সৈকত আর বেলা ভালোবেসে বিয়ে করেছে, দুই বছরের একটা ফুটফুটে ছেলেও আছে তাদের। সৈকত কাজ করে জাতিসংঘের একটা প্রজেক্টে। উচ্চ শিক্ষিত রুচিশীল, স্মার্ট এক দেখায় যে কেউ তাকপ পছন্দ করবে। বেলার ও এক দেখায় ভালো লেগেছিলো সৈকতে। তাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো ঢামেকে, সৈকত তখন বুয়েটে পড়ে, ফাইনাল ইয়ার। শুধু ভাইভা বাকি, হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তাকে ঢামেকে ভর্তি হতে হলো, বেলা তখন ইন্টার্নি চিকিৎসক। প্রথম দেখায় প্রেম, প্রেম থেকেই পরিণয়।
এদানিং বেশ বদলে গেছে সৈকত কথায় কথায় মেজাজ দেখায়, বকাঝকা করে বেলাকে। অথচ কতো স্বপ্ন নিয়ে তারা বিয়ে করে। সখের ডাক্তারিটাও ছেড়ে দিতে হলো সৈকতের অনুরোধে। বেলা ভাবে ছেলেরা মনে হয় এমনই, বিয়ের আগে এক রকম বিয়ের পরে পিথাগোরাসের উপপাদ্যের মতো দূর বেধ্য!
অথব এই সৈকতেই নারী অধিকার নিয়ে সভা সেমিনার করে বেড়ায়, জাতিসংঘ হেড কোয়াটারে রিপোর্ট জমা দে। বছর শেষে কপালে জুটে পুরস্কারও!
রাশেদ ও নাবিলা দু'জনেই দেশের নাম করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। রাশেদ নাবিলার ডিপার্টমেন্টে র শিক্ষক ছিলো, নাবিলাকপ পছন্দ করে বিয়ে, নাবিলা ছাত্রী হিসেবে যেমন ভালো ছিলো দেখতেও সুন্দরী এক কথায় "বিউটি উইথ ব্রেইন "! বিয়ের পর নাবিলা বুঝতে পারে শিক্ষক রাশেদ আর স্বামী রাশেদ পুরাই আলাদা। কথায় কথায় নাবিলাকে ছোট করে। রাশেদ ভুলে যায়, নাবিলা ও ওর মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েট শিক্ষক!
রমা, পারুল উকিল দম্পতি। বেশ গোছানো সংসার তাদের। আত্মীয় স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশি, কলিগ সবার কাছে ওদের সুনাম। কিন্তু বেশ কয়েকমাস যাবত রমা খারাপ আচরণ করছে পারুলের সাথে কারণ বিয়ে করছে চার বছর হলো এখনো সে বাবা ডাক শুনতে পায়নি বলে। মাঝেমধ্যে গায়েও হাত তুলে। অথচ গত সপ্তাহে রমা নারী নির্যাতন এর বিপক্ষে লড়ছে!
কপিল, ও রাতুল দুই বন্ধু, দু'জনে ভালো আয়কর আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জন করছে। এথিকস এর ভালো চর্চা করে। কিন্তু দু'জনেই প্রতিষ্ঠানের টাকা বাঁচানোর জন্য সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দে, আইনের চোরা গলি দিয়ে।
তরুন প্রজন্ম সোশাল মিডিয়ায় ভালোই ঝড় তুলে, টিকটক, ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ওনারা দেশ উদ্ধার করে ছাড়ে। কিন্তু নিজেরা কতটুকু উদ্ধার পাচ্ছে মাদক থেকে?
মেয়ের জামাই যখন নিজের বাড়িতে দায়িত্ব পালন করে তখন শ্বশুর, শাশুড়ী বেজায় খুশি একই কাজ যখন নিজের ছেলে করে তখন আমাদের বাবামায়ের মুখ অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে যায়।
Source Pixabay