বর্তমান সময়ে সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক একটি অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। ফেইসবুকে আমরা ইয়াং জেনারেশন বাদেও ছোট থেকে বড় কম বেশি অনেকেই আমরা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত।
এই মাধ্যমটিতে আমরা যুক্ত থেকে আমরা সারাবিশ্বের খবরাখবর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি, অনেক কিছু দেখতে পারি আবার অনেক কিছু শিখতেও পারি।সব থেকে বড় কথা এই মাধ্যমটিতে কোনো বিষয় নিয়ে পরিচিতি লাভ করেছে এমন বিষয় এবং এমন ব্যাক্তি অনেক।তেমনি আমরা কিছুদিন পর পরই দেখতে পাই দেশবিদেশের নিত্যনতুন খবর বা ঘটনা।সেগুলা কখনো হয় আনন্দদায়ক, কখনো দুঃখজনক,কখনো শিক্ষণীয় বিষয়।
এইতো দিনকয়েক আগে আমার যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নিউজ দেখতে পাই যার শিরোনাম টি ছিল এমন "বাপের বাড়ি থেকে ছাগল দিতে না পারায় পুত্রবধূর আত্মহত্যা"।এমন শিরোনাম দেখেই আমি নিউজ টা দেখলাম আর দেখার পর চিন্তা করলাম এখনও এমনটা হয়?আর নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম আদৌ কি আমরা সভ্য সমাজের মানুষ? সামান্য একটা ছাগলের বিনিময়ে আমাদের প্রাণ দিতে হয়? আমরা আদৌ কি মানুষ?
আমাদের সমাজে এখনও এই যৌতুক নামক প্রথাটি এখনও রয়েই গেছে।বিয়ের সময় হয় ছেলেকে টাকা দাও,নাহয় মেয়ের ঘর সাজিয়ে দাও, রোজার সময় রোজার বাজার- ইফতারি,ঈদের সময় জামাই সহ্ সপরিবারে কাপড়,ঈদের জন্য হরেকরকম বাজারসদাই,কোরবানি ঈদে গরু বা ছাগল কিনে উপহার পাঠানো।এগুলো দেখলে কেনো জানি মনে হয় দেশের সরকার বাধ্যতামূলক নিয়ম করেছে।দিতেই হবে না দিলে শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছে।আর এর সাথে আছে পুত্রবধূর বাপের বাড়ি থেকে এগুলো না পাঠালে অহেতুক গালিগালাজ থেকে শুরু করে অস্বাভাবিক নির্যাতন। হর-হামেশাই পত্রিকা, টেলিভশনে,ফেইসবুকে দেখতে পাওয়া যায় যৌতুকের কারণে কতো মেয়েরা জীবন হারাচ্ছে কেউ বা আগুনে পোড়া,কেউ বা এসিডে দগ্ধ হয়েছে।
প্রশ্ন হলো কেন পুত্রবধূকে নির্যাতনের শিকার হতে হবে? পুত্রবধূ কি আমার আপনার ঘরের কেউ না?তারা কি ঘরের বোঝা?নাকি তাদের কাজই বিয়ে হলে বাবার বাড়ী থেকে শশুরবাড়ি জিনিসপত্র ধাপে ধাপে নিয়ে আসা?একজন পুত্রবধূর প্রতি কি শ্বশুরবাড়ির কোনো দায়িত্বই নেই?আসলে আমরা এগুলো কেউ ভাবি না।শুধু নিজের টাকা পয়সা বাঁচিয়ে অন্যের জিনিসপত্র র টাকার প্রতি লোভ আমাদেরকে শেষ করে দেয়।
উপহার পেতে আমাদের কমবেশি সবারই ভালো লাগে।খুশি হয়ে উপহার আদানপ্রদান করা সেইটা শুধু এক পরিবার না দুইপরিবার এর মধ্যে হতে পারে। কিন্তু নিজের লোভ সামলাতে না পেরে পুত্রবধূর ওপর চাপ প্রয়োগ করে জিনিসপত্র ধাপে ধাপে নেয়া বা বিয়ের সময় যৌতুক নেয়া কখনই একটা ভালো পরিবারের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে না।তার সাথে যৌতুক দেয়াও ভালো পরিবারের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে না।আমরা বিয়ের সময় তারাহুরো করি আর বিয়ের সময় ওপর পক্ষের সব দাবি মেনে নেই এবং তা পূরণও করি।এজন্য লোভী মানুষেরা পেয়ে যায় সাহস।ঘর ভাঙার ভয়ে তাদের সব আবদার মেটানোর চেষ্টা করি।যখন চেষ্টার বাইরে চলে যায় আমাদের মেয়েদের জীবন দিয়ে দিতে হয়।
এমন পরিস্থতির জন্য আমরা নিজেরাই নিজেদের জন্য দায়ী।বিয়ের সময় প্রত্যেক মাবাবার মাথায় রাখা উচিত যৌতুক নিয়ে ছেলেকে বিয়ে করাবো না যৌতুক দিয়ে মেয়েকেও বিয়ে দিবো না।যৌতুক একটা সামাজিক ব্যাধি।যদিও আমাদের দেশে এর আইন আছে।কিন্তু আইনের আড়ালে আমরা কমবেশি সবাই এই ব্যাধিতে আক্রান্ত।আমরা যার যার জায়গা থেকে যৌতুক বিরোধী হয়ে আমার আপনার বোনের জীবন আমরাই রক্ষা করতে পারি। যৌতুকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রত্যেকের সোচ্চার হতে হবে। প্রত্যেকেই আমরা আমাদের নিজেদের জায়গা থেকে যৌতুককে না বলি।যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয়া ও নেয়া দেখলেই আমাদের আইনের সাহায্য নিতে হবে।তাহলেই আমরা আস্তে আস্তে এই ব্যাধি থেকে মুক্ত হতে পারবো।
লিখতে লিখতে ছোটোবেলার মিনা কার্টুনের একটা স্লোগানের কথা মনে পড়ে গেলো।
যৌতুক বন্ধ করো,যৌতুক বন্ধ করো
যৌতুক মোরা লোমু না,যৌতুক মোরা দিমু না।
যৌতুক বন্ধ করো,যৌতুক বন্ধ করো।