বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তমাল বিকেল বেলার চা আর সিগারেট টা খওয়া সারে, বাসার ভিতর সিগারেট খাওয়াতে কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে। ভুল করে যদি কোনদিন খেয়েও পেলে তাহলে আর রক্ষা নেই, শাস্তি স্বরুপ তাকে বাসার সব কাজ করতে হবে এবং তাকে অর্থ দন্ড ও ভোগ করতে হয়। অর্থ দন্ড হলো ফ্যামিলির সবাই, মানে তমাল, বীথি, আর তাদের দুই বছরের ছেলে ফারশীদ কে নিয়ে কোন ভালো রেস্তোরাঁ য় ডিনার করাতে হবে। তমাল দুই তিনবার ধটলটা খাওয়ার পর এখন অনেক সচেতন। তাই ছুটির দিন গুলাতে সে চা নিয়ে বারান্দায় চলে যায়। চা, সিগারেট, আকাশ, প্রকৃতি, মেঘ বৃষ্টি সবই সে উপভোগ করে। বাড়তি পাওনা হলো প্রতিবেশী পরিবার গুলোর রংবেরঙের জামা কাপড়, আড়ালে আবডালে, চোখাচোখি, দৃষ্টি বিনিময়!
আজকাল তমাল প্রায় চা আর সিগারেট গাওয়ার অযুহাতে বারান্দায় যায়। বীথি কিছু একটা অনুমান করতে পারছে। তমালকে জিজ্ঞেস করতেই তমাল বলে অফিসে জামেলা চলতেছে তাই। বীথিও মেনে নিয়েছে তাই আর কথা বাড়ায় নি। প্রাইভেট কোম্পানিতে কতো রকমের কাজ, সেলারী যেমন দে তেমনি আবার খাটিয়ে ও মারে।
তমাল আর বীথি সহপাঠী ছিলো, রিলেশনের বিয়ে। দুই পরিবার প্রথম না মেনে নিলেও পরে মেনে নে। তমাল ভালোই বেতন পায়, ঢাকায় নিজেদের ফ্ল্যাট তাই বীথি চাকরি করেনা। তারউপর বিয়ের পরপরই তারা সন্তান নিয়ে নে।
তমাল চার-পাঁচ দিন ধরে কেমন পরিপাটি হয়ে চলছে, তারপর গনগন বারান্দায় যাচ্ছে বীথির সন্দেহ বাড়তে থাকে, অফিসের সমস্যা হলে তো দুই একদিনের ভিতর সল্ভ হয়ে। তাহলে কী এমন হলো এক সপ্তাহ ধরে তমালের এমন পরিবর্তন। বীথির কপালে চিন্তার বাজ পড়ে।
বীথি চুপচাপ তমালকে ফলো করতে থাকে, একদিন বীথি দেখে পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দায় একটা সুন্দর মেয়ে, লিকলিকে গড়ন, লম্বাটে নাক, এককথায় নান্দনিক, জামা কাপড় রোদে দিচ্ছে। লাল, নীল, হলদে জামা কাপড়ের ছড়াছড়ি।
বীথির বুঝতে বাকি নাই তার বর কেনো বারবার বারান্দায় আসে। এর একটু পরে তমাল বারান্দায় যায়। বারান্দায় গিয়ে দেখে রঙ বেরঙের অন্ত বাস ঝুলে আছে চারদিকে। মনে মনে বলে মেয়েটির রুচি আছে!
যদিও মেয়েটির সাথে তমালের কোনদিন দেখা হয়নি বারান্দায় তবু ও মনে মনে তৃপ্তি পায় রঙিন জামাকাপড় দেখে।
কয়েকদিন পর বীথি পাশের বাসার মেয়েটিকে দাওয়াত দে তাদের বাসায় আসার জন্য। মেয়েটি শনিবারে আসে, কারন শনিবার ওর অফিস বন্ধ থাকে তাই। তমাল ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখতে ছিলো, মেহজাবীনকে দেখে চমকিয়ে যায়, তমাল। আরে মেহজাবীন তুমি? বীথি বলে তুমি ওনাকে চিনো কী করে? চিনবো না মানে ও তো আমাদের অফিসে নতুন জয়েন করছে। তুমি চিনো কী করে তমাল বীথিকে জিজ্ঞেস করে। ওনি তে আমাদের পাশের বাসায় থাকে।
তমাল একটু হকচকিয়ে যায়। তারমানে মেহজাবীনের রঙিন কাপড়... আর বীথি সব জানতে পেরে গেছে! তো কী নাস্তা দিবো, আজকাল যেভাবে তোমার রুচি পরিবর্তন হচ্ছে! বীথি বলে। তাহলে হালকা নাস্তা দাও মেহজাবীন খেয়ে যাক। তবে নাস্তায় রুচি চানাচুর টা দিবে কিন্তু, পরিবেশ হালকা করা জন্য তমাল উত্তর দে।
Source Pixabay