এই তো আর অল্প কয়েক দিন বাকি আছে এশিয়া কাপ টি-টুয়ান্টি টুর্নামেন্টের। এশিয়া কাপের জন্য সব গুলো দলেই সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের দল গুছানো শুরু করে দিয়েছে৷ এর মাঝে গত শনিবারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দল ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ টি-টুয়ান্টি ক্রিকেট দলের অবস্থা খুবেই বাজে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের টি-টুয়ান্টি দলের অবস্থা যেন আরো ভয়াবহ। গত টি-টুয়ান্টি বিশ্বকাপের কথাই বলা যাক। বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পেতেই ঘাম জড়াতে হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।
তারপরেও মূলপর্বে কোনো ভাবে সুযোগ পেলেও খুব বাজে ভাবেই বাদ পরে গ্রুপ পর্ব থেকে৷ গ্রুফ পর্বের সব গুলো ম্যাচেই হেরে ছিলো বাংলাদেশ। ছোট ছোট দলের বিপক্ষেও বাজে ভাবে হেরেছিল। সব চেয়ে বড় সমস্যা ছিলো বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন লাইপ। তবে শুধু ব্যাটিং নয় বোলিং ফিল্ডিং ছিলো না দেখার মতো ভালো পারফরম্যান্স।
তবে সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টুয়ান্টি সিরিজেও
বাজে ভাবে সিরিজ হার৷ সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণা করাই কঠিন হয়ে পরেছিলো। দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়দের অফ ফর্ম তাছাড়া লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহানের ইনজুরি নির্বাচকদের ভালোই চিন্তাই ফেলে দিয়েছিলো।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো দলের অধিনায়ক নিয়ে। এত দিন টি-টুয়ান্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকলেও জিম্বাবুয়ে সিরিজে নুরুল হাসান সোহান কে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই অনেক টা নিশ্চিত ছিলো একে বারেই অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর সেই অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে সাকিব অল হাসানের নাম ওঠার পর থেকেই যেন দল ঘোষণা নির্বাচক দের সহজ হয়ে পরে। সাকিব অধিনায়কত্ব নেওয়াতে রাজি হওয়াতেই তার সাথে অনেক টা আলোচনা করেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দল ঘোষনা করে।
সাকিব কে অধিনায়কত্ব ঘোষণা করে ১৭ সদস্যের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সাকিবের পরামর্শেই ২০১৯ সালের পর সাব্বির রহমান দলে জায়গা পান। কারন বাংলাদেশ দলে ভালো কোনো হার্ড হিটার নেই। যা টি-টুয়ান্টি দলের জন্য খুবেই কার্যকরী। তাই সাব্বির রহমান তেমন কোনো ভালো পারফরম্যান্স না করলেও সাকিবের কল্যানে দলে সুযোগ পেয়ে যান তিনি।
তবে ২০১৯ সালের পর দল থেকে বাদ পরার পর থেকেই দলে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন তিনি। তারপরেও তিনি তেমন সাফল্য পাচ্ছিলেন না। কিন্তু তারপরও তিনি হেরে যান নি৷ কঠোর পরিশ্রম করেছেন রেগুলার৷ যার ফলে ঘরোয়া লিগে মোটামুটি পারফরম্যান্স করেন। আর অন্য দিকেও দলেও হার্ড হিটারের অভাব। আর সেই অভাব পুরন জরতেই সাকিবের পরামর্শে সাব্বির রহমান কে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক প্যানেল৷
তাছাড়া দলে আছেন এনামুল হক বিজয় ফিরেছেন দলে তবে তিনি জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই ফিরিছেন। যদিও টি-টুয়ান্টি তে ভালে পারফরম্যান্স করতে না পারলেও ওয়ানডেতে ভালো পারফরম্যান্স করাই তিনি সুযোগ পেয়ে যান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্রিকেটার রাও দলে রয়েছেন।
তাছাড়া ইনজুরিতে থাকা নুরুল হাসান সোহানও দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে নুরুল হাসান সোহান যদি ইনজুরি থেকে মুক্ত হয়ে যায় তাহলে ১৫ সদস্যর দলেও হয়তো জায়গা পেয়ে যাবেন। তবে পারভেজ হোসেন ইমনের আন্তর্জাতিক টি-টুয়ান্টি ক্যারিয়ারে তেমন অভিজ্ঞতা নেই তারপরেও দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে তরুণ ক্রিকেটারের উপরেও ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা।
সবশেষে বলতে গেলে সাকিব অল হাসানকে অধিনায়ক করে সাব্বির রহমান কে দলে অন্তর্ভুক্ত করা বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে অনেকটায় ভারসাম্য করেছে। তবে এই দলটা কতটুকু সাফল্য পায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।