ভাবে আচরণ করবো যাতে তারা নিজেকে নিয়ে কষ্ট নিতে না পারেন সে প্রতিবন্ধী এটা ভেবে।
এইতো আমার চোখের সামনেই একটি প্রমান, প্রতিবন্ধী হয়েও কিছু করতে পারেন। সবাইকে দেখিয়ে দিতে পেরেছে তারা প্রতিবন্ধী হলেও তারা সবার মতো সাফল্য অর্জন করতে পারে। হ্যাঁ তাই, আমার গ্রামের এক বড় ভাই আমার থেকে কয়েক বছরের বড় হবে। তিনি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকে সে ছোট বেড়ে উঠতে পারে নি। কিন্তু সে প্রতিবন্ধী হয়েও পড়াশোনা করেছেন কখনও পিছুপা হননি। স্কুলে যখন যেতেন রাস্তায় মানুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। নতুন বন্ধুবান্ধব যারা তার সাথে প্রথম পরিচিত হতো তার সামনে না হলেও পিছনে তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতো। তবে এইসব কিছুতে কান না দিয়ে তার মতো করে করে সে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পরিবারের সকলেই তাকে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আজকে সে একজন সরকারি কর্মকর্তা। সেই ভাই এখন ইনকাম ট্যাক্সে চাকরি করেন। সে আজ সাফল্য অর্জন করে দেখিয়ে দিয়েছে সমাজ কে তার মা বাবা কে স্কুল কলেজের হাসিঠাট্টা করা বন্ধুদের কে।
এটাই আমার চোখের সামনে দেখা বাস্তব প্রমান। তারাও পারবে যদি তাদের সেই রকম সুযোগ করে দেয়া হয়। আজ আমার গ্রামের এই ভাইটা তার সাফল্য যেভাবে দেখিয়েছেন। চাইলেই আমরা সবাই পারি যার যার গ্রামে বা আশেপাশের এলাকার এমন প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়ে যারা আছেন, তাদের কে কিছু একটা করার সুযোগ করে দেয়া। হইতো তারা শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু তাদেরও কিছু না কিছু করার প্রতিভা রয়েছে। আর আমরা সমাজের মানুষ বা পরিবারের মানুষ তার সেই প্রতিভাকে জাগ্রত বা প্রকাশ করানোর ব্যবস্থা করে দেই। তাহলেই আমাদের দেশে বা সমাজে তাদের নিয়ে থাকবে না কোন হাসিঠাট্টা, মা বাবা পরিবারের কারো হতাশা। তাদের নিয়ে কেনো আমাদের মাঝে ভিন্ন দৃষ্টি থাকবে! তারা কি আমাদের মতো মানুষ নয়? তারাও তো মানু্ষ। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তাহলে প্রতিবন্ধীও তো মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এইসব কিছু মাথায় রেখে তাদের পাশে আমরা সবাই থাকি তাদের সম্মান দেই তাহলে তারা নিজেকে ছোট মনে করবে না। সমাজ কে দেশকে কিছু করে দেখাতে পারবেন।