আকাশে মেঘ জমেছে, মেঘগুলো কেমন ডাঙর হয়ে যাচ্ছে। সাদা মেঘগুলো দেখতে দেখতে কেমন যেনো থুল থুলে গর্ভবতী হয়ে গেলো, যে কোন মুহুর্তে বৃষ্টি এসে কলিং বেল বাজাবে সদর দরজায়! কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর জন্য এর চেয়ে ভালো পরিবেশ আর হয়না, একেবারে আয়োজন করে ঘুমানোর পরিবেশ।
এইরকম সম্মোহনী সকাল তারউপর ছুটির সকাল পেয়েও রাহেলা বেগমের ঘুম আসেনা। ঘুম আসেনা বললে ভুল হবে, ডাক্তার ছেলের কড়া শাসনের ফলে রুটিন ফলো করতে হয়। নিয়ম মেনে চলতে হয়। রাহেলা বেগম গেলো দুই বছর ধরে ডায়াবেটিকে ভুগছেন। তাই তাকে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা নিয়ম করে হাঁটতে হয়। একবার ইনসুলিন নেওয়া শুরু করলে বন্ধ করা কষ্টকর। তাই ডাক্তার ছেলে কড়াকড়ি করে রুটিন ফলো করায়।
রাহেলা বেগমের দুই ছেলে বড়ো ছেলের নাম সাফায়েত, ডাক্তার, বাপ সানেয়ার আলমের মতো রাগী ও খেপাটে, ছোট ছেলে রাফি, বিবিএ পড়ছে আইবিএ তে, বড় ছেলের পুরা বিপরীত নম্র, ভদ্র, আর অমায়িক। বিবিএ পড়া শেষে বাপের প্রতিষ্ঠানে জয়েন করবে।
বড়ো ছেলেকে বেশ ভয় পায় রাহেলা বেগম, কোন কথা মুখে আটকেনা। অথচ ছোট ছেলে বিনয়ের অবতার, আহা বড় ছেলে কেন যে ছোটটার মতো হলোনা! এইসব ভাবতে ভাবতে রাহেলা বেগম সবার জন্য নাস্তা রেডি করে। নাস্তার টেবিলে আজ সাফায়েতের বিয়ের কথা তুলতে হবে,কায়দা করে বড় ছেলের মন থেকে ঐ রুমা মেয়েকে তাড়াতে হবেই। আর রাফির জন্য তো নিজের ছোট বোনের মেয়ে আছেই। ওদের বাপ যখন চাচ্ছে এক সাথে দুই ছেলেট বিয়ে দিয়ে দিবে মহা ধুমধামে।
ছুটির দিন সকাল দশটার আগে কেউই নাস্তার টেবিলে আসেনা। রাহেলা বেগম নাস্তা রেডি করে সবাইকে ডাকে। সবাই যারযার মতো করে নাস্তা খাচ্ছে, ছুটির দিন বলে তেমন তাড়া নেই কারো। কেবল রাফি ছাড়া, তার আজ নাবিলার সাথে দেখা করার কথা।
রাহেলা বেগম সুযোগ খুঁজছে কখন বিয়ের কথা তোলা যায়, টিভিতে ঈদের নাটকের বিজ্ঞাপনে বিয়ের কথা বলাতে সে সুবাদে ঝোপ বুঝে কোপ মারে রাহেলা বেগম।
চারদিকে সবাই বিয়ে করে ফেলতেছে এই লকডাউনের ভিতর ও আমাদের ঘরেতো দুই ছেলে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে আছে, কই তোমার তো কোন মতিগতিও দেখছিনা, সানোয়ার আলমকে ইঙ্গিত করে রাহেলা বেগম বলে।
শুনো মা আমার তো পছন্দ আছে তুমি তো তা জানো, শুধু শুধু কথা বাড়াও কেনো মায়ের কথা ধরে সাফায়েত উত্তর দে। রুমাকে আমার পছন্দ নয়, রাহেলা বেগম বলে উঠে।
কেনো পছন্দ নয়, রুমাকি দেখতে কুৎসিত, অশিক্ষিত? না তা নয়। তাহলে? বাবা রাগ করিস কেনো? রুমার বাপের কিছু আছে? সামান্য একটা চাকরি করে, কয়টাকা পায়? শুনো মা, আমার নানাও সামান্য চাকরি করতো, এবং ওনারও বলার মতে কিছু ছিলোনা। এখন হয়তো ওনাদের অনেক কিছুই আছে, কিন্তু তুমি ভুলে যেওনা এইসব বাবার অবদান।
শুনছো তোমার পোলার কথা? সানোয়ার আলম বলে শুনো ছেলেপেলে বড় হইছে ওদেরও পছন্দ থাকতে পারে। আমিওতে তোমাকে পছন্দ করে বিয়ে করছি।
তোমরা বাপছেলে সবাই জোট বাঁধছো, তেমার ছেলে আমাকে এতোগু কথা শুনিয়ে দিলো তাকে কিছু বললা না। উলটা সাফাই দিতেছো।
শুনো মা তুমি একটু বেশি রিয়্যাক্ট করো তা ঠিক না পাশ থেকে বলে উঠে রাফি, রাফি তুই ও রাহেলা বেগমের বিস্ময় যেনো কাটেনা। মা তুমি যেটা চাচ্ছো সেটা হলো পুঁজিবাদী মানসিকতা ছাড়া কিছুই নয়, রাফি যোগ করে। রাহেলা বেগমের ফুঁফিয়ে কান্না করা ছাড়া কিছুই করার ছিলোনা।
Source Pixabay